গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর মো. নাঈম (২৭) নামের এক তরুণ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ ৪ঠা মে, বৃহস্পতিবার সকালে বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের শেখেরঘাট এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসার পেছন থেকে তাঁর নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি কাঁচামাল ব্যবসার পাশাপাশি বাড়ির পাশে একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছের প্রকল্প পরিচালনা করতেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে হাতে টর্চলাইট নিয়ে মাছের প্রজেক্ট দেখতে বাড়ি থেকে বের হন নাঈম। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।
নিখোঁজের পর তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বারবার কল কেটে দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছিল পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন বরকুল গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পেছনে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করলে পরিবারের সদস্যরা তা নাঈমের বলে শনাক্ত করেন। অপরাধীরা তাঁকে হত্যার পর হাত-পা বেঁধে ঝোপের আড়ালে ফেলে রেখে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বলেন, “স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”
এক তরুণ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর এমন নৃশংস মৃত্যুতে বড়নল গ্রামসহ পুরো শ্রীপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কেন এবং কারা এই তরুণ ব্যবসায়ীকে এভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।