নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক হোসেন (২৭) নামের ওই যুবককে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি অনুসারে, ফারুক হোসেন হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি ৬ জুন নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের বড় মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুক সকালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৩-৪ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে তার তলপেট ও হাঁটু ক্ষতবিক্ষত হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হামলা
এই হামলাকে বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। গত ৬ জুন নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের ডাকা বড় মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মিছিলের পর পুলিশের ধরপাকড় এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নির্মূল করতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মীরা এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ এক যুবককে আটক করে, যাকে স্থানীয়রা জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত বলে দাবি করেন। এসব ঘটনাকে একসূত্রে গেঁথে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকাতে বিএনপি-জামাত শিবির সশস্ত্র হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
বিস্তারিত সংবাদঃ
নোয়াখালীতে চেকেপোস্টে তিনটি বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ জামায়াত কর্মী আটক
আহত ফারুকের পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।