কার্ডিফের সেই রূপকথার পর পেরিয়ে গেছে ২১টি বছর। অবশেষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধরা জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ও বজ্রপাত বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ব্যাটিং এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের জোড়া অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। শান্ত ৬৭ ও তানজিদ ৫৪ রান করলেও, দলের সংগ্রহকে আড়াইশ পার করানোর মূল কারিগর ছিলেন মোসাদ্দেক। ফেরার ম্যাচে মাত্র ৬৫ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ন্যাথান এলিস নেন ৩টি উইকেট।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। গতির ঝড় তুলে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনে ধস নামান গতি তারকা নাহিদ রানা। একে একে শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ফিরিয়ে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু ৫২ এবং উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারির ৪৭ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ম্যাচের ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৯ উইকেটে ১৯১, তখন তীব্র বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আর খেলা সম্ভব না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচের ইতি টানেন। ডিএলএস পদ্ধতিতে ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৭৮ রান। ফলে ৮৬ রানের স্মরণীয় জয় উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪টি এবং মোসাদ্দেক ও মোস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৮৬* রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।