মাস্টারমাইন্ড মাহফুজ: ‘জীবন বাঁচাতে চুপ ছিলাম অন্তরীণ সরকারের সময়, তবু এনসিপি-জাশির আক্রমণ থামছে না’

প্রকাশিতঃ জুন ১১, ২০২৬ | ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অন্তরীণ সরকার’ আখ্যা দিয়ে সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অভিযোগ করেছেন, আদর্শিক বিরোধিতার কারণে সরকারের ভেতরে তাকে কোণঠাসা করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিজের জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ থাকলেও তার বিরুদ্ধে ব্যক্তি আক্রমণ থামছে না। আজ ১১ই জুন, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসে নিজের বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা, রাজনৈতিক আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। একই সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা জাশি সম্পর্কে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন। মাহফুজ আলম লেখেন, ‘আমি আজ পর্যন্ত জুলাইয়ের পক্ষের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি? না। কিন্তু, ব্যক্তি মাহফুজের বিরুদ্ধে হওয়া বিষোদগারের ৮০-৯০%ই জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লোকদের বিশেষ করে জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানদের করা। লীগ আক্রমণের টাইম আর স্পেসই খুঁজে পাচ্ছে না।’ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে নিজের দায়িত্বকাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, ‘আর, তথ্য মন্ত্রণালয়ে ৯ মাসের জন্য আমি দোষী হলে আগে-পরের ৯ মাসের উপদেষ্টারা কেন দায়মুক্ত? তারা যদি সদিচ্ছাবান হন, তাইলে মাহফুজ আলম গাদ্দার কেন?’ জামায়াতের আদর্শের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, জাশির ‘৭১ বিষয়ক রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা অপরাধ হলে একই প্রশ্ন তোলা লিবারেল-বাম-সেকুলারদের ক্ষেত্রেও একই মাপকাঠি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তিনি লেখেন, ‘কিন্তু, জুলাইয়ের পক্ষের শক্তি কি শুধুই জামায়াত? ‘৭১ কে অস্বীকারের/অবনমনের জাশির রাজনীতি নিয়ে যদি জামায়াতকে প্রশ্ন করা অপরাধ হয়, সে অপরাধে জুলাইয়ের কথিত পক্ষের লিবারেল-বাম-সেকুলারদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও দায়ী হতে বাধ্য। কিন্তু, সেরকম কিছু কি হয়েছে?’ জামায়াতের আদর্শিক বিরোধিতাকে ‘বিভাজনের কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি নাকচ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আদর্শিক বিরোধিতার সূত্রে যদি আমি বিভাজনের জন্য দায়ী হই, তাহলে এ বিভাজন এবং জুলাইকে জাশির একচ্ছত্র বয়ানের খপ্পর থেকে বাঁচানোর চেষ্টার জন্য আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না। কিন্তু, আমি কখনই শাহবাগের ফ্যাসিবাদী জাশি-বিদ্বেষী চিন্তাকে এন্ডোর্স করি নাই।’ টানা ব্যক্তি আক্রমণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহফুজ আলম লেখেন, ‘পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করার বদলে একজন ব্যক্তিকে টানা প্রায় দুই বছর জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানপন্থিদের ব্যক্তি আক্রমণ কি ইঙ্গিত দেয়?’ গত এক বছরে জাশি, এনসিপি বা উগ্র ডানপন্থিদের বিষয়ে তেমন কোনো বক্তব্য না দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সরকারের ভেতরে তাকে জাশি বিরোধিতার কারণে কোণঠাসা করা হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে তিনি চুপ থেকেছেন। স্ট্যাটাসের শেষ অংশে প্রাণনাশের হুমকি প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘শিবিরের বট এবং অ্যাক্টিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন। মৃত্যুকামনা করছেন। একবার প্রতীকী জবাইও করেছেন। হত্যাযোগ্য করার লেভেল অনেক আগেই পার করেছেন। এনসিপি-উগ্র ডানেরাও এরকমই বাসনা রাখে বলেও প্রতীয়মান হচ্ছে।’ নিজেকে ‘জুলাই ধ্বংসের হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াসকে হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘জুলাই এক ব্যক্তির খেলনা না যে, একজন ধ্বংস করে ফেলবে! আপনারা আসলে নিজেরাই এসব বক্তব্য দিয়ে জুলাইকে খেলো/হাস্যকর বানিয়ে ফেলছেন।’ স্ট্যাটাস শেষ করেন ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে। তিনি লেখেন, ‘জাশি-এনসিপি-উগ্র ডানের ব্যক্তি আক্রমণ বন্ধ হোক, এ কামনা করি। গালিবাজি আর ব্যক্তি আক্রমণ বাদ দিয়ে পলিসি, মতাদর্শ নিয়ে তর্ক করে যেন আমরা একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে পারি, সেদিকে চলেন মনযোগ দিই।’ উল্লেখ্য, মাহফুজ আলম বর্তমানে কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই, সংসদ সদস্যও নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবেও সক্রিয় নন।