আপনার দেওয়া ১০০ টাকার কর কোথায় কীভাবে খরচ করবে সরকার?

প্রকাশিতঃ জুন ১২, ২০২৬ | ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তাদের কষ্টার্জিত আয়ের করের টাকা সরকার ঠিক কোন কোন খাতে কীভাবে খরচ করে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পর্যালোচনায় উঠে এসেছে করের টাকার খাতওয়ারি ব্যয়ের এক স্বচ্ছ চিত্র। একটি ১০০ টাকার নোটকে ভিত্তি ধরে সরকারের পরিচালন বাজেটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অর্থের বড় একটি অংশ নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, করের ১০০ টাকার মধ্যে ব্যয়ের হিসাব নিচে দেওয়া হলো: ঋণের সুদ পরিশোধ: ২০ টাকা ৫০ পয়সা (সবচেয়ে বড় ব্যয় খাত)। ভর্তুকি ও প্রণোদনা: ১৭ টাকা। সাহায্য ও মঞ্জুরি: ১৫ টাকা ৭০ পয়সা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা: ১৪ টাকা ৪০ পয়সা। পণ্য ও সেবা ক্রয়: ৯ টাকা। অপ্রত্যাশিত ও বিবিধ ব্যয়: ৬ টাকা ৪০ পয়সা। পেনশন ও অবসর সুবিধা: ৫ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার ও ইকুইটি: ৫ টাকা ৩০ পয়সা। রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংগ্রহ: ৩ টাকা ৪০ পয়সা। অন্যান্য ব্যয়: ২ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য হলো ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। বাজেটে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমেই মূলত এই বিশাল ব্যয়ের অর্থ সংস্থান হবে। বিশ্লেষকদের মতে, করের প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখতে এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে বণ্টন করা হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে করদাতাদের অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।