আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের প্রকাশিত রেড নোটিশ তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম রয়েছে। তবে আলোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের নাম ওই তালিকায় দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা করা সম্ভব হয়েছে—এমন দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি থাকলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাকে শনাক্ত ও আটক করতে সহযোগিতা করতে পারে। কিন্তু বেনজীর আহমেদের নাম তালিকায় না থাকায় তার বিরুদ্ধে এমন কোনো পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে না।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের অফিসিয়াল তালিকা দেখুন এখানে
যুদ্ধাপরাধী নুর চৌধুরীর নাম থাকলেও ইন্টারপোলের রেড নোটিশে ৫৯ বাংলাদেশীর মধ্যে নাম নেই বেনজীর আহমেদের।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ তালিকা অনুসন্ধান করে মেলেনি বেনজীর আহমেদ নামে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের নাম।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি বেনজীর আহমেদ অন্য কোনো দেশে গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন, তবে সেটি ওই দেশের নিজস্ব আইন বা স্থানীয় কোনো মামলার সূত্রে হয়ে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশের অনুরোধ বা ইন্টারপোলের সরাসরি পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ সীমিত।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় নানা ধরনের আলোচনা ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের প্রকৃত কারণ বা আইনি ভিত্তি স্পষ্ট না করে ঘটনাটিকে সরকারের কূটনৈতিক বা আইনগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য ছাড়া বেনজীর আহমেদের অবস্থান, গ্রেপ্তারের কারণ কিংবা এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল কি না—তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন।