নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় জরাজীর্ন ভবনে পাঠাদান কালে ক্লাস একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ধসে অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে জানাগেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশংকা জনক বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার পাঠদান চলাকালীন সময়। দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ৩য় শ্রেণীর কক্ষে সহকারী শিক্ষিকা রিক্তা রানী পাল পাঠদান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই পেছনের দিকের একটি বিমসহ ছাদের একাংশ ভেঙে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এসময় শ্রেণী কক্ষে থাকা ৩য় শ্রেণীর অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা চলছে, তবে দুই শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার পাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান:
“ভবনটি দীর্ঘ দিন ধরেই অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে অবস্থায় ছিল। বাধ্য হয়েই আমাদের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছিল। আজ ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ পেছনের বিমের ছাদ ধসে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।”
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যার খেসারত দিতে হলো নিষ্পাপ শিশুদের। তারা অবিলম্বে এই জরাজীর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।