রাজশাহী কলেজে মাস্টার্স শেষ বর্ষের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে এসে সজিব আলী নামে ছাত্রলীগের এক নেতার ওপর মব হামলা চালায় ছাত্রদল ও গুপ্ত সংগঠন শিবিরের সন্ত্রাসীরা। পরে তাকে তুমুল হেনস্তার পর পুলিশে সোপর্দ করেন তারা।
আজ ২৮শে জুন, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক সজিব আলী রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম থানার মতিহার এলাকার চর শ্যামপুর গ্রামের মুজাম্মেল হকের ছেলে। তিনি কাটাখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা দুটি ছাত্র সংগঠনের মব সন্ত্রাসীর পাশাপাশি পুলিশের প্রতিও ধিক্কার জানান। ক্যাম্পাস প্রতিনিধির কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী প্রতিক্রিয়া দেন।
তারা বলেন, জাতিসংঘের চার্টার এবং আমাদের সংবিধান অনুসারে, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা-অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ আইনি পথ অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কিন্তু কারো শিক্ষাজীবন এভাবে ধ্বংস করে, তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো অধিকার কারো নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জানান, পুলিশ এই মব সন্ত্রাসীদের দোসরে পরিণত হয়েছে। একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে পরীক্ষায় বাধা দিয়ে আটক করা কোন আইনে আছে, আমরা জানি না। তীব্র ধিক্কার এবং প্রতিবাদ জানাই। মানবাধিকার কর্মীদের উচিৎ এসব বিষয়ে সোচ্চার হওয়া।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা সজিব আলী রাজশাহী কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। মৌখিক পরীক্ষা দিতে কলেজে এলে ছাত্রদল-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। তাকে চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি দিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমা মুস্তারি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তাকে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তাকে কোন মামলায় আটক করা হয়েছে- এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি ওসি।