বিএসএফের গুলিতে নিহত তরুণের জীবনের মূল্য কি মাত্র ৭০০ টাকা? সীমান্ত হত্যা নিয়ে গরমা-গরম বক্তৃতা করেন যারা, তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে নির্মমতার অভিযোগ।
কুলাউড়ায় নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের সাথে চরম উপহাসের ঘটনা ঘটল। ঢাকা থেকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে নিহতের পরিবারকে দেখতে এসে তাদের হাতে ৭০০ টাকা তুলে দেন তথাকথিত জুলাই বিপ্লবী নেতারা।। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
৩ লাখের মুলা ঝুলিয়ে ৭০০ টাকা দিয়ে ফুটেজ খাওয়া
গত ২৬শে জুন, শুক্রবার কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারের খোঁজ নিতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সমন্বয়ক সারজিস আলম। কিন্তু সান্ত্বনা দিতে গিয়ে তারা যা করলেন, তা দেখে হতবাক এলাকাবাসী। স্থানীয়দের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তারা নিহত মুজিবের মায়ের হাতে মাত্র ৭০০ টাকা তুলে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এই সামান্য টাকা হাতে পেয়ে নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত মুজিবের স্ত্রী বলেন,”আমার তিনটি শিশু নিয়ে এখন আমি অসহায়, আরেকটি শিশু আমার গর্ভে রয়েছে। ঢাকা থেকে নেতারা এসেছিলেন। এলাকার মানুষ ভাবছে আমরা নাকি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পেয়েছি! কিন্তু না, উনারা মাত্র ৭০০ টাকা তুলে দিয়েছেন আমার শাশুড়ির হাতে। একটা মানুষ মারা গেল, তার বদলে ৭০০ টাকা? এই টাকা দিয়ে আমরা কী করব?”
নেতাদের বিশাল গাড়ি বহর দেখে এলাকাবাসী ভেবেছিলেন অসহায় পরিবারটি হয়তো বড় কোনো আর্থিক অনুদান পেয়েছে। কিন্তু সত্য জানার পর স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, রাজনীতির মাঠে প্রচার কামানোর জন্য যদি এমন লোকদেখানো সহায়তা দেওয়া হয়, তবে তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি চরম অবমাননা। এই ৭০০ টাকা দিতে এসে তারা যে ফুটেজ খেলো, এটা আমাদেরকে অপমানিত করেছে।
তবে এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসীরা। ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই কুলাউড়ার দুই প্রবাসী মানবিক দিক বিবেচনা করে শহীদ মুজিবের স্ত্রীর কাছে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী কিংবা সমন্বয়ক সারজিস আলমের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ পাওয়া যায়নি।