ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সরকারি বনায়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মিত অফিস না করা এবং অফিস স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ একাধিক অভিযোগ।
অনুপস্থিতি ও বরাদ্দহীন বাসস্থান ব্যবহার
অভিযোগ অনুযায়ী, শফিকুল ইসলাম বিভিন্ন উপজেলার বনায়ন পরিদর্শনের কথা বলে অফিসে না এসে সময় পার করেন। তিনি কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বনায়ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকলেও এই তিন উপজেলায় দৃশ্যমান তেমন কোনো বড় সামাজিক বনায়ন প্রকল্প নেই বলে জানা গেছে।
এছাড়া বন বিভাগের নির্দিষ্ট কোয়ার্টার থাকা সত্ত্বেও তিনি অফিস ভবনের দোতলায় বরাদ্দবিহীনভাবে নিজের ও পরিবারের জন্য স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে ব্যবহার করছেন, যার ফলে সরকারি পানি ও বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। তার জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারে তিনি না থেকে সেখানে অফিসের এক কর্মরত মালিকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পাস বাণিজ্য ও অবৈধ করাতকল থেকে চাঁদাবাজি
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বনজ দ্রব্য পরিবহন ও ট্রান্সপোর্ট পারমিশন (টিপি) পাসের জন্য সরকারি বিধানে কোনো ফি নির্ধারিত নেই। তা সত্ত্বেও শফিকুল ইসলাম সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে প্রতিটি পাসের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন বলে অভিযোগ রয়েছে, যার জন্য তার একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট কাজ করে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় শতাধিক অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন করাতকল (স-মিল) থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন তিনি, যার ফলে অবৈধ করাতকলের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে এবং বনজ ও ফলদ গাছ নির্বিচারে উজাড় হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বন কর্মকর্তারা এসব করাতকলের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। নতুন করাতকলের লাইসেন্স পেতে হলেও ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রকল্পে অনিয়ম ও নার্সারির চারা বিক্রি
সামাজিক বনায়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অনিয়মের অভিযোগ আছে। গাছ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রেও তিনি নানা জটিলতা তৈরি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও অভিযোগ অনুযায়ী, নার্সারি থেকে ভাউচারবিহীনভাবে গোপনে বিভিন্ন চারা বিক্রি করে থাকেন তিনি, এবং পরবর্তীতে সেই চারাগুলো বিভিন্ন সরকারি অফিসের প্রকল্পের অধীনে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলাম বলেন,
“সরকারি অফিস শতভাগ সঠিক চালানো কঠিন, এখানে সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। আপনারা সবই বুঝেন, এতো কথা বলে লাভ কি? আসেন বসেন, চা-নাস্তা খেয়ে নিউজ করে। আপনি কি একা দেশ ভালো করতে পারবেন? তাহলে লেখেন।”
এ বিষয়ে যশোরের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অমিতা মণ্ডলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।