ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায়

প্রকাশিতঃ জুলাই ১, ২০২৬ | ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
প্রধান সম্পাদক

বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চরম হতাশায় দিন পার করছেন পেঁয়াজচাষিরা। আমদানিকৃত পেঁয়াজের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে দেশি পেঁয়াজের দাম তলানিতে নেমেছে, যার ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা এবং কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার ক্ষোভে অনেক কৃষক নিজেদের উৎপাদিত পেঁয়াজ রাস্তার ধারে কিংবা ডোবা-পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষকদের ভাষ্যমতে, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ পড়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করা অনেক কৃষক এখন কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে ফসল ঘরে রাখলে কয়েক মাসের মধ্যেই পচে প্রতি মণে প্রায় ১০ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা লোকসানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পেঁয়াজ চাষীদের ভাষ্য, “এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংসও কেনা যাচ্ছে না। লোকসানের এই ধারা চলতে থাকলে আগামীতে পেঁয়াজ আবাদ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে”। আরেক কৃষক জানান “এবার সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই পানির দরে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে।” উক্ত কৃষক বলেন, “ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।” এ অবস্থায় কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর দাবি উঠেছে কৃষকদের পক্ষ থেকে। ফরিদপুর শহরের শরীয়তউল্লাহ বাজারের আড়তদার শাহজাহান বেপারি জানান, ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে আমদানিকৃত পেঁয়াজের সরবরাহও প্রচুর থাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে। তবে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী প্রতি কেজি পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২৪ টাকা, অর্থাৎ মণপ্রতি প্রায় ৯৬০ টাকা। বাজারদর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকলেও কৃষকদের সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।