মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

প্রকাশিতঃ জুলাই ১, ২০২৬ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়, যাতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। এই ছয়জনকে হত্যাসহ মোট আটটি অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে মামলা করে প্রসিকিউশন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দমন-নিপীড়নে সহায়তা ও উসকানি দেওয়া, আন্দোলনকারীদের তালিকা তৈরি করে আটক-নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়া এবং আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও সেনা নামিয়ে হেলিকপ্টার থেকে বোমা ফেলার পরিকল্পনা করার অভিযোগও রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪-দলীয় জোটের সভায়, যেখানে ইনু উপস্থিত ছিলেন, আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিরীহ আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে সরাসরি সম্পৃক্ততা, প্ররোচনা ও উসকানির অভিযোগ আনা হয় ইনুর বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ইনুর বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর ৩৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে প্রসিকিউশন, যার সঙ্গে যুক্ত ছিল এক হাজার ৬৭৯ পৃষ্ঠার নথিপত্র। ২ নভেম্বর অভিযোগ আমলে নিয়ে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল এবং ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, আর আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৪ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয় এবং ২২ জুন ৩০ জুন তারিখ রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করা হয়। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা, আর আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। রায় ঘোষণার আগে চিফ প্রসিকিউটর দাবি করেছিলেন, ইনুর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল সর্বোচ্চ সাজার। রায়টি দেশের গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, এবং এর আগে যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক মহল থেকেও মামলাটি নিবিড় পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।