পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে আবার বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) একটি কৌশলগত ক্যাম্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির সাঁড়াশি অভিযানের মুখে শুরু হয় এই তীব্র যুদ্ধ।
চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র দল সরাসরি তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে মাঠে নেমেছে বলে জানা গেছে।
গতকাল ১লা জুলাই, বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে চারজন সেনা সদস্য নিহত এবং বহু সদস্য আহত হওয়ার দাবি করেছে কেএনএফ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সূত্রমতে, গতকাল বুধবার ভোরের দিকে কেএনএফ-এর নিয়ন্ত্রিত ‘রেংত্লাং ক্যাম্প’ লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রায় ২০ জন কুলি এবং ১৫০ জনেরও বেশি সেনা সদস্যের একটি বিশাল বহর এই অভিযানে অংশ নেয়। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-ও এই অভিযানে যোগ দেয়।
দুপুরের দিকে যৌথ বাহিনী কেএনএফ-এর রেংত্লাং ক্যাম্পটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে এবং তীব্র আক্রমণ চালায়। আকস্মিক এই হামলার মুখে কেএনএফ-এর সশস্ত্র সদস্যরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ।
কেএনএফ মুখপাত্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলেই ৪ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এই যুদ্ধক্ষেত্রের অপর প্রান্তে কেএনএফ-এর কোনো সদস্য হতাহত হয়নি বলে তাদের দাবি।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ের যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত হওয়া সেনা সদস্যদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। হেলিকপ্টারে করে আহত ও নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
এই অভিযানের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো পিসিজেএসএস (সন্তু লারমা) দলের সম্পৃক্ততা। অভিযোগ উঠেছে, জেএসএস সশস্ত্র বাহিনী এই অভিযানে সেনাবাহিনীকে পথ দেখানো, তথ্য সরবরাহ এবং সার্বিক সহযোগিতা করেছে।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে একযোগে জেএসএস সশস্ত্র বাহিনীর এই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কেএনএফ কর্তৃপক্ষ। একে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছে সংগঠনটি।
অভিযান এখনো সমাপ্ত হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাইনখিয়াং খালের চতুর্দিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি শক্ত অবস্থান নিয়ে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিলাইছড়ি জোন থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্যকে জড়ো হয়ে রাইনখিয়াং খালের দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে।
পাহাড়ের এই আকস্মিক ও তীব্র যুদ্ধাবস্থার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।