গভীর রাতে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল সভাপতিকে উত্তম-মধ্যম, দল থেকেও বহিষ্কার

প্রকাশিতঃ জুলাই ৩, ২০২৬ | ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

নোয়াখালীর হাতিয়ায় নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটকের পর গণপিটুনি দেওয়া হয়েছে আশরাফ উদ্দিন নামে এক যুবদল নেতাকে। এই ঘটনায় তাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ ২রা জুলাই, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক রাইসুল হায়দার বাবুর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নে একটি ঘর থেকে স্থানীয়রা তাকে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে তাকে জুতাপেটা ও উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। বহিষ্কৃত আশরাফ উদ্দিন হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল মাঝির ছেলে। তবে যুবদলের কর্মীদের দাবি, তাদের নেতা সেখানে ওই নারীর সাথে কথা বলতে গিয়েছিলেন বিশেষ প্রয়োজনে। কিন্তু এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের লোকজন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে ফাঁসিয়েছে। এদিকে, যুবদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আশরাফ উদ্দিনকে নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা যুবদলের সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, তার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায়ভার দল বহন করবে না। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে আশরাফ উদ্দিন নোয়াখালী সদরের এক নারীকে নিয়ে জাহাজমারা ইউনিয়নের ল্যাংড়া তেমুনী এলাকার একটি ঘরে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন ওই ঘরে গিয়ে তাদের আটক করে। একপর্যায়ে তাকে জুতাপেটা ও উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে রাত ১২টার দিকে স্থানীয়ভাবে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং স্থানীয়রাও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।