ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের

প্রকাশিতঃ জুলাই ৫, ২০২৬ | ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ভাঙচুর এবং দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয় ও নেতাকর্মীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, “জুলাইয়ে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি সম্মুখভাগে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল।” আজ ৪ঠা জুলাই, শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনের সহিংস মুহূর্ত এবং পরবর্তী সময়ে রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় একদল বিক্ষোভকারীকে সংগঠিত হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসময় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও তথ্যানুযায়ী, সেখানে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের একাংশ স্লোগান দিয়েছিল—“তারেক রহমান কথা দিলাম, ৩২ নম্বরের দখল নিলাম”। যদিও তৎকালীন সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন যে, ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুরের কোনো অফিশিয়াল কর্মসূচি ছাত্রদলের ছিল না এবং এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তবে সম্প্রতি দলটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের বক্তব্যে রাজপথে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনকে প্রতিহত করার প্রকাশ্য ঘোষণা এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্লোগান এবং ভাঙচুরের দায় স্বীকারের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রধান প্রতীকী ক্ষমতার কেন্দ্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। শুধু ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরই নয়, ঢাকার বাইরের সকল জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ-সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কোনো কার্যালয়ই ছাড় পায়নি নাশকতা থেকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী থেকে শুরু করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এমনকি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিছুই রেহাই পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, জাদুঘর, ভাস্কর্য, ম্যুরাল, স্মারক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য- সবই পরিকল্পিত হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এসব হামলার সময় ব্যাপক ভাঙচুর এবং মূল্যবান সামগ্রী লুটপাটের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো জায়গায় বাড়িগুলো এক্সক্যাভেটর বা বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার খবরও সংবাদমাধ্যমে আসে। ছাত্রদল সভাপতির এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনার দায় ছাত্রদলের উপরে পড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ছাত্রদলের এই প্রকাশ্য অবস্থানকে বিএনপির অভ্যন্তরে রাজপথের ‘বীরত্ব’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হলেও, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে আন্দোলন সফল করতে ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মীর নিহতের দাবি করে একে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ চূড়ান্ত প্রতিরোধ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধ্বংস এবং লুটপাটের সংস্কৃতিকে অনেকেই সুস্থ রাজনীতির জন্য অন্তরায় মনে করছেন। তবে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে দাবি করেছেন যে, বিগত বছরগুলোতে তার দল ও পরিবারের ওপর যতই অন্যায় করা হোক না কেন, কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার পক্ষে তিনি নন। যদিও ছাত্রদলের সভাপতির এই বক্তব্য দলীয় প্রধানের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও।