রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে চরম উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফুটপাত ও মার্কেট দখল এবং চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিলে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জামায়াতের দাবি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষে গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতিসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী রক্তাক্ত এবং গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ ৪ঠা জুলাই, শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া ফ্লাইওভারের নিচে ও বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অভিযোগ করেন, “বিএনপির কিছু সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে গুলিস্তান এলাকায় ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি তারা নগর প্লাজা মার্কেটে জোরপূর্বক তালা ঝুলিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়, ভেতরের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং কম্পিউটার লুট করে নিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে জামায়াতের শরণাপন্ন হলে স্থানীয় নেতারা ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান।”
এরই প্রতিবাদে আজ বিকেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মীরা ফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জামায়াত নেতাদের দাবি, মিছিলের জন্য ব্যবসায়ীরা জড়ো হওয়া মাত্রই বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুরি, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হামলায় ১৫-২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী ও জামায়াত নেতা গুরুতর ছুরিকাহত হয়েছেন। তিনি গুলিস্তান ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং মোবাইল যন্ত্রাংশের ব্যবসায়ী। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ মামুন দাবি করেন, “বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুলবাড়িয়া ক্লাবে বসা ছিলেন। তারা মূলত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে প্রতিদিন পাহারা দেন। কিন্তু আজ হঠাৎ জামায়াতই ট্রেড সেন্টারের ভেতর থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে গায়ে পড়ে হামলা করেছে। এরপর দুই গ্রুপ মুখোমুখি হয়ে যায়।”
মার্কেট দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রম অধিদপ্তর থেকে সরকারিভাবে মার্কেট পরিচালনায় পাঁচজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। পরে যুবদল নেতা রনজু দলীয় লোকজন ও পুলিশের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসিয়ে দেন। এটিকে ‘মার্কেট দখল’ বলতে নারাজ এই বিএনপি নেতা।
গুলিস্তানের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, মার্কেট ও স্থানীয় দোকানদারদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে কোনো বড় ধরণের দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।