প্রবাসীর স্ত্রীকে ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিতঃ জুলাই ৫, ২০২৬ | ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

জামালপুরে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে চেতনানাশক খাইয়ে অপহরণ, নগদ ১৭ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং টানা ১১ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগী নারীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মতো আধুনিক সাইবার অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন। গত ১লা জুলাই রাতে জামালপুর প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগী নারী মুর্শেদা আক্তার মিহা এবং তার প্রবাসী স্বামী সেলিম মিয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই লোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ দেন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুর্শেদা আক্তার অভিযোগ করেন, জমি কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে এই টাকা ও স্বর্ণ ফেরত চাইলে শুরু হয় নির্যাতন। মুর্শেদা জানান, টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে ও তার শিশুসন্তানকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের সময় ডাবের পানির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল চেতনানাশক ওষুধ। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর দাবি, অবরুদ্ধ অবস্থায় যখন তার সামান্য জ্ঞান ফেরে, তখন প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বেশ কিছু সাদা স্ট্যাম্প ও কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সাথে কূটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে তার আগের স্বামীকে তালাকনামা, নিজামের সাথে বিয়ের চুক্তি এবং একই সাথে নিজামকে ডিভোর্স দেওয়ার কাগজেও অগ্রিম টিপসই নিয়ে রাখা হয়। এরপর জামালপুর শহরের বোসপাড়ার একটি গোপন আস্তানায় টানা ১১ দিন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুরো ঘটনার আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল প্রতিনিয়ত। এই বর্বরতার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী গত ৩০শে জুন জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে ও তার স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রবাসী স্বামী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা এখন ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। তার স্ত্রীর ছবি ও অশালীন ভিডিও তৈরিতে ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।