শরীয়তপুর জেলা শহরে খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অর্থাৎ একেবারে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা যুবদল নেতার একটি ক্লাব গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত ৫ই জুলাই, রোববার রাত ৯টার দিকে এই ঝটিকা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদের পরপরই ক্লাবের সমস্ত নির্মাণসামগ্রী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে রাতের আঁধারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একদম সামনে সরকারি জমি দখল করে একটি ক্লাব ঘর রাতারাতি দাঁড় করিয়ে ফেলা হয়। এই অবৈধ স্থাপনাটি গড়ে তোলার পেছনে ছিলেন শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান ব্যাপারী।
সরকারি জায়গায় এমন দুঃসাহসিক দখলের বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রথমে যুবদল নেতা নুরুজ্জামানকে গত ৩০শে জুনের মধ্যে ক্লাবটি নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনকে দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনাটি সরানো হয়নি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইলোরা ইয়াসমিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উক্ত রাজনৈতিক নেতা অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে ৩০শে জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পরও তিনি ক্লাবটি অপসারণ করতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং জব্দকৃত নির্মাণসামগ্রী নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।”
রোববার রাতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস এলাহির নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য অভিযানে অংশ নেন।
আধঘণ্টার অভিযানে ক্লাবটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার পর সেটির ইট, কাঠ ও টিনসহ অন্যান্য সামগ্রী স্পটেই নিলাম ডেকে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে খোদ সরকারি দপ্তরের সামনের জমি এভাবে দখলমুক্ত করা বাকি দখলদারদের জন্য একটি বড় বার্তা।