‘ইসলামিক রিপাবলিক অভ জাপান আমাদের ওপর ১১১টি মিসাইল ছুড়েছে’, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ জুলাই ৯, ২০২৬ | ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

আমেরিকার বর্তমান শত্রুর সঙ্গে বহু অতীতের এক শত্রুকে গুলিয়ে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক চলাকালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, মার্কিন বিমানবাহী রণতরির ওপর হামলা চালিয়েছে জাপানি বাহিনী। ইউক্রেনের নেতাকে পাশে বসিয়ে এক স্বতঃস্ফূর্ত সংবাদ সম্মেলন করছিলেন ৮০ বছর বয়সি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একসময় মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-এর ওপর হামলা করা হয়েছিল দাবি করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অভ জাপান আমাদের দিকে ১১১টি মিসাইল ছুড়েছিল। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিমানবাহী রণতরি লক্ষ্য করে ওগুলো ছোড়া হয়। অত্যন্ত দামি একটা জাহাজের দিকে ধেয়ে আসছিল ১১১টা মিসাইল। তবে প্রত্যেকটা মিসাইলকে মাঝ-আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। এর বেশিরভাগটাই ঠেকিয়েছে আমাদের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম। পাশাপাশি অন্যান্য উপায়ও কাজে লাগানো হয়েছিল।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্ভবত চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলার কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুল করে তিনি ওই হামলার দায় চাপিয়েছেন জাপানের ওপর—যে দেশ গত প্রায় এক শতাব্দীতে আমেরিকার বিরুদ্ধের ক্ষোভের বশে একটি গুলিও ছোড়েনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বাহিনী মার্কিন রণতরি ও নৌ-বহরের ত্রাস হয়ে উঠেছিল। তবে সেই যুদ্ধে পরাজয়ের পর আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয় জাপান। আজও অটুট রয়েছে সেই দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব। তালগোল পাকানোর এখানেই শেষ নয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ট্রাম্প তার পাশে বসে থাকা জেলেনস্কিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তিনি সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কোনো প্রশ্ন করার আছে আপনাদের?’ এই মন্তব্যের পর গোটা কামরায় হাসির রোল ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প কথাটা ঘুরিয়ে নিয়ে বোঝাতে চান, সাংবাদিকদের প্রশ্নগুলো তিনি রুশ নেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাই বলছিলেন! ট্রাম্পের এই পুতিন-জেলেনস্কি বিভ্রাট এমন এক সময়ে ঘটল, যার প্রায় ঠিক দুই বছর আগে তার পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একই ভুল করেছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ২০২৪ সালের ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে জেলেনস্কিকে ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বাইডেন। জাপান এবং পাশে বসে থাকা নেতার পরিচয় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে আসল ‘ইসলামিক রিপাবলিক অভ ইরান’-এর সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারীরা। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে তেহরান হামলা চালানোর পরেই সেই চুক্তি বাতিলের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময়ে ইরানের নেতাদের ‘কুলাঙ্গার’ বলে সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র রাতেই ফের ইরানে জোরালো হামলা চালাতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার ইরানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এর জবাব দিতে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় ইরানি বাহিনীও। ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটের পাশে দাঁড়িয়েই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছে একদল ‘অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আর ওদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যেতে চাই না।’ বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেন, ইরানের প্রধান তেল উৎপাদন কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের চেষ্টা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। সেইসঙ্গে তেহরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধও আরোপ করা হতে পারে।