নকল ব্যান্ডেজ পরে আদিবাসীদের ওপর হামলাকারী সেই ইনসাফ নেতা এবার হিন্দুদের দেশছাড়া করার উস্কানিতে সরব

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৩, ২০২৬ | ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মতিঝিলে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও টেক্সটবুক (এনসিটিবি) ভবনের সামনে সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দসংবলিত গ্রাফিতি বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ চলাকালে বিক্ষোভকারীদের ওপর এ হামলা করে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মে কর্মীরা। সেসময় পুলিশ আরিফ আল খবির এবং মো. আব্বাস নামে দুজনকে আটক করে। মাথায় ব্যান্ডেজ পরে তারা জনগণের সহানুভূতি আদায় করার জন্য লাইভ করছিলেন। যদিও পরে দেখা যায় তাদের সেই ব্যান্ডেজ ছিল নকল। তারা দাবি করেছিলেন আদিবাসীরা তাদের ওপর হামলা করেছে। পরে গণমাধ্যমে তাদের নকল ব্যান্ডেজ লাগানোর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পেয়ে গেলে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি নামক ভুঁইফোঁড় সংগঠনটি। বর্তমানে আরিফ আল খবির দেশ ও দ্বীন রক্ষায় ‘ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা’র নামে আরেক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বিভিন্ন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে হিন্দুদের দেশছাড়া করার দাবিতে ক্রমাগত উস্কানি দিয়ে যাচ্ছেন। এ সংক্রান্ত তার একটি সাম্প্রতিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার বিরুদ্ধে যাথাযথ ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নকল ব্যান্ডেজের সেই ঘটনা উগ্রবাদী এই ব্যক্তি পরে সমালোচনা এড়াতে এবং গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে ভোল বদলে নতুন দাবি নিয়ে আসেন। এক সমাবেশে আমেরিকার কাছে বাণিজ্য চুক্তির নামে দেশ বিক্রি এবং বন্দর-খনি-নারিকেল দ্বীপ হস্তান্তরের চক্রান্তকারী ড. ইউনূস এবং তার সহযোগীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ফাঁসি নিশ্চিতের দাবিও জানান। জানা যায়, গতকাল ১১ই জুলাই, শনিবার রাজধানী একটি সমাবেশে আরিফ আল খবির বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, আমাদের সচিবালয়ে একটা বড় প্রশাসনিক পদে থেকে মনোরঞ্জন মধু প্রতিদিন ফেসবুকে কুরুক্ষেত্রের কথা ঘোষণা করে। তিনি বাংলাদেশে থেকে এত কথা বলার সাহস পায় কেমনে? সরকারের সচিবালয়, পুলিশ, আইন, প্রশাসন, বিজিবি সমস্ত কিছু থেকে এবং সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী সবকিছু থেকে হিন্দুদেরকে বহিষ্কার করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ‘র’ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এবং ইসকন, হিন্দু মহাজোট সনাতন বিদ্যার্থী সংগঠন-এগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, হিন্দু সবগুলো ভারতের দালাল। একটা হিন্দুর পেটে গুঁতা মারবেন, তারা দৌড় দেবে ভারতে। প্রমাণ কি জানেন? এই যে কয়দিন আগে আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই মিরপুরে একটা মন্দিরের পাশে কলাগাছ কাটা হয়েছিল। কী কাটা হয়েছিল? কলা গাছ। এই কলা গাছটা কেন কেটেছে? এজন্য মন্দির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সরকার, পুলিশ কারো কাছে বিচার দেয় নাই। সরাসরি বিচার দিয়েছে ভারতের কাছে। পরে ভারত থেকে আমাদের সরকারকে চাপ দেওয়া হয়েছে। সরকার দৌড়ে গিয়ে কলাগাছ যারা কেটেছে তাদের গ্রেপ্তার করেছে। পারলে হিন্দুদের মাথায় তুলে নাচা শুরু করে দিয়েছে সরকার। মানে হিন্দু কিছু হলেই গুঁতা মারলেইও ভারতকে বলে। তাহলে হিন্দুরা কার দালাল? ভারতের দালাল। বাংলাদেশটা পয়মাল করে দিয়েছে। এই হিন্দুদেরকে উৎখাত করা উচিত। তিনি আরও বলেন, আমরা বলে দিতে চাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, সার্বভৌমত রক্ষার স্বার্থে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং ইসকন ও হিন্দু মহাজোট সনাতন বিদ্যার্থী সংগঠন সবগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশের এদের কোন কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না।