ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন আনল আইসিসি

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৬, ২০২৬ | ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

পুরুষ ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতা ও আকর্ষণ বাড়াতে দুই সংস্করণের বিশ্বকাপেই যুক্ত করা হয়েছে বাড়তি রাউন্ড। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সভা শেষে আজ বুধবার এই নতুন ফরম্যাটের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। আইসিসি জানিয়েছে, ‘আরও অর্থপূর্ণ লড়াই তৈরি, প্রতিযোগিতার মান বৃদ্ধি এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা আরও রোমাঞ্চকর করতেই’ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিচে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট ও নিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো: ওয়ানডে বিশ্বকাপ: দল বাড়ছে, যুক্ত হচ্ছে ‘সুপার ৭’ রাউন্ড আগামী বছর (২০২৭) অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। ২০১৯ ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ১০টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হলেও এবার দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ১৪টি করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের পর এই প্রথম আবারও ১৪ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ দেখা যাবে। পুরো টুর্নামেন্টটি মোট চারটি রাউন্ডে সম্পন্ন হবে: প্রথম রাউন্ড: আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর দল এই রাউন্ডে অংশ নেবে। এখান থেকে কেবল শীর্ষ দলটি মূল পর্বে (দ্বিতীয় রাউন্ডে) খেলার টিকিট পাবে। দ্বিতীয় রাউন্ড (গ্রুপ পর্ব): প্রথম রাউন্ড থেকে কোয়ালিফাই করে আসা দলের সঙ্গে সরাসরি মূল পর্বে থাকা ১১টি দল যোগ দেবে। মোট ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে (প্রতি গ্রুপে ৬টি করে দল) ভাগ করা হবে। দুই গ্রুপের শীর্ষ তিনটি করে দল এবং উভয় গ্রুপ মিলিয়ে পরবর্তী সেরা দল—অর্থাৎ মোট ৭টি দল পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। সুপার ৭: আগের ‘সুপার সিক্স’ ফরম্যাটের বদলে এবার আনা হয়েছে ‘সুপার ৭’ রাউন্ড। সাতটি দল একে অপরের সঙ্গে রাউন্ড-রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ‘সুপার ৭’ পর্বের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। যেখানে প্রথম দল লড়বে চতুর্থ দলের সঙ্গে এবং দ্বিতীয় দল খেলবে তৃতীয় দলের সঙ্গে। এরপর ফাইনালের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আইপিএলের মতো এলিমিনেটর ও ‘সুপার ১০’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে দলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে। দ্বিতীয় পর্বে আগের ৮ দলের জায়গায় এখন খেলবে ১০টি দল, যা সহযোগী দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। প্রথম রাউন্ড (গ্রুপ পর্ব): মোট ২০টি দলকে পাঁচটি গ্রুপে ভাগ করা হবে (প্রতি গ্রুপে ৪টি করে দল)। আগের ফরম্যাটে চারটি গ্রুপে ৫টি করে দল থাকত। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। সুপার ১০: আগের ‘সুপার ৮’ পর্বটি বাতিল করে চালু করা হচ্ছে ‘সুপার ১০’ রাউন্ড। এখানে ১০টি দলকে দুটি গ্রুপে (প্রতি গ্রুপে ৫টি করে দল) ভাগ করা হবে। সেমিফাইনাল ও এলিমিনেটর: ‘সুপার ১০’ পর্বের দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি সেমিফাইনালে চলে যাবে। তবে বাকি দুই সেমিফাইনালিস্ট নির্ধারণে আইপিএলের মতো ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচের আয়োজন করা হবে। দুই গ্রুপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলো ক্রস-ওভার পদ্ধতিতে দুটি এলিমিনেটর ম্যাচে মুখোমুখি হবে। সেই দুই ম্যাচের বিজয়ী দল দুটি সেমিফাইনালের বাকি দুটি জায়গা পূরণ করবে। ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন প্রক্রিয়া ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে: স্কটল্যান্ড সরাসরি ইউরোপের আঞ্চলিক ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া যে দলগুলো ২০২৮ আসরের জন্য সরাসরি কোয়ালিফাই করতে পারবে না, তাদের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের বাধা পার হতে হবে। গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের বাকি আটটি স্থান পূরণ হবে আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং পূর্ব এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে। সরাসরি কোয়ালিফাই করা ১২টি দলের সঙ্গে আঞ্চলিক ও গ্লোবাল কোয়ালিফায়ার থেকে উঠে আসা বাকি দলগুলো নিয়ে মোট ২০টি দল খেলবে ২০২৮ বিশ্বকাপে। বিশেষ দ্রষ্টব্য: আইসিসির ডেভেলপমেন্ট এবং চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই পরিবর্তনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আইসিসির ফিন্যান্স ও কমার্শিয়াল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চূড়ান্ত পর্যালোচনার পরই এটি পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভ করবে।