ডেঙ্গু ঠেকাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী সমাধান: বললেন লুঙ্গি লম্বা করে ও পায়জামা পরতে

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৬, ২০২৬ | ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

ডেঙ্গু মোকাবিলায় যুগান্তকারী সমাধান দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানো, ফুল হাতা শার্ট পরা, পায়জামা পরা বা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্য মানুষের সবচেতনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আজ ১৫ই জুলাই, বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যযপ্রণালিবিধির ৭১ বিধিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখার জন্য প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা স্প্রে করে যাচ্ছি, আমরা লার্ভার ট্যাবলেট ছিটিয়ে যাচ্ছি। দেশব্যাপী মানুষকে মশারি টানিয়ে ঘুমানোর জন্য, ফুল হাতা শার্ট পরার জন্য, পায়জামা পরার জন্য বা লুঙ্গি লম্বা করে পরার জন্য আমরা মানুষের অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করতেছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমি এরই মধ্যে বলেছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি আরও বলতে চাই ডেঙ্গু টেস্ট করার রিএজেন্ট, স্মরণাতীতকালের স্টক আমাদের হাতে আছে যেটা বিগত সময়ে কোনও সরকার তাদের হাতে রাখতে পারে নাই। আমরা টেস্ট করার জন্য সেই কিটের ব্যবস্থা আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে মাঠ লেভেলে দিয়েছি এবং আমাদের সেন্ট্রাল গোডাউনে আমাদের স্টক আছে। দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত কিট ও স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। যেখানে গত বছর (২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত হিসেবে) আক্রান্ত ছিলেন ১৫ হাজার ২১০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৮ জনের। মন্ত্রী বলেন, “পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতবারের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যু অর্ধেকেরও কম। তবে আমরা এতে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না, যেহেতু মানুষ এখনও আক্রান্ত হচ্ছে।”