মার্কিন বিনিয়োগকারী ও বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক তথ্য প্রকাশের পরই এই সিদ্ধান্ত নিলেন ৯৫ বছর বয়সী এই ধনকুবের।
বাফেট জানিয়েছেন, তিনি এ বছর তার বার্ষিক মধ্যবর্ষ অনুদানের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার তার সন্তানদের পরিচালিত চারটি পারিবারিক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। তার মেয়ে সুজি এবং দুই ছেলে হাওয়ার্ড ও পিটার এসব প্রতিষ্ঠান তদারকি করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের ঘোষণায় গেটস ফাউন্ডেশনের নাম একবারও উচ্চারণ করেননি বাফেট।
২০০৬ সালে বাফেট তার জীবদ্দশায় শেয়ার দান করার একটি অপরিবর্তনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর সেই থেকে গেটস ফাউন্ডেশন বার্কশায়ারের প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার পেয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় (৪৫০ কোটি ডলারের বেশি) এবার সেই ধারায় ছেদ পড়ল।
নিজের বিবৃতিতে বাফেট বলেন, তার অবশিষ্ট শেয়ার যেভাবেই হোক ২০৩৪ সালের মধ্যে ওই চারটি প্রতিষ্ঠানে দান করে দেওয়া হবে, কারণ ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলেও তার পরিকল্পনা সুনির্দিষ্ট।
গেটস ফাউন্ডেশন বা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে—কোনো পক্ষই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালেই বাফেট জানিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত ওই ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করার পর থেকেই বিল গেটসের সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে গেটসকে এপস্টেইনের সঙ্গে এবং মুখ ঝাপসা করা কয়েকজন নারীর পাশে দেখা গেছে।
এছাড়া এপস্টেইন ও ফাউন্ডেশনের কর্মীদের মধ্যে ই-মেইল যোগাযোগের তথ্যও সামনে এসেছে।
গত জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে গেটস স্বীকার করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য জনহিতকর কার্যক্রম নিয়ে বৈঠক করার সময় তিনি এপস্টেইনের অপরাধের ব্যাপকতা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। ৭০ বছর বয়সী গেটসের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।
তিনি বারবার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন, এপস্টেইনের যৌন নিপীড়নের শিকার কারও সঙ্গে সময় কাটানোর কথা অস্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি কখনো এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিজে প্রত্যক্ষ করেননি।
২০০৬ সাল থেকে সম্পদ দান শুরু করার পর বাফেট তার বার্কশায়ার শেয়ারের অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক অনুদানের আগ পর্যন্ত তার হাতে বার্কশায়ারের প্রায় ১৪ শতাংশ শেয়ার ছিল, আর ফোর্বস সাময়িকীর হিসাবে তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার (১৪ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার)।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সুজান থম্পসন বাফেট ফাউন্ডেশনে নয় মিলিয়ন ক্লাস বি শেয়ার এবং হাওয়ার্ড জি বাফেট ফাউন্ডেশন, শেরউড ফাউন্ডেশন ও নোভো ফাউন্ডেশনের প্রতিটিতে এক মিলিয়ন করে শেয়ার দান করা হবে।
বাফেট জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য প্রতিবছর অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো, বিশেষ করে সুজান থম্পসন বাফেট ফাউন্ডেশনের জন্য অপেক্ষাকৃত দ্রুত হারে বৃদ্ধি করা।
সুজান থম্পসন বাফেট ফাউন্ডেশন পরিচালনা করেন সুজি বাফেট, যা প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন করে থাকে। ফাউন্ডেশনটির নামকরণ করা হয়েছে ওয়ারেন বাফেটের প্রথম স্ত্রী তথা সুজির মায়ের নামে।
শেরউড ফাউন্ডেশন নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা ও প্রাথমিক শিশু শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা দেয়। হাওয়ার্ড জি বাফেট ফাউন্ডেশন কাজ করে বৈশ্বিক ক্ষুধা নিরসন, মানব পাচার প্রতিরোধ ও বিভিন্ন সংঘাত প্রশমনের লক্ষ্যে।
আর নোভো ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম কেন্দ্রীভূত প্রান্তিক নারী ও কিশোরী এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে।