কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করেন কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দু। বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই বেলা ২টায় বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম রুমে শহীদ স্মরনে এক মিনিট নিরবাতা পালনের মধ্যে দিয়ে, জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দের উপস্থিততে আলোচনা সভা ও দোয়া মহফিলের মধ্যে দিয়ে দিবটি পালন করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ মোজাম্মেল হক বক্তৃতায় বলেন ২০২৪ সালের এই দিনে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ কমপক্ষে ৬ জন শহীদ হয়েছিলেন। রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শহীদ আবু সাঈদ। আবু সাঈদের বুকে পুলিশের গুলি করার দৃশ্য গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে।
সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাসুদ আলম তার বক্তৃতায় বলেন জুলাই আন্দোলন কোটা সংস্কারের দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে মোড় নেয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ জুলাইয়ের সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করছি।
সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতী শাখা) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন ১৬ জুলাই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় সন্ধিক্ষণ। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির নির্মম প্রয়োগ এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র অথচ অদম্য সাহসী বীর ছাত্র-জনতা যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দুই হাত প্রসারিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের সেই অমলিন দৃশ্য কেবল একটি মুহূর্ত ছিল না; সেটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকারবঞ্চিত একটি জাতির ভয় জয়ের প্রতীক।
সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা শাখা) মোঃ শরিফুল ইসলাম তার বক্তৃতায় বলেন, জুলাইয়ের সেই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি আন্দোলনই ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের শক্তিতেই বাংলাদেশের মানুষ তাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠার সুযোগ লাভ করেছে। ঐতিহাসিক সেই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ আমাদের সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সিনিয়র শিক্ষক মওলানা নজরুল ইসলাম দোয়া মহফিল পরিচালনার সময় বলেন, রাষ্ট্র এবং সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, সেইসব অকুতোভয় শহীদদের গৌরবময় আত্মত্যাগের পথ ধরে বর্তমানে দেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমেই আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করতে পারি। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
বিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দুদের উপস্থিততে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক আর কৃতজ্ঞতা আলোচনা সভা ও দোয়া মহফিলের মধ্যে দিয়ে জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬ যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।