আমলাদের চাপে পিছু হটল সরকার, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা মিলবে ৫০ হাজার

প্রকাশিতঃ জুলাই ১৭, ২০২৬ | ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ভাতা ৫০ হাজার টাকা থেকে কমানোর উদ্যোগ থেকে আপাতত সরে এসেছে সরকার। কর্মকর্তাদের তীব্র আপত্তি ও প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষের পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে আর না এগোনোর নির্দেশনা দেওয়ায় এ-সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে সুদমুক্ত ঋণে কেনা ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য বর্তমানে যে মাসিক ৫০ হাজার টাকা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় দেওয়া হয়, সেটিই বহাল থাকছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৫০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার পর বৈঠকটি স্থগিত করা হয়। বৈঠক স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি আসেনি। তবে বিষয়টি স্থগিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সে কারণেই আমাদের বৈঠকও স্থগিত করা হয়েছে।” গত ৯ই জুলাই অর্থ বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো এক চিঠিতে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় মাসে ৫০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, সীমিত সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এ ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে কীভাবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা হবে, সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে। চিঠি পাওয়ার পরই প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রাধিকার সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা যুক্তি দেন, বর্তমান বাজারে একটি গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণে গড়ে প্রায় ৬৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সেখানে সরকার ৫০ হাজার টাকা দিলেও বাকি অর্থ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হয়। এই অবস্থায় ভাতা আরও কমানো হলে কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে এবং প্রশাসনের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত সংগ্রহ করে। সংশ্লিষ্টদের অভিমত ছিল, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি সরকারের জন্যও নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে। পরে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপন করা হলে আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। বর্তমানে উপসচিব থেকে ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণে গাড়ি কেনার সুবিধা পান। একই সুবিধা ভোগ করেন সশস্ত্র বাহিনীর মেজর ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের জেলা জজ ও ঊর্ধ্বতন বিচারক এবং নির্বাচন কমিশনের সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাই গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ মাসিক ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই ভাতায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আসছে না।