আটলান্টায় গত বুধবার বিশ্বকাপের ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে আবারও হতাশায় ডুবেছে ইংল্যান্ড। তবে যে কৌশলের কারণে তাদের এই পরিণতি হয়েছে, তা নিয়ে কোনো ‘অনুশোচনা নেই’ বলে জানিয়েছেন দলটির প্রধান কোচ টমাস টুখেল।
ম্যাচের প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ৫৫তম মিনিটে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়ে। যে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা এগিয়ে গিয়েছিল, তা বাদ দিয়ে তারা রক্ষণভাগ ধরে রেখে কেবল লিড বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে। এরই সুযোগ নিয়ে ম্যাচের শেষ মুহূর্তের ৮৫ ও ৯২তম মিনিটে দুটি গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা।
টুখেলের এমন অতি নেতিবাচক কৌশলের কারণে ম্যাচ হেরে বিদায় নেওয়ার পর সাবেক ইংলিশ তারকারা কোচের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। সাবেক ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি ও জন টেরি দলটির এমন পারফরম্যান্সের তুমুল সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, টুখেল দলকে অত্যন্ত নেতিবাচক মানসিকতায় খেলিয়েছেন। বিশেষ করে, এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে সরিয়ে ডিফেন্ডার নামানোর সিদ্ধান্তকে তারা বড় ভুল হিসেবে দেখছেন। আক্রমণ করার চেষ্টা পুরোপুরি বাদ দিয়ে কেবল রক্ষণ সামলানোর এই আত্মঘাতী কৌশলেই শেষ পর্যন্ত ডুবেছে ইংল্যান্ড।
তবে ম্যাচ শেষে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে মোটেও অনুতপ্ত নন টুখেল। বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আপনি লাখো কোচের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারেন, কিন্তু সিদ্ধান্তটা মাঠের মধ্যে আমাকেই নিতে হতো। আমি ম্যাচটি বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট উপায়ে এগিয়েছি, তাই এর দায় সম্পূর্ণ আমার। এই মুহূর্তে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। দল সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছে এবং আমরা জয়ের খুব কাছাকাছি ছিলাম।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘পুরো টুর্নামেন্ট বিশ্লেষণ করার মতো সময় এটি নয়, আমরা কেবল একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে হেরে বিদায় নিয়েছি।’
রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলার পাশাপাশি ম্যাচের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় বদলের সিদ্ধান্তগুলোও ছিল পুরোপুরি রক্ষণমুখী। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে একমাত্র গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে তুলে নিয়ে রক্ষণভাগের খেলোয়াড় এজরি কোনসাকে মাঠে নামানো হয়।
খেলা শেষের পর এক সম্প্রচারে টুখেল নিজের কৌশল ও খেলোয়াড় বদলের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘ভেতরের ফাঁকা জায়গাগুলো বন্ধ করতে এবং বাতাসে ভেসে আসা বলগুলো ঠেকাতে আমরা পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কারণ গোল পাওয়ার ঠিক পরেই, কোনো বদলি খেলোয়াড় নামানোর আগেই, আমরা প্রতিপক্ষকে প্রচুর ক্রস এবং গোল করার সুযোগ দিচ্ছিলাম। আমরা দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি মাত্র, তবে স্বভাবতই এর দায় কোচের ওপরেই বর্তায়। আর ফল ভালো না হলে এটা ভুল ছিল বলাটা খুব সহজ।’