যশোরের মণিরামপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর মহাসিন মোল্যা (২৩) নামে এক ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির দিকে অভিযোগের তীর উঠেছে।
২৩শে জুলাই, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পারখাজুরা বাঁওড়ের রামপুর ঘাট সংলগ্ন বাঁশঝাড়ের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মহাসিন উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের চালুয়াহাটি গ্রামের জাহেদ মোল্যার ছেলে। তিনি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
২০২৪-এর ৫ই আগস্টের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা কয়েক দফায় মহসিনের কাছ থেকে চাঁদা চেয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের হাত থাকতে পারে বলে দাবি করেন এলাকার লোকজন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মহাসিন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
স্বজনদের ধারণা, দুর্বৃত্তরা মহাসিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ও সঙ্গে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ পারখাজুরা বাঁওড়ে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে মরদেহটি ভেসে এসে রামপুর ঘাটের একটি বাঁশঝাড়ে আটকে যায়।
নিহতের বড় ভাই মিলন মোল্যা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে মহাসিন ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিল। সন্ধ্যার আগে শয়লা বাজারে ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। তখন ও আমাকে বলেছিল ‘একটা বড় ভাড়া ধরে আসি।’ এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও না পেয়ে বুধবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।
আজ সকালে বাড়ি থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে রামপুর ঘাট এলাকায় বাঁওড়ে ভাইয়ের মরদেহ ভেসে থাকার সংবাদ পাই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, খবর পেয়ে পারখাজুরা বাঁওড় থেকে নিখোঁজ ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ফুলে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের স্পষ্ট কোনো চিহ্ন বোঝা যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত ভ্যানটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।