ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি কালভার্টের সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে।
এতে প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি এত অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দায়িত্বশীলদের গাফিলতি ও নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র এবং বিএডিসি কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের মালুহার এলাকায় সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় দিনাজপুরের রামনগর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তারমিন এন্টারপ্রাইজ। পরে প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণকাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সাব-ঠিকাদার হিসেবে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসানকে দেয়।
প্রকল্পটির কাজ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হয়ে জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ সম্পন্ন হতে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময় লাগে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের প্রায় পুরো অর্থ, প্রায় ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, বিল হিসেবে উত্তোলন করে নেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি দেবে গিয়ে ইট ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পথচারীরাও দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগে যথাযথভাবে মাটি ভরাট ও কম্প্যাকশন করা হয়নি। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মাটি বসে গিয়ে পুরো সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাদের আরও অভিযোগ, কালভার্টটির নির্মাণকাজেও প্রয়োজনীয় ফিনিশিং না দিয়ে কেবল রঙ করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।
একাধিক বাসিন্দা জানান, নির্মাণকাজ চলাকালেই তারা কাজের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এখন কয়েক মাসের মধ্যেই সড়ক ধসে পড়ায় তাদের আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে প্রকল্পটির সাব-ঠিকাদার এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এজাজ হাসান নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে।
তার দাবি, টানা বর্ষণের কারণে সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে বিএডিসি ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কী কারণে সংযোগ সড়ক ধসে পড়েছে, তা তদন্ত করা হবে।
নির্মাণকাজে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে প্রকল্পের প্রায় পুরো বিল উত্তোলন করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।