মেট্রোরেলে নাশকতার ২ বছর: সমন্বয়ক হাসিবের স্বীকারোক্তির পরও কেন দুই সরকারের আমলে হয়নি বিচার?

প্রকাশিতঃ জুলাই ২৬, ২০২৬ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলাদেশের আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রতীক এবং ডিজিটালাইজেশনের অন্যতম মাইলফলক ঢাকা মেট্রোরেলে নজিরবিহীন অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনার দুই বছর পার হলেও এখনো শুরু হয়নি কাঙ্ক্ষিত বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া। জুলাই ২০২৪-এ কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশনে সংগঠিত সেই ভয়াবহ নাশকতায় জড়িত রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসীরা আজও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় সুশীল সমাজ ও সাধারণ যাত্রীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল সময়ে সহিংসতাকারী ও সন্ত্রাসীরা মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই মাধ্যমটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বন্ধ হয়ে যায় যাত্রী সেবা। আন্দোলনকারীদের নাশকতার পর মেট্রোস্টেশনের ভেতরটা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তীতে ২৫শে জুলাই ২০২৪ তারিখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনটি পরিদর্শনের পর কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “জনগণের অর্থে নির্মিত সম্পদের ওপর এই হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।” কিন্তু ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের মেয়াদ দু’বছর অতিক্রান্ত হলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে কারা ছিল এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল—তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে ঘটনার দুই মাস পরেই। ২০২৪ সালের ২৬শে অক্টোবর বেসরকারি টেলিভিশন ‘ডিবিসি’-র টকশো ‘প্রযত্নে বাংলাদেশ’-এ অংশ নিয়ে সহিংসতার নেতৃত্ব দেওয়া অন্যতম সমন্বয়ক হাসিবুল ইসলাম অনক্যামেরা সশরীরে এই নাশকতার দায় স্বীকার করেন। আন্দোলনকারীদের নাশকতার পর মেট্রোস্টেশনের ভেতরটা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি সরাসরি বলেন, “যদি মেট্রোরেলে আগুন না দেওয়া হতো, যদি পুলিশদের না মারা হতো—তাহলে এই অর্জনটা এত সহজে অর্জিত হতো না। শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা যেত না।” একটি জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ্যে জাতীয় সম্পদে অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো গুরুতর অপরাধ স্বীকার করার পরও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস করা কোনো আন্দোলন হতে পারে না, এটি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এই স্বঘোষিত অপরাধী ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া আইনের শাসনের প্রতি এক বড় ধরনের উপহাস। সচেতন নাগরিকদের দাবি, দ্রুত এই নাশকতার পুনস্তদন্ত নিশ্চিত করে জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারী ও সহিংসতার মূল হোতাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে।