আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কাব্রালের সেই চমৎকার গোলটি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘টুর্নামেন্টের সেরা গোল’ নির্বাচিত হয়েছে। সোমবারে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়।
তুর্কি ক্লাব ট্র্যাবজনস্পরের এই ফুলব্যাক গত ৪ জুলাই মিয়ামিতে টুর্নামেন্টের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন মুহূর্তটি উপহার দেন। অতিরিক্ত সময়ে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক দুর্দান্ত বাঁকানো শটে এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। যার ফলে ম্যাচটি ২-২ সমতায় ফিরেছিল।
উজবেকিস্তানের এলদোর শোমুরোদোভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোরের আকর্ষণীয় গোলগুলোকে পেছনে ফেলে কাব্রালের শটটি সেরা গোলের মুকুট ছিনিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে তিনি ম্যাক্সি রদ্রিগেস, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেস, বেঞ্জামিন পাভার্ড এবং রিশার্লিসনের মতো তারকাদের তালিকায় যুক্ত হলেন।
সেই স্মরনীয় মুহূর্তটির কথা মনে করে কাব্রাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ওঠার পর আমি একটু ফাঁকা জায়গা দেখতে পাই এবং ভেবেছিলাম, ‘দেখা যাক একটা চেষ্টা করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। ওপরের কোণটি লক্ষ্য করে জোরালো শট নিয়েছিলাম। বলটি যখন জালে ঢুকে যাচ্ছে দেখলাম, নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! সবাই মাথার ওপর হাত দিয়ে চিৎকার করছিল।’
কাব্রাল বলেন, ‘আমি না ভেবেই দৌড়াতে শুরু করেছিলাম। তারপর উপলব্ধি করলাম, বিশ্বকাপে এত চমৎকার একটি গোল করেছি। বিশ্বকাপে গোল করার স্বপ্ন সবাই দেখে, কিন্তু এত বড় মঞ্চে এত বড় দলের বিরুদ্ধে এভাবে গোল করা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটিতে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় কেপ ভার্দে, তবুও গোলটি মিয়ামি স্টেডিয়ামে তৈরি করেছিল অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। আনন্দের আতিশয্যে গ্যালারির দিকে কাব্রাল যখন উদযাপনের জন্য দৌড়ে যান, তখন তার মা তেরেসা আবেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
কাব্রাল বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি আমার মা ও বান্ধবীকে বলেছিলাম, যদি গোল করি তবে তাদের দিকেই দৌড়ে যাব। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মা কাঁদছেন। আমি গোল করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় আমি যে সেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তা টেরই পাননি। সবাই তার দেখভাল করছিল।’
গোলটির পর শৈশবের অন্যতম আইডলের কাছ থেকেও প্রশংসা পান কাব্রাল।
২৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি মার্সেলোর একটি বার্তা পাই। তিনি আমার সবচেয়ে বড় আইডলদের একজন। মার্সেলো আমাকে জানান, তিনি আমার গোলটিকেই টুর্নামেন্টের সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন।’
কাব্রাল আরও জানান, ‘আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম, তিনি আমার খেলা দেখেছেন এতেই আমি কতটা সম্মানিত বোধ করছি তা বোঝাতে পারব না। তিনি উত্তরে লেখেন, ‘তোমার খেলা দেখে আনন্দ পেয়েছি। তুমি সত্যিই অসাধারণ।’ আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’