বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল শেষ হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই আন্তর্জাতিক রেফারিং ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন স্লাভকো ভিনচিচ। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঐতিহাসিক এই ফাইনাল পরিচালনা করার পর স্লোভেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ রেফারির অবসরের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনার ১-০ ব্যবধানে স্পেনের কাছে হারের পর ভিনচিচের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। মাঠে আর্জেন্টিনার শারীরিক আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়ন্ত্রণ না করা এবং নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মাথায় এঞ্জো ফার্নান্দেজকে লাল কার্ড দেখানোর বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
বিতর্ক থাকলেও বিশ্ব ফুটবলে তার অসামান্য অবদান প্রশংসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থা (IFFHS) তাকে এই বিশ্বকাপের সেরা রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘জুলিও কাম্পানাতো’ পুরস্কারও পান তিনি।
তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক:
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার: ২০১৯ সাল থেকে উয়েফার এলিট প্যানেলে থাকা ভিনচিচ ইউরো ২০২০-এর ম্যাচ পরিচালনা করেন। ২০২৪ ইউরোর স্পেন ও ইতালির মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটিও ছিল তার দায়িত্বে।
বিশ্বকাপের ম্যাচ: এবারের বিশ্বকাপে মোট চারটি ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি। মেক্সিকো ও ইকুয়েডরের ম্যাচে নতুন নিয়ম না মেনে মুখে হাত দিয়ে কথা বলার কারণে পিয়েরো হিনক্যাপিকে লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি আলোচনার জন্ম দেন।
ক্লাব ফুটবলের সেরা মুহূর্ত: ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে রিয়েল মাদ্রিদের রেকর্ড ১৫তম শিরোপা জয়ের ম্যাচটির প্রধান রেফারি ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২২ ইউরোপা লিগ ফাইনাল পরিচালনা করেন এবং ক্লাবগুলোর বিশেষ অনুরোধে প্রথম বিদেশি রেফারি হিসেবে তুরস্কের আলোচিত গ্যালাতাসারে ও ফেনেরবাচ ম্যাচ পরিচালনা করেন।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে সাফল্য ও বিতর্কের এক রঙিন অধ্যায় শেষ করে অবশেষে বাঁশি তুলে রাখলেন এই স্লোভেনিয়ান রেফারি।