ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নতুন ধারা বাংলাদেশ (এনডিবি) ও রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)-এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল চলতে থাকে।
সংঘর্ষে আহত নতুন ধারা বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি শান্তা ফারজানাসহ কয়েকজন চিকিৎসার জন্য ঢামেকে এলে সেখানে দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ সময় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, জরুরি বিভাগে হট্টগোলের খবর পেয়ে তিনি নিজেই সেখানে উপস্থিত হন।
চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের ঘটনা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতদের হাসপাতালে আনার পর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা হট্টগোল চলে।
এতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী ও তাদের স্বজনরা ভয়কর অবস্থার মধ্যে পড়েন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করেন শাহবাগ থানা পুলিশ। এসময় কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এদিকে ঘটনার জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। এসডিএফের দাবি, প্রেসক্লাবের কর্মসূচিতে জুলাইযোদ্ধা ও বিএনপিকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে নতুন ধারা বাংলাদেশের দাবি, তাদের কর্মসূচিতে এসডিএফের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন।
দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাজনৈতিক সংঘাত ও হট্টগোল শুধু চিকিৎসাসেবাই ব্যাহত করে না, রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশও বিঘ্নিত করে। হাসপাতাল কখনোই রাজনৈতিক বিরোধের স্থান হতে পারে না; এখানে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা।