ফের পিছিয়ে গেল রূপপুরের উৎপাদনের যাত্রা: আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে না পরমাণু বিদ্যুৎ

প্রকাশিতঃ আগস্ট ৭, ২০২৬ | ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

চলতি আগস্ট মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। তবে সেই লক্ষ্য এখন আর পূরণ হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স এখনও মেলেনি, আর এই লাইসেন্স ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব নয়। ফলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রথম বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সময় আরও পিছিয়ে গেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ২৮শে এপ্রিল থেকে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজনের কাজ শুরু হয়, এরপর জ্বালানি সংযোজন ও প্রাথমিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি হলো রিঅ্যাক্টরে—যেখানে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদন করা হয়—নিয়ন্ত্রিতভাবে বিক্রিয়া চালু করা, যাকে বলা হয় ‘ক্রিটিক্যালিটি’। এই ধাপে পৌঁছাতে হলে প্রথমে বায়েরার বি-২ কমিশনিং লাইসেন্স প্রয়োজন। রূপপুর প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনক্রমে জ্বালানি সংযোজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন বায়েরার চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স পেলেই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না, বরং প্রথমে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু করা হবে। এরপর আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান জানান, এই পর্যায়ের লাইসেন্স প্রদান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রকল্পের নিরাপত্তা, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল লাইসেন্স দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে এই অনুমোদন কবে নাগাদ মিলতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি। রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. শৌকত আকবরের ভাষ্য, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই বলেই প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার পরই পরবর্তী ধাপে যেতে হয়। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। এতে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে—অর্থাৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।