সরকারের প্রশাসনের শীর্ষ দুই গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদেরই ধরে রাখার আলোচনা চলছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে একই পদে রাখার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্য দিয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের বাইরে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের নির্ভরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের নিয়োগের প্রবণতা গত দুই বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও থামেনি। বরং নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একদিকে আগের সরকারের নিয়োগ দেওয়া কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল করেছে, অন্যদিকে নতুন করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে।
প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে থাকা নাসিমুল গনি ও এহছানুল হকের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তারা দুজনই ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনে ফিরেছেন।
আগস্টেই শেষ হওয়ার কথা ছিল চুক্তি
প্রশাসনের দুই শীর্ষ পদে থাকা এই দুই কর্মকর্তার দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ ১৬ই আগস্ট শেষ হওয়ার কথা ছিল। গত ৩০শে জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাগো নিউজ জানিয়েছিল, তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি তাদেরই রাখা হবে—এ নিয়ে প্রশাসনে আলোচনা চলছে। একই প্রতিবেদনে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং জনপ্রশাসন সচিব পদে নতুন মুখ আনার বিষয়টিও আলোচনায় থাকার কথা বলা হয়।
তবে এখন সরকারের একটি সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, অন্তত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত চাকরিতে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও সরকারের আস্থাভাজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতার প্রবণতাই জোরালো হচ্ছে।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ
চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের ওপর সরকারের নির্ভরতার চিত্র পাওয়া যায় সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোর দিকে তাকালেই। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া নয়জন সচিব ও সমপদমর্যাদার কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল করা হয়। একই সময়ে কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করা হয়।
এরপর মার্চে একটি মন্ত্রণালয় ও তিন বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সচিব নিয়োগ দেয় সরকার।
অর্থাৎ পুরোনো চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের একটি অংশকে সরিয়ে দেওয়ার পরও ব্যবস্থা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
জুন-জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিস্তার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে অন্তত ১৬ জন চুক্তিভিত্তিক সচিব দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেশির ভাগই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন।
নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষের বিষয়টিও সামনে এসেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের একটি অংশের বক্তব্য, একজন কর্মকর্তা নিয়মিত চাকরিতে থাকা অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও পদায়নের অপেক্ষায় থাকলেও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চুক্তিতে এনে একই বা তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
জুলাই মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে অসন্তোষের কথা উঠে আসে। সেখানে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, দীর্ঘদিন প্রশাসনের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রত্যাশা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলছে।
আরেক প্রতিবেদনে নিয়মিত ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে অস্বস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত কর্মকর্তাদের দূরত্বের কারণে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও উঠে এসেছে।
১৭৯ কর্মকর্তার পদোন্নতির পরও প্রশ্ন
সম্প্রতি প্রশাসনে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে ১৭৯ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এটি নতুন সরকারের আমলে প্রশাসনের প্রথম বড় পদোন্নতিগুলোর একটি।
তবে একই সময়ে শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের রাখা বা নতুন করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ, একদিকে নিয়মিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সচিব ও সিনিয়র সচিবের মতো নীতিনির্ধারণী পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে বহাল রাখা হচ্ছে।
এতে প্রশাসনের ভেতরে এমন ধারণা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে যে, পদোন্নতি পেলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তাদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা হচ্ছে না।
নাসিমুল গনির ক্ষেত্রে আস্থার ধারাবাহিকতা
নাসিমুল গনির প্রশাসনে ফেরার ইতিহাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০৯ সালে তাকে ওএসডি করা হয় এবং চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে অবসরে পাঠানো হয়। পরে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার কপাল খুলে যায়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তিনি আবার প্রশাসনে ফেরেন।
২০২৪ সালের ১৭ই আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত পাঁচ অতিরিক্ত সচিবকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মধ্যে নাসিমুল গনি ও এহছানুল হক ছিলেন। তখন নাসিমুল গনিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব এবং এহছানুল হককে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব করা হয়।
এরপর নাসিমুল গনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পান। ২০২৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি তাকে দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারি ওয়েবসাইটেও তার যোগদানের তারিখ ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং তাকে ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ অবসর নেওয়ার পর চুক্তিতে প্রশাসনে ফেরার দুই বছরের মধ্যেই তিনি প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন।
জনপ্রশাসন সচিবও চুক্তিভিত্তিক
অন্যদিকে মো. এহছানুল হকও একই ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের ১২ই অক্টোবর তাকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের আমলাতন্ত্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়। নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, অবসর ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ—প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে এ মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এই মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে একজন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তার অবস্থান প্রশাসনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটিকেও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এহছানুল হক এর আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব ছাড়াও বিআরটিএ ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর/প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সরকারের ব্যাখ্যা—অভিজ্ঞতার প্রয়োজন
তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ মানেই নিয়মিত কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থাহীনতা—সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো অবস্থান নেয়নি। বরং সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রয়োজন হলে সীমিত পরিসরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নতুন সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রয়োজন হতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার ঢালাওভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে চায় না এবং সাধারণত এক বছরের বেশি মেয়াদেও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।
এহছানুল হকও সাম্প্রতিক সময়ে বলেছেন, প্রশাসনে নিয়োগ, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা না বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
প্রশ্ন আস্থার, নাকি নিয়ন্ত্রণের?
প্রশাসন বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের নীতি বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ ও আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখতে চাইতেই পারে। বিশেষ করে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে যে ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আসে, সেখানে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করার যুক্তি রয়েছে।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়মিত ব্যবস্থার বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার আমলাতন্ত্রের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা, কর্মদক্ষতা ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে পদায়ন।
প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে একই সময়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের রাখা হলে সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। বিশেষ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা থাকলে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, সরকারের আস্থা অর্জনই পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি বড় একটি বিবেচনা।
সামনে আরও চুক্তির সম্ভাবনা
প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রবণতা যে এখনো শেষ হয়নি, সাম্প্রতিক বিভিন্ন নিয়োগ ও আলোচনাই তার প্রমাণ। জুলাই মাসে একাধিক জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনের আগে প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক সচিবের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা রয়েছে।
ফলে নাসিমুল গনি ও এহছানুল হকের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এই সিদ্ধান্ত শুধু দুজন কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; এটি সরকারের প্রশাসন পরিচালনার কৌশলেরও একটি ইঙ্গিত দেবে।
নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে শীর্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, নাকি অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চুক্তিতে রেখে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করা হবে—সেটিই এখন সচিবালয়ের বড় প্রশ্ন।
যদি চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়ে, তাহলে সরকারের প্রশাসন পরিচালনায় ‘আস্থাভাজন’ কর্মকর্তাদের গুরুত্ব বাড়ছে—এমন ধারণা আরও শক্তিশালী হবে। আর তাতে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়ে যে অসন্তোষ ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।