আজ সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার বাজারে মেসার্স সদের ট্রেডার্স নামক সার ও কীটনাশকের দোকানে পুলিশ ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণে নকল কীটনাশক তৈরি করার সময় মোঃ সদের আলী (৩৮), পিতা- মোঃ নজরুল ইসলাম, মাতা- সাবিয়া বেগম, গ্রাম- আতাহার, উপজেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত দোকান ও গোডাউন তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিকের বোতল, কীটনাশকের খালি প্যাকেট ও প্যাকেটজাত করার মেশিন জব্দ করা হয়। দোকান সংলগ্ন অন্য একটি গোডাউন হতে ৩০৭ বস্তা ইউরিয়া, ২৪৪ বস্তা এমওপি, ১৯ বস্তা ডিএপি ও ৩ বস্তা টিএসপি জব্দ করা হয়। দোকানের স্টক রেজিস্টার যাচাই করে প্রকৃত মজুদের সাথে রেজিস্টারের ব্যাপক পার্থক্য পাওয়া যায়। এছাড়া, আসামী পর্যাপ্ত পরিমাণ বিক্রয় রসিদ ও বিক্রয় রেজিস্টার প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। উল্লিখিত অপরাধসমূহের বিষয়ে জনাব সুনাইন বিন জামান, উপজেলা কৃষি অফিসার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের প্রসিকিউশনের প্রেক্ষিতে আসামি স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করায় আসামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় মোঃ সাবেদ আলিকে (৩৮) সর্বমোট ১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ টাকা) অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ (তিন) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত রাসায়নিক পদার্থসমূহ যথাযথ পদ্ধতিতে বিলিবন্দেজের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসার (আহবায়ক), উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর সমন্বয়ে গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিকে দায়িত্ব প্রদান করে উপজেলা কৃষি অফিসারের জিম্মায় প্রদান করা হয়। জব্দকৃত সার পরবর্তী দিন থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে যথাযথভাবে বিক্রয় করে বিক্রয় লব্ধ অর্থ দোকান মালিককে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মোঃ জিয়াউর রহমান, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, জামতাড়া ব্লক, ঝিলিম ইউনিয়নকে দায়িত্ব প্রদান করে তার জিম্মায় দেয়া হয়। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।