পরিবারের সবাই যখন চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে নতুন স্বজনের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন, ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে খালি বাড়িতে হানা দিয়েছে একদল মুখোশধারী ডাকাত। চুরিতে বাধা দিতে গিয়ে রড দিয়ে নির্মম পিটুনির শিকার হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা।
গত ২৬ আগস্ট, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের (৬২) বসতবাড়িতে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ের প্রসবজনিত কারণে পরিবারের সদস্যরা সবাই নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে গভীর রাতে ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র মুখোশধারী ডাকাত ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।
পাশের ঘর থেকে বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে যান প্রবীর ভট্টাচার্যের চাচা ও বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল ভট্টাচার্য (৭৮)। তবে তিনি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করতেই ডাকাত দল তাঁকে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রাখে।
নিপীড়নের শিকার অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্য জানান, “উঠোনে কয়েকজনকে দেখতে পেয়ে এগোতেই তারা আমাকে ধরে ফেলে এবং মারধর শুরু করে। ডাকাতি শেষে চলে যাওয়ার আগে আমাকে ছেড়ে দেয়। সবার মুখেই মুখোশ বাঁধা ছিল।”
পরবর্তীতে ডাকাত দল প্রবীর ভট্টাচার্যের পাকা ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং আলমারি ভেঙে তাণ্ডব চালায়। ভুক্তভোগী প্রবীর ভট্টাচার্য জানান, ডাকাতেরা ঘর থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ পৌনে আট লাখ (সাড়ে ৭ লাখ) টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে জমি কেনার উদ্দেশ্যে মাত্র দুদিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা ৪ লাখ টাকাও ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগেই এ চুরির ঘটনা ঘটে। জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”