বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত এ কেন্দ্রটি ওই অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৫ হাজার ৮৭১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পেয়েছে। আগের অর্থবছর (২০২৩-২৪) এর পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
অর্থাৎ এক বছরেই বেড়েছে ১ হাজার ৬০৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অথচ ওই সময়ে কেন্দ্রটির সক্ষমতার গড়ে মাত্র ৬৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে (৩১ শতাংশ অব্যবহৃত)।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আদানি পাওয়ার। ভারতের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় নির্মিত এ কেন্দ্রটির সক্ষমতার ৬১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে গত অর্থবছরে। অর্থাৎ ৩৯ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত ছিল। তারপরও আদানিকে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৫ হাজার ৪০৪ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
কেন এত বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ?
ক্যাপাসিটি চার্জ হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ উসুলের জন্য দেওয়া নির্দিষ্ট অর্থ। চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্র চালু থাকলেই এটি দিতে হয়—বিদ্যুৎ কেনা হোক বা না হোক।
আদানির ক্ষেত্রে গড্ডা কেন্দ্রের সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য অংশ (৩৯ শতাংশ) অব্যবহৃত থাকার পরও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির শর্ত অনুসরণ করে পূর্ণ বা কাছাকাছি সক্ষমতায় বিদ্যুৎ কিনতে না পারার কারণেই এই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেমেন্ট সংকট, শীতকালে চাহিদা কমে যাওয়া এবং উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ কম কেনার কৌশলের কারণে ব্যবহার ৬১ শতাংশে নেমে আসে।
পায়রা কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অব্যবহৃত থাকার কারনে ক্যাপাসিটি চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো পর্যালোচনা চলছে। সমালোচকরা বলছেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ কিনতে ব্যর্থতাই ক্যাপাসিটি চার্জের মূল কারণ।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মৌসুমি চাহিদা, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় কেনা সম্ভব হয় না। তবে চুক্তি অনুযায়ী অব্যবহৃত সক্ষমতার জন্যও অর্থ দিতে হয়—এটিই বর্তমান বাস্তবতা।
বিপিডিবির তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে মোট ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ রেকর্ড ছুঁয়েছে। পায়রা ও আদানির মতো বড় কেন্দ্রগুলোতেই এর সিংহভাগ চলে গেছে। এই খরচ কমানোর জন্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও সক্ষমতা ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।