চাকরি বাঁচাতে এরপর কি বাঁশ চাষ - ডোনেট বাংলাদেশ

চাকরি এক মহার্ঘ বস্তু। যার নেই সে-ই শুধু বোঝে। চাকরি বাঁচানোও বেশ কঠিন কাজ। দেশে এরই মধ্যে চাকরি বাঁচানোর জন্য আখ চাষে বাধ্য করার খবর শোনা গেছে। আচ্ছা, চাকরি বাঁচাতে এরপর কি আমাদের বাঁশ চাষেও বাধ্য করা হবে?

চাকরি এমন এক জিনিস, যা রুটি-রুজির জন্য এ দেশে অনেকের প্রয়োজন। চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন চাকরি রক্ষা করা। এ অনেকটা স্বাধীনতার মতো। বিজ্ঞজনেরা বলেন, চাকরি নাকি মানুষকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দেয়, স্বাবলম্বী করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু চাকরিতে ঢোকার কিছু মাসের মধ্যে কেন মানুষ নিজেকে ‘চাকর’ বলে পরিচিতি দেয়?

এর কারণ এই খবরের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের পত্রিকার খবরে প্রকাশ, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেডে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রাখতে বিস্ময়কর এক উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাঁচামালের সংকট কাটাতে কর্মীদের দিয়েই আখ চাষ করানো হচ্ছে। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জমি লিজ নিয়েও আখ চাষ করছেন অনেকে। বলা হচ্ছে, নানামুখী সংকটে সঙিন ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেড। একদিকে আছে অব্যাহত লোকসান, অন্যদিকে আছে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের অপ্রতুলতা। সব মিলিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। আর সেই লেজের গোবর সরাতে এখন কর্মীদের ঘাড়ে ভর করেছে আখ চাষের বাধ্যবাধকতা।

আখ চাষ যেহেতু শুরু হয়েই গেছে, দেশের আপামর চাকরিজীবী এখন আশঙ্কা করতেই পারেন যে, ‘এই বুঝি বাঁশ চাষও এল!’ আমরা প্রায়ই শুনি এ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। উন্নতি করতে হলে সৃষ্টিশীলতার ছিটেফোঁটা লাগেই। চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে বাধ্য করার বিষয়টি কিন্তু সৃষ্টিশীল। এ নিয়ে বাজে তর্ক কেউ করতে পারবেন না। এখন দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যদি সৃষ্টিশীল হতে গিয়ে বাঁশ চাষ শুরু করেই দেন, তবে?

বাংলায় একটা আপ্তবাক্য আছে, ‘তিল থেকে তাল’। ওহ, এ কথা বলতে গিয়েই গোপাল ভাঁড়ের একটি গল্প মনে পড়ে গেল। প্রচলিত আছে, একদা তিলের নাড়ু বানাবার জন্য এক হাঁড়ি তিল কিনে এনেছিল গোপাল। কোনো এক কারণে নাড়ু আর বানানো হয়নি। আবার হাঁড়িটিও গেছে হারিয়ে। এদিকে তিলের নাড়ু খাওয়ার অপেক্ষায় আছে গোপাল। তার স্ত্রী বুঝতে পারল, এখন যদি তিলের হাঁড়ি খোয়া যাওয়ার খবর গোপালের কানে যায়, তবে হুলুস্থুল হবে। তাই বকা থেকে বাঁচতে গোপালের স্ত্রী তিলের নাড়ুর বদলে বানিয়ে ফেলল তালের বড়া। পাতে তা দেখে গোপালের ‘টিনের চালে কাক, আমি তো অবাক’ অবস্থা। গোপালের প্রশ্ন, ‘তিলের নাড়ু কই? এ তো দেখছি তালের বড়া!’ গোপালের স্ত্রীও কম যায় না। তার জবাব, ‘তিল থেকেই তো তাল হয় গো!’

এখন তিল থেকে যদি তাল হতে পারে, তবে আখ কি বাঁশে ‘কনভার্ট’ হতে পারে না?

এ দেশে অনেক কিছুই সম্ভব। কোনো কিছুই একেবারে ‘হতেই পারে না’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও অভিজ্ঞ চাকরিজীবীরা প্রতিবাদ করে বলতেই পারেন, ‘চাকরির অপর নামই বাঁশ!’ কেউ এমন বললে তাকে ‘চূড়ান্ত হতাশাবাদী’ ট্যাগ দিয়ে দিতে পারেন অনেকেই। তখন হয়তো ওই ব্যক্তি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দেবেন। বলবেন, ‘একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, চাকরি করতে গিয়ে বাঁশ কখনো খাননি?’

এমন উত্তাল আক্রমণের মুখে তখন কি পারবেন নির্দ্বিধায় ‘না’ বলতে? বুকে চিনচিন করবে না তো?

চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাচাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
যদি ‘বুক চিনচিন করছে হায়…’ অবস্থা হয়েই যায়, তবে বুঝবেন বাঁশের চাষে আপনার সাফল্য অবধারিত এবং কখনো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না। কারণ, বাঙালি অতিথি ও বন্ধুবৎসল বলে খ্যাত। কেউ কিছু খাওয়ালে, পাল্টা কিছু খাওয়ানোর আগ্রহও তাঁর থাকে। বাঁশের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা তেমনই।

অতএব, ভয়, আশঙ্কা—এসব শব্দগুচ্ছ মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বাঙালি বাঁশ চাষে বিফল হবে, এ কখনো হয়?

পরিশেষে একটি ছোট্ট টিপস। কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে যদি বাঁশ চাষ করতে যান কখনো, তবে খেয়াল রাখবেন প্লিজ—বাঁশের চেয়ে যেন কঞ্চি বড় হয়ে না যায়!

চাকরি এক মহার্ঘ বস্তু। যার নেই সে-ই শুধু বোঝে। চাকরি বাঁচানোও বেশ কঠিন কাজ। দেশে এরই মধ্যে চাকরি বাঁচানোর জন্য আখ চাষে বাধ্য করার খবর শোনা গেছে। আচ্ছা, চাকরি বাঁচাতে এরপর কি আমাদের বাঁশ চাষেও বাধ্য করা হবে?

চাকরি এমন এক জিনিস, যা রুটি-রুজির জন্য এ দেশে অনেকের প্রয়োজন। চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন চাকরি রক্ষা করা। এ অনেকটা স্বাধীনতার মতো। বিজ্ঞজনেরা বলেন, চাকরি নাকি মানুষকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দেয়, স্বাবলম্বী করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু চাকরিতে ঢোকার কিছু মাসের মধ্যে কেন মানুষ নিজেকে ‘চাকর’ বলে পরিচিতি দেয়?

এর কারণ এই খবরের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের পত্রিকার খবরে প্রকাশ, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেডে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রাখতে বিস্ময়কর এক উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাঁচামালের সংকট কাটাতে কর্মীদের দিয়েই আখ চাষ করানো হচ্ছে। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জমি লিজ নিয়েও আখ চাষ করছেন অনেকে। বলা হচ্ছে, নানামুখী সংকটে সঙিন ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেড। একদিকে আছে অব্যাহত লোকসান, অন্যদিকে আছে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের অপ্রতুলতা। সব মিলিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। আর সেই লেজের গোবর সরাতে এখন কর্মীদের ঘাড়ে ভর করেছে আখ চাষের বাধ্যবাধকতা।

আখ চাষ যেহেতু শুরু হয়েই গেছে, দেশের আপামর চাকরিজীবী এখন আশঙ্কা করতেই পারেন যে, ‘এই বুঝি বাঁশ চাষও এল!’ আমরা প্রায়ই শুনি এ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। উন্নতি করতে হলে সৃষ্টিশীলতার ছিটেফোঁটা লাগেই। চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে বাধ্য করার বিষয়টি কিন্তু সৃষ্টিশীল। এ নিয়ে বাজে তর্ক কেউ করতে পারবেন না। এখন দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যদি সৃষ্টিশীল হতে গিয়ে বাঁশ চাষ শুরু করেই দেন, তবে?

বাংলায় একটা আপ্তবাক্য আছে, ‘তিল থেকে তাল’। ওহ, এ কথা বলতে গিয়েই গোপাল ভাঁড়ের একটি গল্প মনে পড়ে গেল। প্রচলিত আছে, একদা তিলের নাড়ু বানাবার জন্য এক হাঁড়ি তিল কিনে এনেছিল গোপাল। কোনো এক কারণে নাড়ু আর বানানো হয়নি। আবার হাঁড়িটিও গেছে হারিয়ে। এদিকে তিলের নাড়ু খাওয়ার অপেক্ষায় আছে গোপাল। তার স্ত্রী বুঝতে পারল, এখন যদি তিলের হাঁড়ি খোয়া যাওয়ার খবর গোপালের কানে যায়, তবে হুলুস্থুল হবে। তাই বকা থেকে বাঁচতে গোপালের স্ত্রী তিলের নাড়ুর বদলে বানিয়ে ফেলল তালের বড়া। পাতে তা দেখে গোপালের ‘টিনের চালে কাক, আমি তো অবাক’ অবস্থা। গোপালের প্রশ্ন, ‘তিলের নাড়ু কই? এ তো দেখছি তালের বড়া!’ গোপালের স্ত্রীও কম যায় না। তার জবাব, ‘তিল থেকেই তো তাল হয় গো!’

এখন তিল থেকে যদি তাল হতে পারে, তবে আখ কি বাঁশে ‘কনভার্ট’ হতে পারে না?

এ দেশে অনেক কিছুই সম্ভব। কোনো কিছুই একেবারে ‘হতেই পারে না’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও অভিজ্ঞ চাকরিজীবীরা প্রতিবাদ করে বলতেই পারেন, ‘চাকরির অপর নামই বাঁশ!’ কেউ এমন বললে তাকে ‘চূড়ান্ত হতাশাবাদী’ ট্যাগ দিয়ে দিতে পারেন অনেকেই। তখন হয়তো ওই ব্যক্তি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দেবেন। বলবেন, ‘একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, চাকরি করতে গিয়ে বাঁশ কখনো খাননি?’

এমন উত্তাল আক্রমণের মুখে তখন কি পারবেন নির্দ্বিধায় ‘না’ বলতে? বুকে চিনচিন করবে না তো?

চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাচাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
যদি ‘বুক চিনচিন করছে হায়…’ অবস্থা হয়েই যায়, তবে বুঝবেন বাঁশের চাষে আপনার সাফল্য অবধারিত এবং কখনো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না। কারণ, বাঙালি অতিথি ও বন্ধুবৎসল বলে খ্যাত। কেউ কিছু খাওয়ালে, পাল্টা কিছু খাওয়ানোর আগ্রহও তাঁর থাকে। বাঁশের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা তেমনই।

অতএব, ভয়, আশঙ্কা—এসব শব্দগুচ্ছ মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বাঙালি বাঁশ চাষে বিফল হবে, এ কখনো হয়?

পরিশেষে একটি ছোট্ট টিপস। কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে যদি বাঁশ চাষ করতে যান কখনো, তবে খেয়াল রাখবেন প্লিজ—বাঁশের চেয়ে যেন কঞ্চি বড় হয়ে না যায়!

চাকরি বাঁচাতে এরপর কি বাঁশ চাষ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১:৫২ 36 ভিউ

চাকরি এক মহার্ঘ বস্তু। যার নেই সে-ই শুধু বোঝে। চাকরি বাঁচানোও বেশ কঠিন কাজ। দেশে এরই মধ্যে চাকরি বাঁচানোর জন্য আখ চাষে বাধ্য করার খবর শোনা গেছে। আচ্ছা, চাকরি বাঁচাতে এরপর কি আমাদের বাঁশ চাষেও বাধ্য করা হবে? চাকরি এমন এক জিনিস, যা রুটি-রুজির জন্য এ দেশে অনেকের প্রয়োজন। চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন চাকরি রক্ষা করা। এ অনেকটা স্বাধীনতার মতো। বিজ্ঞজনেরা বলেন, চাকরি নাকি মানুষকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দেয়, স্বাবলম্বী করে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু চাকরিতে ঢোকার কিছু মাসের মধ্যে কেন মানুষ নিজেকে ‘চাকর’ বলে পরিচিতি দেয়? এর কারণ এই খবরের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের পত্রিকার খবরে প্রকাশ, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেডে উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রাখতে বিস্ময়কর এক উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কাঁচামালের সংকট কাটাতে কর্মীদের দিয়েই আখ চাষ করানো হচ্ছে। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে জমি লিজ নিয়েও আখ চাষ করছেন অনেকে। বলা হচ্ছে, নানামুখী সংকটে সঙিন ঠাকুরগাঁও সুগার মিল লিমিটেড। একদিকে আছে অব্যাহত লোকসান, অন্যদিকে আছে আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের অপ্রতুলতা। সব মিলিয়ে একেবারে লেজেগোবরে অবস্থা। আর সেই লেজের গোবর সরাতে এখন কর্মীদের ঘাড়ে ভর করেছে আখ চাষের বাধ্যবাধকতা। আখ চাষ যেহেতু শুরু হয়েই গেছে, দেশের আপামর চাকরিজীবী এখন আশঙ্কা করতেই পারেন যে, ‘এই বুঝি বাঁশ চাষও এল!’ আমরা প্রায়ই শুনি এ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। উন্নতি করতে হলে সৃষ্টিশীলতার ছিটেফোঁটা লাগেই। চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে বাধ্য করার বিষয়টি কিন্তু সৃষ্টিশীল। এ নিয়ে বাজে তর্ক কেউ করতে পারবেন না। এখন দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ যদি সৃষ্টিশীল হতে গিয়ে বাঁশ চাষ শুরু করেই দেন, তবে? বাংলায় একটা আপ্তবাক্য আছে, ‘তিল থেকে তাল’। ওহ, এ কথা বলতে গিয়েই গোপাল ভাঁড়ের একটি গল্প মনে পড়ে গেল। প্রচলিত আছে, একদা তিলের নাড়ু বানাবার জন্য এক হাঁড়ি তিল কিনে এনেছিল গোপাল। কোনো এক কারণে নাড়ু আর বানানো হয়নি। আবার হাঁড়িটিও গেছে হারিয়ে। এদিকে তিলের নাড়ু খাওয়ার অপেক্ষায় আছে গোপাল। তার স্ত্রী বুঝতে পারল, এখন যদি তিলের হাঁড়ি খোয়া যাওয়ার খবর গোপালের কানে যায়, তবে হুলুস্থুল হবে। তাই বকা থেকে বাঁচতে গোপালের স্ত্রী তিলের নাড়ুর বদলে বানিয়ে ফেলল তালের বড়া। পাতে তা দেখে গোপালের ‘টিনের চালে কাক, আমি তো অবাক’ অবস্থা। গোপালের প্রশ্ন, ‘তিলের নাড়ু কই? এ তো দেখছি তালের বড়া!’ গোপালের স্ত্রীও কম যায় না। তার জবাব, ‘তিল থেকেই তো তাল হয় গো!’ এখন তিল থেকে যদি তাল হতে পারে, তবে আখ কি বাঁশে ‘কনভার্ট’ হতে পারে না? এ দেশে অনেক কিছুই সম্ভব। কোনো কিছুই একেবারে ‘হতেই পারে না’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও অভিজ্ঞ চাকরিজীবীরা প্রতিবাদ করে বলতেই পারেন, ‘চাকরির অপর নামই বাঁশ!’ কেউ এমন বললে তাকে ‘চূড়ান্ত হতাশাবাদী’ ট্যাগ দিয়ে দিতে পারেন অনেকেই। তখন হয়তো ওই ব্যক্তি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে দেবেন। বলবেন, ‘একবার বুকে হাত দিয়ে বলুন তো, চাকরি করতে গিয়ে বাঁশ কখনো খাননি?’ এমন উত্তাল আক্রমণের মুখে তখন কি পারবেন নির্দ্বিধায় ‘না’ বলতে? বুকে চিনচিন করবে না তো? চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাচাকরি বাঁচাতে আখ চাষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি ‘বুক চিনচিন করছে হায়…’ অবস্থা হয়েই যায়, তবে বুঝবেন বাঁশের চাষে আপনার সাফল্য অবধারিত এবং কখনো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে আপনি ঘাবড়ে যাবেন না। কারণ, বাঙালি অতিথি ও বন্ধুবৎসল বলে খ্যাত। কেউ কিছু খাওয়ালে, পাল্টা কিছু খাওয়ানোর আগ্রহও তাঁর থাকে। বাঁশের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা তেমনই। অতএব, ভয়, আশঙ্কা—এসব শব্দগুচ্ছ মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বাঙালি বাঁশ চাষে বিফল হবে, এ কখনো হয়? পরিশেষে একটি ছোট্ট টিপস। কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে যদি বাঁশ চাষ করতে যান কখনো, তবে খেয়াল রাখবেন প্লিজ—বাঁশের চেয়ে যেন কঞ্চি বড় হয়ে না যায়!

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: