বয়স ঠিক করব নাকি সাঁকো - ডোনেট বাংলাদেশ

মানুষের জীবনে নানা ধরনের সমস্যা থাকে। আপাতদৃষ্টিতে যার জীবন সুখের এবং সমস্যামুক্ত মনে হয়, তারও কিছু না কিছু ফ্যাসাদ থাকেই। কখনো কখনো সমস্যাগুলো এমন আকার ধারণ করে যে, কোন সমস্যা আগে সমাধান করা হবে, তা নিয়েই ধন্ধে পড়ে যেতে হয়। এই যেমন, দুটি খবর পড়ে এখন আমিও কিছুটা ঝামেলায় আছি যে, কোন সমস্যাটি আসলে বেশি গুরুতর?

বাংলায় এমন ‘হতভম্ব’ পরিস্থিতিকে মাঝেমধ্যে ‘ত্রিশঙ্কু’ বলে অভিহিত করা হয়। বিশ্বকবি একটি আনন্দঘন মুহূর্তকে উপলক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘…কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই…’। কিন্তু ছুটির আমেজের বদলে এখন একই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ছে অসহায়ের আর্তনাদ হিসেবে। আচ্ছা, বনে গেলে স্বস্তি মিলবে তো? এ দেশে বন-জঙ্গলের যে অবস্থা শুনি, তাতেও যে ঠিক আশ্বাস মেলে না।

কী কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি, চলুন তা জানা যাক। প্রথম খবরটি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের। সেখানে একটি খাল পার হওয়ার একমাত্র পথ ছিল বাঁশের সাঁকো। চার গ্রামের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে সেটিই ছিল অন্ধের যষ্ঠী। গ্রামের মানুষজন মিলে টাকাপয়সা তুলে ও সম্মিলিত শ্রম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপদে এক প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা নাকি রাতের আঁধারে সেতুটি ভেঙে ফেলেছে!

অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা অন্য রকম। কথা হলো, সাঁকো এবার ঠিক হবে কীভাবে? আবার গ্রামবাসীরা মেরামত করবেন? তা হতেই পারে। কেউ যখন সেতু তৈরির ব্যবস্থা এত দিনেও নেয়নি, তখন ভুক্তভোগীদের মেরামতে এগিয়ে আসা ছাড়া উপায় কি! যার মাথা, তারই তো ব্যথার ওষুধ খেতে হয়।

নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভে সাঁকো ভাঙার অভিযোগ
কিন্তু আবার কোনো ‘উৎসবমুখর’ নির্বাচনের পরপর সাঁকোটি যে সহিংসতার শিকার হবে না, তার গ্যারান্টি তো নেই। সে ক্ষেত্রে একটি কাজ করা যায়। নির্বাচন এলেই সাঁকোটি তুলে ফেলা যায়। ধরুন, প্রার্থীদেরও তখন সুবিধা। শূন্য স্থানে স্থায়ী সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিতে পারবেন, তা পূরণ হোক আর না হোক। আবার নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ ও দুঃখ ভোলার জন্য খালের পাড়ে বসে কাঁদতেও পারবেন। তখন না হয় একটি প্রতীকী সাঁকো খালের ওপর রাখা গেল। আহা, কিছু না ভাঙলে কি রাগ-দুঃখ কমে?

নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি প্রচলিত গল্প বলি। হোজ্জা নাকি একবার বন্ধুকে নিয়ে কিছু খাওয়ার জন্য এক দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে আর্থিক সংগতি কম থাকায় দুজনের দুই গ্লাস দুধের বদলে, দুজনের জন্য এক গ্লাস দুধ চাইলেন তাঁরা। দুধ আসার পর হোজ্জার বন্ধু গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ভাই, তুমি আগে অর্ধেকটা খেয়ে ফেল।’

হোজ্জা স্বাভাবিকভাবেই কারণ জানতে চাইলেন। বন্ধুর জবাব, ‘আমি চিনি ছাড়া দুধ খেতে পারি না। অথচ একজনের খাওয়ার মতোই চিনি আছে আমার কাছে। তাই তুমি অর্ধেকটা খেয়ে নিলে বাকিটা আমি চিনি দিয়ে খাব।’

এদিকে বন্ধুর কাছে চিনি না পেয়ে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মাথা হয়ে গেল গরম। বন্ধুকে শিক্ষা দিতে তিনি দুধের গ্লাসে লবণ ঢেলে দিলেন। বন্ধু তো অবাক। আর হোজ্জার উত্তর, ‘আমার ভাগ আমি লবণ দিয়ে খাচ্ছি। বাকিটা তুমি চিনি মিশিয়ে মিষ্টি করে খেও!’

আমাদের এখানে অবস্থা তেমনি। নিজে মিষ্টি না পেলে, অন্যের দুধে লবণ ঢেলে দেওয়াই রাগ দেখানোর উপায় যে!

শিশুটির বয়স ১০৭ বছর!শিশুটির বয়স ১০৭ বছর!
এবার দ্বিতীয় খবরে যাওয়া যাক। এটি অবশ্য অনেকটা রিপলিস বিলিভ ইট অর নটের মতো। আসলে খবরটা এমনই যে, রিপলিও ‘বিলিভ’ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আরে, শতবর্ষী শিশুর কথা কি তারাও শুনেছে এর আগে? কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা জাহান সেতুর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। জন্মসূত্রে তার প্রকৃত বয়স সাড়ে সাত বছরের কাছাকাছি। কিন্তু জন্মসনদে বয়স শতবর্ষ পার করে দিয়েছেন স্থানীয় পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা, বানিয়েছেন ১০৭ বছর! অথচ তার ইপিআই টিকাদান কার্ডেও জন্মের সাল লেখা আছে ২০১৪; ১৯১৪ নয়।

শুধু তা-ই নয়। ‘চোরের মার বড় গলা’—এই প্রবাদকে ব্যাখ্যাসহ প্রমাণ করতে এরপর পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা বলে দিয়েছেন, তাদের এই ভুল সংশোধন করতে হলে আদালতে মামলা করতে হবে। এরপর সংশোধনের জন্য পৌরসভায় আবেদন করতে হবে। বাঙালি যেকোনো কিছুতে ‘হাইকোর্ট’ দেখাতে পছন্দ করে বটে। তবে তার এমন চাক্ষুষ প্রমাণ বোধ হয় বিরল।

আচ্ছা, এখন কি সেতুকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে? বিশ্বের মধ্যে এমন শতবর্ষী শিশু আর কয়জন আছে! একটি বিষয় ভেবে দেখুন, এই দুই ঘটনায় হয়রানির শিকার দুই পক্ষের একটি সাঁকো, আরেকজন সেতু। কী অদ্ভুত মিল, তাই না? তবে কি এ বঙ্গে জড়-জীব—সবাই এমন গ্যাঁড়াকলেই আছে? হয়তো তাতেই দুই পারের সংযোগ আর সম্পূর্ণ হচ্ছে না।

এবার তবে ধন্ধ দূর করে দিন প্লিজ। আমরা বয়স ঠিক করায় মনোযোগ দেব, নাকি সাঁকো?

মানুষের জীবনে নানা ধরনের সমস্যা থাকে। আপাতদৃষ্টিতে যার জীবন সুখের এবং সমস্যামুক্ত মনে হয়, তারও কিছু না কিছু ফ্যাসাদ থাকেই। কখনো কখনো সমস্যাগুলো এমন আকার ধারণ করে যে, কোন সমস্যা আগে সমাধান করা হবে, তা নিয়েই ধন্ধে পড়ে যেতে হয়। এই যেমন, দুটি খবর পড়ে এখন আমিও কিছুটা ঝামেলায় আছি যে, কোন সমস্যাটি আসলে বেশি গুরুতর?

বাংলায় এমন ‘হতভম্ব’ পরিস্থিতিকে মাঝেমধ্যে ‘ত্রিশঙ্কু’ বলে অভিহিত করা হয়। বিশ্বকবি একটি আনন্দঘন মুহূর্তকে উপলক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘…কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই…’। কিন্তু ছুটির আমেজের বদলে এখন একই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ছে অসহায়ের আর্তনাদ হিসেবে। আচ্ছা, বনে গেলে স্বস্তি মিলবে তো? এ দেশে বন-জঙ্গলের যে অবস্থা শুনি, তাতেও যে ঠিক আশ্বাস মেলে না।

কী কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি, চলুন তা জানা যাক। প্রথম খবরটি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের। সেখানে একটি খাল পার হওয়ার একমাত্র পথ ছিল বাঁশের সাঁকো। চার গ্রামের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে সেটিই ছিল অন্ধের যষ্ঠী। গ্রামের মানুষজন মিলে টাকাপয়সা তুলে ও সম্মিলিত শ্রম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপদে এক প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা নাকি রাতের আঁধারে সেতুটি ভেঙে ফেলেছে!

অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা অন্য রকম। কথা হলো, সাঁকো এবার ঠিক হবে কীভাবে? আবার গ্রামবাসীরা মেরামত করবেন? তা হতেই পারে। কেউ যখন সেতু তৈরির ব্যবস্থা এত দিনেও নেয়নি, তখন ভুক্তভোগীদের মেরামতে এগিয়ে আসা ছাড়া উপায় কি! যার মাথা, তারই তো ব্যথার ওষুধ খেতে হয়।

নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভে সাঁকো ভাঙার অভিযোগ
কিন্তু আবার কোনো ‘উৎসবমুখর’ নির্বাচনের পরপর সাঁকোটি যে সহিংসতার শিকার হবে না, তার গ্যারান্টি তো নেই। সে ক্ষেত্রে একটি কাজ করা যায়। নির্বাচন এলেই সাঁকোটি তুলে ফেলা যায়। ধরুন, প্রার্থীদেরও তখন সুবিধা। শূন্য স্থানে স্থায়ী সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিতে পারবেন, তা পূরণ হোক আর না হোক। আবার নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ ও দুঃখ ভোলার জন্য খালের পাড়ে বসে কাঁদতেও পারবেন। তখন না হয় একটি প্রতীকী সাঁকো খালের ওপর রাখা গেল। আহা, কিছু না ভাঙলে কি রাগ-দুঃখ কমে?

নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি প্রচলিত গল্প বলি। হোজ্জা নাকি একবার বন্ধুকে নিয়ে কিছু খাওয়ার জন্য এক দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে আর্থিক সংগতি কম থাকায় দুজনের দুই গ্লাস দুধের বদলে, দুজনের জন্য এক গ্লাস দুধ চাইলেন তাঁরা। দুধ আসার পর হোজ্জার বন্ধু গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ভাই, তুমি আগে অর্ধেকটা খেয়ে ফেল।’

হোজ্জা স্বাভাবিকভাবেই কারণ জানতে চাইলেন। বন্ধুর জবাব, ‘আমি চিনি ছাড়া দুধ খেতে পারি না। অথচ একজনের খাওয়ার মতোই চিনি আছে আমার কাছে। তাই তুমি অর্ধেকটা খেয়ে নিলে বাকিটা আমি চিনি দিয়ে খাব।’

এদিকে বন্ধুর কাছে চিনি না পেয়ে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মাথা হয়ে গেল গরম। বন্ধুকে শিক্ষা দিতে তিনি দুধের গ্লাসে লবণ ঢেলে দিলেন। বন্ধু তো অবাক। আর হোজ্জার উত্তর, ‘আমার ভাগ আমি লবণ দিয়ে খাচ্ছি। বাকিটা তুমি চিনি মিশিয়ে মিষ্টি করে খেও!’

আমাদের এখানে অবস্থা তেমনি। নিজে মিষ্টি না পেলে, অন্যের দুধে লবণ ঢেলে দেওয়াই রাগ দেখানোর উপায় যে!

শিশুটির বয়স ১০৭ বছর!শিশুটির বয়স ১০৭ বছর!
এবার দ্বিতীয় খবরে যাওয়া যাক। এটি অবশ্য অনেকটা রিপলিস বিলিভ ইট অর নটের মতো। আসলে খবরটা এমনই যে, রিপলিও ‘বিলিভ’ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আরে, শতবর্ষী শিশুর কথা কি তারাও শুনেছে এর আগে? কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা জাহান সেতুর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। জন্মসূত্রে তার প্রকৃত বয়স সাড়ে সাত বছরের কাছাকাছি। কিন্তু জন্মসনদে বয়স শতবর্ষ পার করে দিয়েছেন স্থানীয় পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা, বানিয়েছেন ১০৭ বছর! অথচ তার ইপিআই টিকাদান কার্ডেও জন্মের সাল লেখা আছে ২০১৪; ১৯১৪ নয়।

শুধু তা-ই নয়। ‘চোরের মার বড় গলা’—এই প্রবাদকে ব্যাখ্যাসহ প্রমাণ করতে এরপর পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা বলে দিয়েছেন, তাদের এই ভুল সংশোধন করতে হলে আদালতে মামলা করতে হবে। এরপর সংশোধনের জন্য পৌরসভায় আবেদন করতে হবে। বাঙালি যেকোনো কিছুতে ‘হাইকোর্ট’ দেখাতে পছন্দ করে বটে। তবে তার এমন চাক্ষুষ প্রমাণ বোধ হয় বিরল।

আচ্ছা, এখন কি সেতুকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে? বিশ্বের মধ্যে এমন শতবর্ষী শিশু আর কয়জন আছে! একটি বিষয় ভেবে দেখুন, এই দুই ঘটনায় হয়রানির শিকার দুই পক্ষের একটি সাঁকো, আরেকজন সেতু। কী অদ্ভুত মিল, তাই না? তবে কি এ বঙ্গে জড়-জীব—সবাই এমন গ্যাঁড়াকলেই আছে? হয়তো তাতেই দুই পারের সংযোগ আর সম্পূর্ণ হচ্ছে না।

এবার তবে ধন্ধ দূর করে দিন প্লিজ। আমরা বয়স ঠিক করায় মনোযোগ দেব, নাকি সাঁকো?

নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১
১২:৫৭ অপরাহ্ণ
19 ভিউ

বয়স ঠিক করব নাকি সাঁকো

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ১২:৫৭ 19 ভিউ

মানুষের জীবনে নানা ধরনের সমস্যা থাকে। আপাতদৃষ্টিতে যার জীবন সুখের এবং সমস্যামুক্ত মনে হয়, তারও কিছু না কিছু ফ্যাসাদ থাকেই। কখনো কখনো সমস্যাগুলো এমন আকার ধারণ করে যে, কোন সমস্যা আগে সমাধান করা হবে, তা নিয়েই ধন্ধে পড়ে যেতে হয়। এই যেমন, দুটি খবর পড়ে এখন আমিও কিছুটা ঝামেলায় আছি যে, কোন সমস্যাটি আসলে বেশি গুরুতর? বাংলায় এমন ‘হতভম্ব’ পরিস্থিতিকে মাঝেমধ্যে ‘ত্রিশঙ্কু’ বলে অভিহিত করা হয়। বিশ্বকবি একটি আনন্দঘন মুহূর্তকে উপলক্ষ করে লিখেছিলেন, ‘...কী করি আজ ভেবে না পাই, পথ হারিয়ে কোন বনে যাই...’। কিন্তু ছুটির আমেজের বদলে এখন একই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ছে অসহায়ের আর্তনাদ হিসেবে। আচ্ছা, বনে গেলে স্বস্তি মিলবে তো? এ দেশে বন-জঙ্গলের যে অবস্থা শুনি, তাতেও যে ঠিক আশ্বাস মেলে না। কী কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি, চলুন তা জানা যাক। প্রথম খবরটি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের। সেখানে একটি খাল পার হওয়ার একমাত্র পথ ছিল বাঁশের সাঁকো। চার গ্রামের মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে সেটিই ছিল অন্ধের যষ্ঠী। গ্রামের মানুষজন মিলে টাকাপয়সা তুলে ও সম্মিলিত শ্রম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপদে এক প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা নাকি রাতের আঁধারে সেতুটি ভেঙে ফেলেছে! অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিজ্ঞতা অন্য রকম। কথা হলো, সাঁকো এবার ঠিক হবে কীভাবে? আবার গ্রামবাসীরা মেরামত করবেন? তা হতেই পারে। কেউ যখন সেতু তৈরির ব্যবস্থা এত দিনেও নেয়নি, তখন ভুক্তভোগীদের মেরামতে এগিয়ে আসা ছাড়া উপায় কি! যার মাথা, তারই তো ব্যথার ওষুধ খেতে হয়। নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভে সাঁকো ভাঙার অভিযোগ কিন্তু আবার কোনো ‘উৎসবমুখর’ নির্বাচনের পরপর সাঁকোটি যে সহিংসতার শিকার হবে না, তার গ্যারান্টি তো নেই। সে ক্ষেত্রে একটি কাজ করা যায়। নির্বাচন এলেই সাঁকোটি তুলে ফেলা যায়। ধরুন, প্রার্থীদেরও তখন সুবিধা। শূন্য স্থানে স্থায়ী সেতু তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা দিতে পারবেন, তা পূরণ হোক আর না হোক। আবার নির্বাচনে হেরে গেলে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ ও দুঃখ ভোলার জন্য খালের পাড়ে বসে কাঁদতেও পারবেন। তখন না হয় একটি প্রতীকী সাঁকো খালের ওপর রাখা গেল। আহা, কিছু না ভাঙলে কি রাগ-দুঃখ কমে? নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি প্রচলিত গল্প বলি। হোজ্জা নাকি একবার বন্ধুকে নিয়ে কিছু খাওয়ার জন্য এক দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে আর্থিক সংগতি কম থাকায় দুজনের দুই গ্লাস দুধের বদলে, দুজনের জন্য এক গ্লাস দুধ চাইলেন তাঁরা। দুধ আসার পর হোজ্জার বন্ধু গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ভাই, তুমি আগে অর্ধেকটা খেয়ে ফেল।’ হোজ্জা স্বাভাবিকভাবেই কারণ জানতে চাইলেন। বন্ধুর জবাব, ‘আমি চিনি ছাড়া দুধ খেতে পারি না। অথচ একজনের খাওয়ার মতোই চিনি আছে আমার কাছে। তাই তুমি অর্ধেকটা খেয়ে নিলে বাকিটা আমি চিনি দিয়ে খাব।’ এদিকে বন্ধুর কাছে চিনি না পেয়ে নাসিরুদ্দিন হোজ্জার মাথা হয়ে গেল গরম। বন্ধুকে শিক্ষা দিতে তিনি দুধের গ্লাসে লবণ ঢেলে দিলেন। বন্ধু তো অবাক। আর হোজ্জার উত্তর, ‘আমার ভাগ আমি লবণ দিয়ে খাচ্ছি। বাকিটা তুমি চিনি মিশিয়ে মিষ্টি করে খেও!’ আমাদের এখানে অবস্থা তেমনি। নিজে মিষ্টি না পেলে, অন্যের দুধে লবণ ঢেলে দেওয়াই রাগ দেখানোর উপায় যে! শিশুটির বয়স ১০৭ বছর!শিশুটির বয়স ১০৭ বছর! এবার দ্বিতীয় খবরে যাওয়া যাক। এটি অবশ্য অনেকটা রিপলিস বিলিভ ইট অর নটের মতো। আসলে খবরটা এমনই যে, রিপলিও ‘বিলিভ’ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আরে, শতবর্ষী শিশুর কথা কি তারাও শুনেছে এর আগে? কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা জাহান সেতুর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। জন্মসূত্রে তার প্রকৃত বয়স সাড়ে সাত বছরের কাছাকাছি। কিন্তু জন্মসনদে বয়স শতবর্ষ পার করে দিয়েছেন স্থানীয় পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা, বানিয়েছেন ১০৭ বছর! অথচ তার ইপিআই টিকাদান কার্ডেও জন্মের সাল লেখা আছে ২০১৪; ১৯১৪ নয়। শুধু তা-ই নয়। ‘চোরের মার বড় গলা’—এই প্রবাদকে ব্যাখ্যাসহ প্রমাণ করতে এরপর পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা বলে দিয়েছেন, তাদের এই ভুল সংশোধন করতে হলে আদালতে মামলা করতে হবে। এরপর সংশোধনের জন্য পৌরসভায় আবেদন করতে হবে। বাঙালি যেকোনো কিছুতে ‘হাইকোর্ট’ দেখাতে পছন্দ করে বটে। তবে তার এমন চাক্ষুষ প্রমাণ বোধ হয় বিরল। আচ্ছা, এখন কি সেতুকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে? বিশ্বের মধ্যে এমন শতবর্ষী শিশু আর কয়জন আছে! একটি বিষয় ভেবে দেখুন, এই দুই ঘটনায় হয়রানির শিকার দুই পক্ষের একটি সাঁকো, আরেকজন সেতু। কী অদ্ভুত মিল, তাই না? তবে কি এ বঙ্গে জড়-জীব—সবাই এমন গ্যাঁড়াকলেই আছে? হয়তো তাতেই দুই পারের সংযোগ আর সম্পূর্ণ হচ্ছে না। এবার তবে ধন্ধ দূর করে দিন প্লিজ। আমরা বয়স ঠিক করায় মনোযোগ দেব, নাকি সাঁকো?

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: