২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ - ডোনেট বাংলাদেশ

বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নদীমাতৃক এ দেশের গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদী ও বিল-বাওরে আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের। তাই প্রতি বছরের মতো বর্ণিল এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর ও গুজুরী গ্রামবাসীর।

এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদী, বেতিলা-মিতরা ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। থৈ থৈ জলে, ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম-বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে বিশাল বিস্তৃত বিলের বুকে নামে জনতার ঢল।

প্রত্যেক বছর প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনার ৫০টি বিভিন্ন ধরনের ছিবা, কেল্লা ও ছান্দি নৌকা অংশ নেয়। বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার থাকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, রঙিন টেলিভিশন।

নৌকাবাইচের ইতিহাস

জনশ্রুতি আছে, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে নৌকাবাইচের শুরু। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি দেখা যেত। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু। আরও জানা যায়, মানিকগঞ্জে বেশ কিছু জমিদার ছিলেন। এরা বছরে একটি দিন অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন এতে উল্লেখযোগ্য ছিল নৌকাবাইচ।

যেভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা বাদে অন্য কোনও জেলার সাথে মানিকগঞ্জ হতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই। তবে ঢাকা হতে মানিকগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে দেশের প্রায় ২১টি জেলার সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য জেলার পাটুরিয়া (আরিচা) ঘাট রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। তাই খুব সহজে মানিকগঞ্জ জেলায় আসতে পারবেন। গুলিস্তান হতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিআরটিসি ১০০ টাকা। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মানিকগঞ্জ সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা, ভিলেজ লাইন ৮০ টাকা। মতিঝিল থেকে একটি এসি বাস যাতায়াত করে, এসি লিংক মানিকগঞ্জ ২০০ টাকা। কেউ যদি সারা দিনের জন্য প্রাইভেটকারে আসতে চান, তাহলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হবে।

নৌকাবাইচ কখন হয়?

বর্ষা মৌসুম শেষে যখন নদীতে পানি কমতে শুরু করে তখন কালিগঙ্গা নদী এবং ধলেশ্বরী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদী দুটি মানিকগঞ্জ সদরে অবস্থিত।

যেখানে খাবেন

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বাইরে ভালো খাবারের খুব বেশি ব্যবস্থা নেই। সে ক্ষেত্রে আপনি বাসস্ট্যান্ডে নেমে সকালের নাশতা কিংবা ফিরতি পথে খাবার খেতে পারেন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। এটা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত। আরও বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেমন ফুড স্টেশনে ১৮০০, গাঙ রেস্টুরেন্ট, বেউথা অবস্থিত; এখানে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের খাবার পাবেন।

রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা

মানিকগঞ্জে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নেই। সে ক্ষেত্রে হাতেগোনা দু-একটি হোটেল রয়েছে, যেমন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নবীন হোটেল ইত্যাদি।

এ বছর যারা মিস করেছেন, আগামী বছর আপনাদের আমন্ত্রণ রইল মানিকগঞ্জে গিয়ে সরাসরি নৌকাবাইচ দেখার জন্য

বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নদীমাতৃক এ দেশের গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদী ও বিল-বাওরে আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের। তাই প্রতি বছরের মতো বর্ণিল এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর ও গুজুরী গ্রামবাসীর।

এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদী, বেতিলা-মিতরা ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। থৈ থৈ জলে, ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম-বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে বিশাল বিস্তৃত বিলের বুকে নামে জনতার ঢল।

প্রত্যেক বছর প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনার ৫০টি বিভিন্ন ধরনের ছিবা, কেল্লা ও ছান্দি নৌকা অংশ নেয়। বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার থাকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, রঙিন টেলিভিশন।

নৌকাবাইচের ইতিহাস

জনশ্রুতি আছে, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে নৌকাবাইচের শুরু। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি দেখা যেত। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু। আরও জানা যায়, মানিকগঞ্জে বেশ কিছু জমিদার ছিলেন। এরা বছরে একটি দিন অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন এতে উল্লেখযোগ্য ছিল নৌকাবাইচ।

যেভাবে যাবেন

রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা বাদে অন্য কোনও জেলার সাথে মানিকগঞ্জ হতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই। তবে ঢাকা হতে মানিকগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে দেশের প্রায় ২১টি জেলার সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য জেলার পাটুরিয়া (আরিচা) ঘাট রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। তাই খুব সহজে মানিকগঞ্জ জেলায় আসতে পারবেন। গুলিস্তান হতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিআরটিসি ১০০ টাকা। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মানিকগঞ্জ সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা, ভিলেজ লাইন ৮০ টাকা। মতিঝিল থেকে একটি এসি বাস যাতায়াত করে, এসি লিংক মানিকগঞ্জ ২০০ টাকা। কেউ যদি সারা দিনের জন্য প্রাইভেটকারে আসতে চান, তাহলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হবে।

নৌকাবাইচ কখন হয়?

বর্ষা মৌসুম শেষে যখন নদীতে পানি কমতে শুরু করে তখন কালিগঙ্গা নদী এবং ধলেশ্বরী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদী দুটি মানিকগঞ্জ সদরে অবস্থিত।

যেখানে খাবেন

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বাইরে ভালো খাবারের খুব বেশি ব্যবস্থা নেই। সে ক্ষেত্রে আপনি বাসস্ট্যান্ডে নেমে সকালের নাশতা কিংবা ফিরতি পথে খাবার খেতে পারেন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। এটা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত। আরও বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেমন ফুড স্টেশনে ১৮০০, গাঙ রেস্টুরেন্ট, বেউথা অবস্থিত; এখানে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের খাবার পাবেন।

রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা

মানিকগঞ্জে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নেই। সে ক্ষেত্রে হাতেগোনা দু-একটি হোটেল রয়েছে, যেমন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নবীন হোটেল ইত্যাদি।

এ বছর যারা মিস করেছেন, আগামী বছর আপনাদের আমন্ত্রণ রইল মানিকগঞ্জে গিয়ে সরাসরি নৌকাবাইচ দেখার জন্য

২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ নভেম্বর, ২০২১ | ৭:৩৯ 34 ভিউ

বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও শতবর্ষের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। নদীমাতৃক এ দেশের গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির সেই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদী ও বিল-বাওরে আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচের। তাই প্রতি বছরের মতো বর্ণিল এ নৌকাবাইচের আয়োজন করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর ও গুজুরী গ্রামবাসীর। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী নদী, বেতিলা-মিতরা ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মিলনস্থলে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। থৈ থৈ জলে, ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রাম-বাংলার গান আর মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছন্দ মাতিয়ে তোলে শান্ত জলের ঢেউকে। আর সেই তালে তাল মেলাতে বিশাল বিস্তৃত বিলের বুকে নামে জনতার ঢল। প্রত্যেক বছর প্রতিযোগিতায় মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনার ৫০টি বিভিন্ন ধরনের ছিবা, কেল্লা ও ছান্দি নৌকা অংশ নেয়। বিজয়ীদের জন্য পুরস্কার থাকে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ, রঙিন টেলিভিশন। নৌকাবাইচের ইতিহাস জনশ্রুতি আছে, জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে নৌকাবাইচের শুরু। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি দেখা যেত। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু। আরও জানা যায়, মানিকগঞ্জে বেশ কিছু জমিদার ছিলেন। এরা বছরে একটি দিন অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন এতে উল্লেখযোগ্য ছিল নৌকাবাইচ। যেভাবে যাবেন রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা বাদে অন্য কোনও জেলার সাথে মানিকগঞ্জ হতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নাই। তবে ঢাকা হতে মানিকগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে দেশের প্রায় ২১টি জেলার সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য জেলার পাটুরিয়া (আরিচা) ঘাট রাজধানী ঢাকার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত। তাই খুব সহজে মানিকগঞ্জ জেলায় আসতে পারবেন। গুলিস্তান হতে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিআরটিসি ১০০ টাকা। গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে মানিকগঞ্জ সেলফি, নীলাচল, শুভযাত্রা, ভিলেজ লাইন ৮০ টাকা। মতিঝিল থেকে একটি এসি বাস যাতায়াত করে, এসি লিংক মানিকগঞ্জ ২০০ টাকা। কেউ যদি সারা দিনের জন্য প্রাইভেটকারে আসতে চান, তাহলে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা খরচ হবে। নৌকাবাইচ কখন হয়? বর্ষা মৌসুম শেষে যখন নদীতে পানি কমতে শুরু করে তখন কালিগঙ্গা নদী এবং ধলেশ্বরী নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। নদী দুটি মানিকগঞ্জ সদরে অবস্থিত। যেখানে খাবেন মানিকগঞ্জ জেলা শহরের বাইরে ভালো খাবারের খুব বেশি ব্যবস্থা নেই। সে ক্ষেত্রে আপনি বাসস্ট্যান্ডে নেমে সকালের নাশতা কিংবা ফিরতি পথে খাবার খেতে পারেন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে। এটা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত। আরও বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেমন ফুড স্টেশনে ১৮০০, গাঙ রেস্টুরেন্ট, বেউথা অবস্থিত; এখানে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের খাবার পাবেন। রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা মানিকগঞ্জে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা খুব একটা ভালো নেই। সে ক্ষেত্রে হাতেগোনা দু-একটি হোটেল রয়েছে, যেমন রাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নবীন হোটেল ইত্যাদি। এ বছর যারা মিস করেছেন, আগামী বছর আপনাদের আমন্ত্রণ রইল মানিকগঞ্জে গিয়ে সরাসরি নৌকাবাইচ দেখার জন্য

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ: