সাফল্যের মাঝে বিতর্ক, আদালতে ছুটলেন ‘ধুরন্ধর’ নির্মাতা

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

বলিউডে একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছে ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ। রণবীর সিং অভিনীত এই সিনেমাটি মুক্তির মাত্র ১৬ দিনেই বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৫০০ কোটি রুপি আয় করে বক্স অফিসের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে এই সাফল্যের মাঝেই সামনে এসেছে বড়সড় বিতর্ক। পরিচালক সন্তোষ কুমার অভিযোগ করেছেন, তার সিনেমার চিত্রনাট্য চুরি করেই ‘ধুরন্ধর’ নির্মাণ করেছেন আদিত্য ধর। যদিও এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে আইনি পথে জবাব দিচ্ছেন ‘ধুরন্ধর’-এর নির্মাতা। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে সন্তোষ কুমার দাবি করেন, তিনি আদিত্য ধরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পরে জিও স্টুডিওস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে ‘বি৬২ স্টুডিওস’-এর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তার অভিযোগ, এরপর থেকেই প্রযোজনা পক্ষের কাছ থেকে তিনি বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। সন্তোষ কুমারের দাবি, তার ‘ডি-সাহেব’ ছবির চিত্রনাট্য থেকেই ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল গল্প নেওয়া হয়েছে। তার মতে, গল্পে একটি তরুণের পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং সেই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার লড়াই তুলে ধরা হয়েছে—যা তার কাজের সঙ্গে মিলে যায়। তবে পাল্টা যুক্তিতে বলা হচ্ছে, ‘ধুরন্ধর’ সম্পূর্ণভাবে আদিত্য ধরের মৌলিক সৃষ্টি। জানা গেছে, তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই স্ক্রিন রাইটার অ্যাসোসিয়েশন-এর কাছে চিত্রনাট্যটি নিবন্ধন করেন। অন্যদিকে, সন্তোষ কুমার নিজেই জানিয়েছেন, তার ‘ডি-সাহেব’ স্ক্রিপ্টটি নিবন্ধিত হয় একই বছরের নভেম্বর মাসে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই আইনি ব্যবস্থা নেন আদিত্য ধর। ইতোমধ্যে সন্তোষ কুমারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পরিচালক জানিয়েছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি আইনগতভাবেই লড়াই চালিয়ে যাবেন। সূত্র: দ্য ওয়াল

ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল-ছাত্রদল সংঘর্ষ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:৩৩ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মহাসড়কের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের দুপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় ৫০০টি দোকান উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজার নেতৃত্বে এই অভিযান চলাকালীন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলামের ছেলে যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিনাজের অনুসারীদের সাথে ছাত্রদল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের একটি পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। এতে যুবদলের তামিম নামের এক কর্মী গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। স্থানীয় সূত্র ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এসব ফুটপাত থেকে নির্দিষ্ট একটি পক্ষ চাঁদা আদায় করে আসছিল। উচ্ছেদ অভিযানের পর খালি জায়গার নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং পুনরায় দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের সুযোগ পেতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত ফুটপাতের চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তার ঘিরেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন সরকার বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে এসব ফুটপাত থেকে একপক্ষ ভাড়া ও চাঁদা আদায় করে আসছিল। উচ্ছেদের পর আরেকপক্ষ খালি জায়গা দখল করে ফের দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করার মিশনে নামেন। একসঙ্গে আরও দুটি গ্রুপ ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ নিয়েই মূলত এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মারামারিতে লিপ্ত হওয়ায় দু\'গ্রুপের নেতারা কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শমিত রাজা বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এই জায়গায় স্থাপনা গড়ে তুললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানে নারায়ণগঞ্জ সড়র ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান উল্লাহ মজুমদার, সহকারী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের গাজিপুর জিয়নের পুলিশ সুপার সিমা রানী সরকার, শিমরাইল ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই জুলহাস উদ্দিন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

নিজের জেন্ডার তথ্য গোপন, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:৩২ অপরাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় একটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার দপ্তরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম-আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয়ে পূর্বে পাঁচ সদস্যের একটি আংশিক কমিটি ছিল। সম্প্রতি সেটিকে ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রূপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির আগে জমা দেওয়া বায়োডাটায় রেদোয়ান ইসলাম নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে কমিটি ঘোষণার পর জানা যায়, তিনি জেন্ডার পরিবর্তন করেছেন। এ তথ্য গোপনের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে রেদোয়ান ইসলাম এক ভিডিও বার্তায় বলেন, তাকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজের দক্ষতার ভিত্তিতেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন এবং সে বিবেচনায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত এবং ব্যক্তির জেন্ডার নয়, দক্ষতাই মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত।

ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে ইরানি মিসাইলের ঢেউ

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:৩০ অপরাহ্ণ

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যেগুলো ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমান সংঘাতে ইরান একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক দফায় বা ওয়েভ (ঢেউ) আকারে এটা ছোড়া হয়েছে। এটা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলছে। সূত্র: আল জাজিরা

এক-এগারো সরকারের সঙ্গে ইউনূস সরকারের যোগসূত্র

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:২৯ অপরাহ্ণ

২০০৭ সালের এক-এগারোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা সমর্থন জানিয়েছিলেন এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলেও ক্ষমতাবান ছিলেন। যাঁরা দুই অনির্বাচিত সরকারের আমলেই ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, তাঁদের লক্ষ্যও ছিল এক ও অভিন্ন-গণতন্ত্র ধ্বংস, অর্থনীতি বিদেশনির্ভর এবং দেশকে বিদেশি শক্তির তাঁবেদার করা। এক-এগারোর অধরা নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য এঁরা গত ১৮ মাসেও ষড়যন্ত্র করেছেন। এঁরাই হলেন এক-এগারো এবং বিদায়ি অন্তর্র্বর্তী সরকারের যোগসূত্র। বিদায়ি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক- এগারোর অন্যতম সমর্থক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই এক-এগারো সরকার গঠিত হওয়ার কথা ছিল। অন্তর্র্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন এক-এগারোর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন কমিশনার ছিলেন। বিএনপি ভাঙার ক্ষেত্রে তিনিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার বিএনপিকে অযৌক্তিকভাবে তিনিই বৈধতা দিতে চেয়েছিলেন। ২০০৮-এর নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ইউনূস সরকারের সংস্কার কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এক-এগারোর অন্যতম কুশীলব। সেই সময়ও তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের নামে বিরাজনীতিকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ছাড়া সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অন্তত সাতজন অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যাঁরা এক-এগারোর সময় সক্রিয় ছিলেন। দুই সময়ই তাঁরা নির্বাচন ছাড়া দীর্ঘদিন সুশীল সরকারকে ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা করেছেন। এক-এগারোর সময় মাইনাস ফর্মুলার জনক দুই সম্পাদক অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময়ও পাদপ্রদীপে ছিলেন। ইউনূস যখন পদত্যাগের নাটক করলেন, তখন এঁদের একজন ড. ইউনূস সরকারের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করে কলাম লিখেছিলেন। এ দুই সুশীল সমাজের মুখপত্র দুটি সংবাদপত্র নির্বাচন না করে সংস্কারের পক্ষে ওকালতি করেছে গত দেড় বছর। ২০০৭ সালেও এ দুই সংবাদপত্র মাইনাস টু ফর্মুলার পক্ষে, ‘দুই নেত্রীকে সরে যেতেই হবে’ শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। রাজনীতিবিদদের চরিত্রহনন, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে এরা দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের পক্ষে একের পর এক অপপ্রচার চালায়। বিগত দেড় বছরও এরা রাজনীতি এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই এক-এগারোর ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এক-এগারোর সময় সেনাবাহিনীতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এর ফলে ২০০৭ সালে সংঘটিত বিরাজনীতিকরণ ষড়যন্ত্রের বিচার হবে বলে জনগণ আশা করছে। এ বিচার দেশের গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যতে অবৈধ ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এক-এগারো কেবল সেনাবাহিনীর একটি অংশের ষড়যন্ত্র ছিল না। এ ষড়যন্ত্রের মূল কুশীলব ছিল সুশীল সমাজের একটি গোষ্ঠী। এঁরাই এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতা দখল করেন। সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য তাঁদের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। এক-এগারোর এসব সুশীল ষড়যন্ত্রকারীকে এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক-এগারোর বিচার করতে হলে সুশীল সমাজের ভূমিকা তদন্ত করতেই হবে। কারা ছিলেন এক-এগারো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা? ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি ক্ষমতা দখলের আগে যাঁরা এ ধরনের একটি সরকারের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করেছিলেন, যাঁরা এ সরকারের রূপরেখা তৈরি করেছিলেন তাঁরা কারা? সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সুশীল সমাজের মুখপত্র দুটি সংবাদপত্র এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ ও কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ এ দেশে দীর্ঘমেয়াদি অনির্বাচিত সরকার গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেন। অনেকেই মনে করেন, এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্যই ২০০৬ সালে ড. ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তাঁর আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ’-এ বলেছেন, ইউনূস যেন নোবেল পুরস্কার পান সেজন্য তিনি সুপারিশ করেছিলেন। স্মরণ করা যেতে পারে, দেশিবিদেশি ষড়যন্ত্রে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত এবং সংঘাতপূর্ণ, ঠিক তখনই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নোবেল পুরস্কার দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশের জনগণের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হয়। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর রাজনীতিমুখী হয়ে ওঠেন ড. ইউনূস। ‘নাগরিক শক্তি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। দল গঠনে জনমত গড়ে তোলার জন্য ইউনূস তিনটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন। যার সব কটি ডেইলি স্টারে প্রকাশিত হয়েছিল। দেশের প্রধান দুটি দলের মুখোমুখি অবস্থানকে উসকে দিয়েছিল সুশীল সমাজের মুখপত্র সংবাদপত্র দুটি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন কোনো অবস্থাতেই সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারে সেজন্য একযোগে কাজ করে এ সংবাদপত্র দুটি এবং সুশীল সমাজের একটি অংশ। এভাবেই এক-এগারোর পটভূমি তৈরি করা হয়। এক-এগারো সরকারে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রথম পছন্দ ছিলেন ড. ইউনূস। সাবেক সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের গ্রন্থে পাওয়া যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য ড. ইউনূসকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু দুই বছর তাঁর লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট সময় নয়, এ যুক্তিতে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁর পরামর্শেই ফখরুদ্দীন আহমদকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হয়েছিল। অর্থাৎ ২০০৭ সাল থেকেই ড. ইউনূসের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার আকাক্সক্ষা ছিল। এজন্য অন্তর্র্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম ১০ মাস নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছিলেন। জনগণের চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। যেমন লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছিলেন ফখরুদ্দীন সরকার, তেমন দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়ার পর ইউনূসকে আন্তর্জাতিক মুরুব্বিদের পরামর্শে এবং চাপে নির্বাচন দিতে হয়। ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। কিন্তু তাঁদের দুই বছরের শাসনকালে বাংলাদেশ অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে গেছে। এঁদের অসম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র আবার জাগরিত হয় অন্তর্র্বর্তী সরকার আমলে। দেড় বছরে অন্তর্র্বর্তী সরকারও দেশ পরিচালনার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। ইউনূস সরকারও বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছে আরও ২০ বছর। লক্ষ করলে দেখা যায়, অন্তর্র্বর্তী সরকারের ভিতরে যাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিলেন, তাঁরা সবাই এক-এগারোরও কুশীলব ছিলেন। নির্বাচন নয়, আগে সংস্কার; জনগণ চায় আমরা আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকি; শুধু নির্বাচন দেওয়ার জন্য আমরা ক্ষমতায় বসিনি-এ কথাগুলো যাঁরা দেড় বছর বলেছেন, তাঁরা সবাই এক-এগারোর সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। এক-এগারোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁরা এবারও চেষ্টা করেছিলেন। এঁরা যদি আইনের আওতায় না আসেন তাহলে আবার গণতন্ত্রকে বিপদাপন্ন করার ষড়যন্ত্র করবেন। এঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার নিরাপদ নয়।

দেশ বাঁচাতে এগিয়ে আসুন সবাই

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:২৮ অপরাহ্ণ

দেশ আজ মহাসংকটে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের দুঃশাসনের কারণে দেশ যখন প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, ঠিক তখনই তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শুরু হয়েছে ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধে টালমাটাল গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশেও আছড়ে পড়েছে যুদ্ধের ঢেউ। তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সংকট। ফলে জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি এখন দুর্যোগের মুখে পড়েছে। এই সময়টা আমাদের জন্য ধৈর্যের, পরীক্ষার, সহনশীলতার, সংযমের এবং ঐক্যবদ্ধ থেকে সংকট মোকাবিলা করার। এখন বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আসন্ন সংকট মোকাবিলা করতে হবে। আমরা যদি বিভক্তির চোরাগলিতে আটকে যাই, তাহলে সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এমন এক কঠিন সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, যখন আমাদের অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা, রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা, স্বাস্থ্য খাতে গভীর সংকটের মুখোমুখি দেশ, শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সামনে এক কঠিন সময়। ইতোমধ্যে সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যয় সংকোচনমূলক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা যদি সবাই সচেতন না হই, দায়িত্বশীল আচরণ না করি তাহলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে গ্রীষ্মের আগেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। এটি সহনীয় রাখতে জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এবারের গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে গতকাল শনিবার সরকারি ছুটির দিনে সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট। ওই সময় লোডশেডিং হয়েছে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট। ঢাকা শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং বেশি। সামনে এই লোডশেডিং আরও বাড়বে। এ কারণেই আমাদের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সচেতন এবং দায়িত্বশীল হলেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। অযথা বিদ‍্যুতের অপচয় আমরাই কমাতে পারি। অপ্রয়োজনে লাইট, ফ্যান, এসি না চালিয়ে আমরাই সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগ একত্রিত করলে বড় ধরনের জ্বালানি সাশ্রয় হবে। জ্বালানি তেলের সংকট চলছে বেশকিছু দিন ধরে। এই সময়ে আমরা অনেকেই দায়িত্বহীন আচরণ করছি। নিজেদের স্বার্থের জন্য অবৈধভাবে তেল মজুত করছি। এর ফলে জ্বালানি তেলের সংকট যেমন আরও বাড়ছে তেমনি আমরাও নিজেদের ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছি। বাসাবাড়িতে এসব জ্বালানি তেলের মজুত যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অনেকেই সামান্য টাকার লোভে জ্বালানি তেল বিদেশে পাচার করার চেষ্টা করছে। এটা কেবল আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ নয়, এটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিক এটা করতে পারে না। যারা কিছু মুনাফার লোভে দেশের ক্ষতি করছেন তারা এখনই এসব বন্ধ করুন। নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো এসব অবৈধ পাচারকারী ও মজুতদারদের খুঁজে বের করা। তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করা। কারণ, দেশটা আমাদের সবার। এখন আমরা নিজেরাই জ্বালানি তেলের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে পারি। রাষ্ট্র একটা পরিবারের মতো। পরিবারে সংকট হলে সবাই যেমন একসাথে সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করি, সবাই একটু করে কষ্ট স্বীকার করি, খানিকটা ত‍্যাগ স্বীকার করি, তেমনি এই পরিস্থিতিতে সব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, কৃচ্ছ্রতার মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। এ কথা ঠিক গত দেড় বছর যদি দেশ ঠিকমতো পরিচালিত হতো তাহলে আজকের এই সংকট এতো গভীর হতো না। ইউনূস সরকার দেশকে রীতিমতো দেউলিয়া করে বিদায় নিয়েছে। বেসরকারি খাতকে বিপর্যস্ত করে ঋণের পর ঋণ করে দেশ চালিয়েছে ইউনূস সরকার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। আর জুনের শেষে বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত। অথচ ইউনূস সরকারের শাসনামলে হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লাখো শ্রমিক বেকার হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের। দেশের অর্থনীতি আজ কংকালসার। বিদেশি ঋণ আর প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশ চলেছে। এখন ইরান যুদ্ধ রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নতুন করে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বর্তমান সরকারের জন্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিদ‍্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ নেয়নি। দেশের স্বার্থবিরোধী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বোঝা। হামের টিকা না দিয়ে দেশের শিশুদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বিদায় নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। যে সংকট মোকাবিলায় এখন নির্বাচিত সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন অযৌক্তিক চুক্তি করে নতুন সরকারের হাত পা বেঁধে দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফলে সরকার দেশের স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতেও পারছে না। এভাবে সবক্ষেত্রে দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে চলে গেছেন ড. ইউনূস। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন এদেশের ছাত্র-জনতা। কিন্তু দেড় বছরে ড. ইউনূস এবং তার উপদেষ্টারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন। এই সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই পাহাড়সম সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশটা আমাদের সবার। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই, এখন আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, সাধারণ মানুষের সমস্যাই হবে সবচেয়ে বেশি।বিপন্ন হবে গণতন্ত্র। অদিতি করিম: লেখক ও নাট্যকার ইমেইল: auditekarim@gmail.com

রাতের মধ্যে ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:২৭ অপরাহ্ণ

ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলায় রাতের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া বজ্রপাতের পাশাপাশি বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুর থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে- রাতের মধ্যে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এবং সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড় বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এদিন দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে এই দুই দিনে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একইভাবে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাপমাত্রা সামান্য কমলেও বৃহস্পতিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে বড় পরিবর্তন

প্রকাশিতঃ এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ৬:২৬ অপরাহ্ণ

দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা) প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার প্রতিফলন নিশ্চিতে এখন থেকে কেন্দ্রীয় পরীক্ষাভিত্তিক পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে নিয়োগ দেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। রোববার (৫ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরীক্ষার ধরন ও বর্তমানে শূন্য থাকা ১২ হাজার ৯৫১টি পদের নিয়োগ কার্যক্রমের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে এনটিআরসিএ। আগামী ৭ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টায় এনটিআরসি চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠেয় ওই সংবাদ সম্মেলনে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত থেকে নতুন এই পদ্ধতির কর্মপরিকল্পনা ব্যাখ্যা করবেন। সেই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন তিনি।