দিনে গড়ে ৪১ জনের আত্মহত্যা

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১৩ হাজার ৪৯১ জন আত্মহত্যা করেছেন। গড়ে দিনে আত্মহননের সংখ্যা ৪১। ডিসেম্বর মাসের পরিসংখ্যান তৈরি না হওয়ায় তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় জাতীয় জরিপ (২০২২-২৩) করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। তারা বলছে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ২০ হাজার ৫০৫ জন আত্মহত্যা করেন। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেছেন ১৩ হাজার ৯২০ জন। সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন এমন নারী-পুরুষের ১০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে । স্বজনের আত্মহত্যার কারণ জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে। তারা জানান, ঘটনার পেছনে রয়েছে পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সংকট, আর্থিক, সামাজিক চাপ, মানসিক জটিলতা ও বিষণ্নতা। এরা কেউ মানসিক চাপ বা বিষণ্নতা কমাতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হননি। সর্বশেষ গতকাল সোমবার গাজীপুরের পুবাইলে রেলক্রসিংয়ে দুই সন্তানসহ ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ হাফেজা খাতুন মালা (৩৫)। গত ১৬ জানুয়ারি রাতে স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে রাজধানীর বড় মগবাজারে ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন গৃহবধূ শম্পা আক্তার রিভা (২৬)। গত ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি দুই দিনে রাজধানীতে অন্তত ছয়জন আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার আগ মুহূর্তে স্বামী সুমনের মোবাইল ফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন শম্পা আক্তার রিভা। তিনি বলেছেন, ‘সুমন, আজ কিন্তু আমার কোনো দোষ ছিল না। আমি হাসিখুশিতে ভাইয়াকে ভাত দিলাম। তুমি আমাকে শাউটিং (চিৎকার) করে কথা বললা। তোমার থেকে আমি মোবাইল চাইনি। আমি কিন্তু আইছি তোমার কাছ আশ্রয় নিয়ে। তুমি সবাইকে বলছো, আমি এটা করি, ওটা করি ...।’ মানসিক চাপ ও বিষণ্নতায় গত শনিবার খিলগাঁওয়ে শাহানুর রহমান (৪৪) নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা আত্মহত্যা করেন। তাঁর ভাই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রায় দুই মাস আগে শাহানুরের সঙ্গে স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়েছে। এ নিয়ে তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এ ছাড়া কিছু ব্যক্তিগত ঋণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মানসিক চাপে ছিলেন। শম্পা আক্তার রিভার স্বামী মো. সুমন দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী জেদি প্রকৃতির ছিলেন। সংসারে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক হলেও সেটি দীর্ঘ সময় মনের মধ্যে পুষে রাখতেন। শম্পার বাবা আকরাম হোসেন বলেন, সুমন ও শম্পা প্রেম করে বিয়ে করেছিল। এরপরও তাদের দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানুষ কখনও একটি কারণে আত্মহত্যা করে না। একাধিক কারণ দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের ভেতরে জমতে জমতে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়। মানুষের ব্যক্তিত্বও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা নিয়মকানুন মেনে চলে, দায়িত্ববোধে তাড়িত হয়ে সমাজের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে চায়– এ ধরনের মানুষের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।’ তিনি জানান, যখন মানসিক স্বাস্থ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন আত্মহত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। সময়মতো ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে আত্মহত্যা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। সম্পর্কজনিত বিরোধ ও পারিবারিক সংকট গত ১৭ জানুয়ারি রাতে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বাসায় কলেজ শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিম (১৯) আত্মহত্যা করেন। তিনি মিরপুর ইংলিশ ভার্সন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মিমের ভাই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তাঁর বোনের সঙ্গে সাত বছর ধরে এক তরুণের সম্পর্ক ছিল। এরই মধ্যে মিমের পাশাপাশি ওই তরুণ আরেক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিছুদিন আগে বিষয়টি মিম জানতে পারেন। তরুণীর সঙ্গে ওই ছেলের অন্তরঙ্গ একটি ছবি মিমের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেন। এসব মানতে পারেননি মিম। এ কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এর আগের দিন ১৬ জানুয়ারি ডেমরার পূর্ব বক্সনগরের ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক মোছা. কোহিনুর (৪০)। স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনুমানিক এক দশক আগে কোহিনুর ও ফারুক হোসেন দম্পতির একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া গ্রামের বাড়ি খুলনার কয়রায় আত্মহত্যা করেছিল। তখন সুমাইয়ার বয়স ১১ বছর। এক ছেলে মো. হাসান ও স্বামীকে নিয়ে সংসার ছিল তাদের। স্বামী দিনমজুর। কোহিনুরের ভাই মিজানুর যশোর থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যার কারণ জানি না। কোহিনুর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল, তখন তার মধ্যে কোনো বিষণ্নতা দেখতে পাইনি। ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় যায়। এরপর শুনি সে মারা গেছে। এমন কী হলো যে, ঢাকায় যাওয়ার একদিন পরই আত্মহত্যার পথ বেছে নিল?’ তিনি জানান, বহু বছর আগে তাঁর আরেক বোনও আত্মহত্যা করেছেন। কোহিনুরের স্বামী ফারুক হোসেনের দাবি, তাদের মধ্যে ওইদিন ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। স্ত্রীর আত্মহত্যার কারণ তিনি জানেন না দাবি করে বলেন, ‘আমি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গিয়েছিলাম। পরে বাসায় ফিরে দেখি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ।’ একা হওয়া নয়, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জরুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, রাষ্ট্রে সবার জন্য কার্যকর জীবন কাঠামো না থাকায় সংকট দেখা দিলে সামাজিক টানাপোড়েন তৈরি হয়। সেই চাপ যখন ব্যক্তিজীবনে সরাসরি আঘাত হানে, তখন অনেকে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। ন্যূনতম জীবনমান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটি হতাশার বড় কারণ উল্লেখ করে ড. তৌহিদুল বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সবার জন্য কার্যকর জীবন কাঠামো গড়ে তুলতে না পারলে সংকটের সময় মানুষ একা হয়ে পড়ে। সম্পর্কজনিত বিরোধ, সামাজিক অসহযোগিতা এবং ন্যূনতম জীবনমানের অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি করে। বিশেষ করে যারা সামাজিক ও মানসিকভাবে দুর্বল, তারা এমন পরিস্থিতিতে মৃত্যুকে মুক্তি মনে করে। পুলিশ সদরদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, আত্মহত্যা রোধে পারিবারিক বিরোধ বা মানসিক সংকটের ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ, কমিউনিটি পুলিশিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা, কাউন্সেলিং, সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া জরুরি মুহূর্তে আত্মহত্যার ঝুঁকির তথ্য পেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠিয়ে জীবন রক্ষায় দ্রুত ভূমিকা রাখে।

আর লুকোচুরি নয়, গুঞ্জন পেরিয়ে প্রেমের স্বীকৃতি

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ

প্রেমের গল্প সব সময় হঠাৎ করে সামনে আসে না। অনেক সময় তা গড়ে ওঠে ফিসফাসে, চোখাচোখিতে, আর কিছু অসম্পূর্ণ দৃশ্যে। যেগুলো দেখেও কেউ নিশ্চিত হতে পারে না। বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানি ও পাঞ্জাবি জনপ্রিয় গায়ক তলবিন্দর সিং সিধু। তাদের প্রেম চলেছিল নীরবতায় আর গুঞ্জনে। সম্প্রতি এক রাতে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যেই, প্রেমের স্বীকৃতি দিলেন দুজন। দিশা ও তলবিন্দরের প্রেমের সূত্রপাত হয় চলতি মাসের শুরুতে, উদয়পুরে বলিউড অভিনেত্রী নূপুর শ্যাননের বিয়ের অনুষ্ঠানে। বিয়ের অতিথির ভিড়ে তখন উপস্থিত বলিউড ও সংগীত জগতের একাধিক পরিচিত মুখ। সেই ভিড়েই আলাদা করে নজরে পড়েন দিশা আর তলবিন্দর। দিশার পাশের মানুষটি তখনও অনেকের কাছে রহস্য। এতদিন পর্যন্ত রঙে আঁকা মুখ, আড়ালের পরিচয়ই ছিল তলবিন্দরের নিজস্ব স্টাইল। সেই আড়ালই প্রথমবার সরে যায় নূপুরের বিয়ের একটি ভিডিওতে। দিশার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটির মুখ দেখে থমকে যায় নেট দুনিয়া। শুরু হয় প্রশ্ন–কে তিনি? দিশার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কই বা কী? বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলেও গুঞ্জন থামে না। উদয়পুর থেকে মুম্বাই ফেরার সময় একই ফ্লাইটে দেখা যায় দুজনকে। পরে নূপুরের রিসেপশনেও একসঙ্গে উপস্থিত হন তারা। তখন পর্যন্ত কেউ কিছু বলেন না, কেউ কিছু স্বীকারও করেন না। এরপর এলো সেই রাত। মুম্বাইয়ের লোলাপালুজা ইন্ডিয়ার আলো ঝলমলে আয়োজনে। মঞ্চে ওঠেন তলবিন্দর। আন্তর্জাতিক শিল্পী কেহলানির সঙ্গে তাঁর পারফরম্যান্সে দর্শক উচ্ছ্বসিত। গান শেষ হয়, আলো নিভে আসে। গল্প তখনও বাকি। ভিড় ঠেলে, নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়ছেন শিল্পীরা। সেই মুহূর্তেই ক্যামেরাবন্দি হয় নতুন প্রেমের একটি দৃশ্য। দিশা পাটানি আর তলবিন্দর হাত ধরে হাঁটছেন। কোনো তাড়া নেই, কোনো অস্বস্তি নেই। যেন চারপাশের ক্যামেরা, দর্শক–সবই তখন গৌণ। মুহূর্তটা ছোট, কিন্তু তাদের বার্তাটা স্পষ্ট। এই প্রথম নয় যে তারা একসঙ্গে ধরা পড়লেন। এই প্রথম তারা লুকোলেন না। এরপর একই গাড়িতে করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন দুজন, সঙ্গে কয়েকজন বন্ধু। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক মাধ্যমজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। কেউ বিস্মিত, কেউ রোমাঞ্চিত, কেউ আবার বিশ্বাস করতে পারছেন না। সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখলেন, ‘এবার আর সন্দেহ নেই। এটা যতটা বাস্তব হতে পারে, ততটাই বাস্তব।’ কেউ আবার প্রশ্ন তুললেন দিশার অতীত সম্পর্ক নিয়ে। যদিও এখন পর্যন্ত তারা দুজন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। নেই তাদের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট। সব প্রেম কি ঘোষণায় শুরু হয়? কখনও কখনও দুজন দুজনের একটি হাত ধরা মুহূর্তই যথেষ্ট। সেদিনের সেই আয়োজনে হাজারো মানুষের ভিড়ে, আলো আর শব্দের মাঝেই দিশা পাটানি ও তলবিন্দরের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্যই যেন বলে দেয়, এই গল্প আর শুধু গুঞ্জনের নয়। সূত্র: এই সময় ও আনন্দবাজার

ডিসকম্বোবিউলেটর: মাদুরোকে অপহরণে কি গোপন অস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৮ পূর্বাহ্ণ

চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় একটি ‘গোপন অস্ত্রের’ পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এমন অভিযোগ তুলেছেন লাতিন আমেরিকার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ। তিনি বলেছেন, নিকোলাস মাদুরো ও সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণের সময় যুক্তরাষ্ট্র ওই অস্ত্র ব্যবহার করে। পাদ্রিনোর এই অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভেনেজুয়েলার গণমাধ্যম এল ইউনিভার্সাল। যেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে লেখা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওই অস্ত্রটি ছিল উন্নত সামরিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর। যা আগে কখনো ব্যবহার হয়নি। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারেও অভিযানের সময় একটি বিশেষ অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত আছে। ট্রাম্প ওই অস্ত্রের নাম বলেছেন, ‘ডিসকম্বোবিউলেটর’। যেটি ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে অকেজো করে দিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এ নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার অনুমতি নেই।’ মাদুরোকে অপহরণের গোপন সামরিক অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত কিংবা তাদের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম বিকল করে দিতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশেষ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। গোপন অস্ত্র সম্পর্কে যা সামনে এসেছে মাদুরো অপহৃত হওয়ার কয়েকদিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ভেনেজুয়েলার একজন নিরাপত্তারক্ষীর এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্ট শেয়ার করেন। সেই রক্ষী লিখেছিলেন, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা কিছু ছুঁড়েছিল যা ছিল তীব্র শব্দ তরঙ্গের মতো। ওই নিরাপত্তারক্ষী আরও লিখেন, ‘হঠাৎ আমার মাথায় যন্ত্রণা অনুভব করলাম। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করল। কেউ কেউ রক্ত বমিও করছিল। আমরা নড়াচড়া করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ি।’ আলজাজিরা নিরাপত্তারক্ষীর এই বর্ণনার সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে গত সপ্তাহে নিউজ নেশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মাদুরোর কিউবান দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে ‘সনিক ওয়েপন’ বা শব্দ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এটি আর কারও কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন সব অস্ত্র আছে যেগুলোর সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। মাদুরোর বাড়িটি ছিল সামরিক ঘাঁটির মধ্যে। সেখানে অভাবনীয় অভিযান চালানো হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে ওয়াশিংটনের কাছে কিছু অবিশ্বাস্য রকমের অস্ত্র আছে। যুক্তরাষ্ট্র কি আগে ‘সনিক’ অস্ত্র ব্যবহার করেছে ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিজা ম্যাগনিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিচিত ‘সনিক’ বা শব্দ ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে আছে ‘লং রেঞ্জ অ্যাকোস্টিক ডিভাইস (এলআরএডি)’। এগুলো প্রচলিত কোনো অস্ত্র নয়। এগুলো জাহাজ থামানো, ঘাঁটি সুরক্ষিত রাখা, কনভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চেকপয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মাঝেমধ্যে জনসমাগম ছত্রভঙ্গ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। ম্যাগনিয়ার বলেন, এই যন্ত্রগুলোর মূল লক্ষ্য হলো উচ্চ শব্দের ভয়েস কমান্ড পাঠিয়ে মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এগুলো অস্বস্তি তৈরি, মানুষকে নির্দেশ মানতে অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়তে বাধ্য করতে পারে। জাহাজ থেকে জলদস্যু তাড়াতে, বন্দরের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এআরএডি ব্যবহার হয়। এর প্রভাবে শরীরে ব্যথা, মাথা ঘোরানো, বমির ভাব বা শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক অকেজো করতে পারে না। মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত আরেকটি অস্ত্র হলো ‘অ্যাক্টিভ ডিনায়াল সিস্টেম (এডিএস)’। এটিকে প্রায়ই ভুলবশত ‘সনিক’ অস্ত্র বলা হয়। তবে এটি শব্দের সাহায্যে কাজ করে না। ম্যাগনিয়ার বলেন, এটি মিলিমিটার-ওয়েভ এনার্জি বা অতি-ক্ষুদ্র তরঙ্গ শক্তি ব্যবহার করে ত্বকে তাপের অনুভূতি দেয়। যা মানুষকে কোনো স্থান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। ২০১০ সালে আফগানিস্তানে অস্ত্রটি পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু ব্যবহার করা হয়নি। ম্যাগনিয়ার আরও বলেন, দুটি অস্ত্র মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে, যন্ত্রপাতির ওপর নয়। এগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বা সামরিক সরঞ্জাম অকেজো করতে পারে না। সরঞ্জাম অকেজো করতে হলে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক, সাইবার হামলা বা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়। সরঞ্জাম অকেজো করতে যুক্তরাষ্ট্র কী ব্যবহার করে ম্যাগনিয়ার জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেশ কয়েক ধরনের ‘নন-কাইনেটিক’ (শরীরে আঘাত করে না) এবং ‘প্রি-কাইনেটিক’ সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য পরিচিত। এর মধ্যে আছে: ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ): এটি রাডার সিস্টেম জ্যাম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। জিপিএস ও সেন্সরকে বিভ্রান্ত করে। ইডব্লিউ ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষের পক্ষে পরিস্থিতি বোঝা কিংবা হামলার আগে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। সাইবার-ফিজিক্যাল অপারেশন: ম্যাগনিয়ার জানান, এই সরঞ্জাম ব্যবহারের পরিচিত উদাহরণ হলো ইরান। ২০০৯ সালে ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ কন্ট্রোলারগুলো লক্ষ্য করে ‘স্টাক্সনেট’ নামের অভিযান চালানো হয়েছিল। এর লক্ষ্য হলো- সফটওয়্যার পরিবর্তনের মাধ্যমে সেগুলোর ভৌত ক্ষতিসাধন করা। কাউন্টার-ইলেকট্রনিক্স ডিরেক্টেড-এনার্জি ওয়েপন: এগুলো মূলত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম। এটি সার্কিটগুলোতে মাইক্রোওয়েভ পালস পাঠিয়ে ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম অকেজো করা জন্য তৈরি হয়েছে। ম্যাগনিয়ারের মতে, এই সরঞ্জাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রকল্পটি ‘কাউন্টার-ইলেকট্রনিক্স হাই পাওয়ার মাইক্রোওয়েভ অ্যাডভান্সড মিসাইল প্রজেক্ট’ বা চ্যাম্প নামে পরিচিত। এটি কোনো শারীরিক শক্তি প্রয়োগ ছাড়াই ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বিকল করার জন্য তৈরি হয়েছে। গ্রাফাইট বা কার্বন-ফাইবার অস্ত্র: এগুলো বিদ্যুৎ গ্রিডে শর্ট সার্কিট ঘটিয়ে সব সরঞ্জাম ধ্বংস না করেই ব্যাপক আকারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটাতে পারে। ম্যাগনিয়ার জানান, তথ্য সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়া এবং যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই সরঞ্জামগুলো মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি প্রধান অংশ। যুক্তরাষ্ট্র কি অন্য দেশে নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ম্যাগনিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ কাজ করেছে। তবে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রই করে না। নতুন কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী হলে সেটি প্রায়ই আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে বাস্তবে পরীক্ষা করা হয়। যেমন, ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রথমবারের মতো স্টেলথ এয়ারক্রাফট, প্রিসিশন-গাইডেড বোমা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবহার হয়েছিল। কৌশলগত পর্যায়ে ২০০৯ সালে ইরানের ওপর চালানো সাইবার হামলাটি ছিল ‘সাইবার-ফিজিক্যাল’ অস্ত্রের প্রথম ব্যবহারের উদাহরণ। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে প্রথমবারের মতো জিবিইউ-৪৩/বি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। যেটিকে বলা হয় ‘মাদার অব অল বোমস (এমওএবি)’। এটি একটি অ-পারমাণবিক বিস্ফোরক। যা সুড়ঙ্গের মতো সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে বড় বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। ম্যাগনিয়ার বলেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে পরীক্ষা বলতে সাধারণত শুধু গোপন অস্ত্রের ট্রায়ালকে বোঝায় না। বরং সেখান থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে অস্ত্রগুলোকে আরও উন্নত করাকে বোঝায়। সব শক্তিধর দেশই গোপনে নতুন যন্ত্রের পরীক্ষা চালায়। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাইবার অভিযান, স্পেস টার্গেটিং, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স কিংবা বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে। ম্যাগনিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম পরীক্ষার জন্য ইসরায়েলকে কাজে লাগায়। সেগুলোর প্রয়োগ করা হয় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কিংবা লেবানন ও ইরানে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময় ‘সনিক ওয়েপন’ ব্যবহার করা হয়েছে। ২০১৭ সালে কিউবার রাজধানী হাভানায় বেশ কয়েকজন মার্কিন কূটনীতিক হঠাৎ অসুস্থ হন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, সেটি ছিল ‘সনিক অ্যাটাক’। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছিলেন, কিউবার রাজধানীতে মার্কিন মিশন ‘স্বাস্থ্য হামলার’ শিকার হয়। যা কিছু কর্মীর শ্রবণশক্তি নষ্ট করে দেয়। কানাডার সরকারও তখন তাদের এক কূটনীতিকের শ্রবণশক্তি হারানোর কথা বলেছিল।

সর্বমিত্রের কাণ্ডে সর্বত্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া শিশু-কিশোরদের কান ধরে উঠবস করিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। গত ৬ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটলেও তার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পর থেকে অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। ক্ষোভের মুখে সর্বমিত্র ডাকসু থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তবে নিজের কাজের পক্ষে সাফাইও গেয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের কান ধরিয়ে উঠবস করানো অত্যন্ত গর্হিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত তদন্ত করে সর্বমিত্রের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিশুদের কাউন্সেলিং করানো। কান ধরে শিশু-কিশোরদের উঠবস করানোর ঘটনায় গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বমিত্র চাকমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একজন ছাত্র ও ডাকসু সদস্যের এ ধরনের আচরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি তথা মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার পরিপন্থি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্টে কান ধরানোর দায় নিয়ে সর্বমিত্র চাকমা দুঃখ প্রকাশ করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তবে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি তিনি। গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সর্বমিত্র চাকমা ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন। এরপর নভেম্বরেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বিতর্কিত হন তিনি। এখতিয়ার বহির্ভূত সেই অভিযানের সময় ছিন্নমূল মানুষদের মারধর, হেনস্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রক্টরিয়াল টিমের ভূমিকায় নেমে রাতে সড়কে থাকা বৃদ্ধকে লাঠি হাতে শাসানো নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। গত তিন দিনে খেলার মাঠে অবৈধ প্রবেশের দায়ে শিশুদের কান ধরানোর দুটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সঙ্গে ‘সর্বমিত্র চাকমা কর্তৃক শিশুদের কানধরে উঠবস করানোর প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অগ্রগতি’ সম্পর্কে জানতে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসী তামি দাবি করেন, সর্বমিত্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, বাচ্চাগুলো একেবারেই শিশুসুলভ আচরণ দিয়ে খেলাধুলা করছিল; উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। এটা এই বয়সের একেবারে সঠিক কাজ করছিল তারা। ডাকসুর নামে কান ধরে উঠবস, লাঠি নিয়ে শাসানো শিশু নিপীড়নের পর্যায়ে পড়ে। এখানে শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই শক্তিটা হচ্ছে বিধি ও আইনবহির্ভূত। তিনি বলেন, কান ধরে উঠবস করানো একেবারে গর্হিত অপরাধ হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ভার্চুয়াল জগতে ভিজুয়ালাইজেশনের যুগে এই বাচ্চাগুলো যত বড় হবে, বিষয়টা তাদের ট্রমাটাইজ করার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ জন্যই এটা আইন এবং নিয়মের মধ্যে এনে তদন্ত করা দরকার এবং এই বাচ্চাগুলোকে কাউন্সেলিং দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, সর্বমিত্র চাকমা এর আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। শুধু সর্বমিত্র নয়; ডাকসুর অধিকাংশজন নীতিমালা এবং দায়িত্ববহির্ভূত কাজই করে যাচ্ছিল। সেগুলোর ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় উদাসীন ছিল। সকল ঘটনা তদন্ত করে ডাকসুর কার্যক্রম সীমিত করা উচিত। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, শিশুদের ওপর যেন কোনোভাবেই শারীরিক নির্যাতন না করা হয়– এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের সবাইকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে হবে। কিছুদিন আগেও আমরা এমন একটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি এবং দুঃখজনকভাবে আবারও দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে। সব মিলিয়ে বিষয়টি ভীষণ বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক। তিনি বলেন, দেশ এখনও এক ধরনের অপরিপক্বতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অনেক অদক্ষ মানুষ দায়িত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন ও প্রয়োগ করছে। এর ফলেই আমরা প্রায় প্রতিটি জায়গায় একের পর এক মানবিকতার বিরুদ্ধে ঘটনা দেখতে পাচ্ছি। নারীপক্ষের সদস্য জাহানারা খাতুন বলেন, আগে কোনো কিছু না জানিয়ে লাঠি হাতে নিয়ে এভাবে কান ধরে উঠবস করানো এক ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন। শৃঙ্খলা আনার সমাধান কখনোই কান ধরে উঠবস হতে পারে না। এদিকে সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগপত্র নিয়ে গতকাল মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বলেন, সাধারণত পদত্যাগ-সংক্রান্ত কোনো ইস্যু হলে সেটি আমার কাছে আসবার কথা। এখন পর্যন্ত আমি এ রকম কিছু পাইনি।

৫ কোটি ৬৩ লাখে বিক্রি ব্র্যাডম্যানের ব্যাগি গ্রিন

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ১৯৪৮ সালে অবসর নেন স্যার ডন ব্র্যাডমান। ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ঘরে যা ছিল ডনের শেষ সিরিজ। ওই সিরিজে তিনি যে ক্যাপটি পরেছিলেন সোমবার তা নিলামে বিক্রি হয়েছে। ডন ব্র্যাডমানের ঐতিহাসিক ব্যাগি গ্রিনটি ৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশের হিসাবে যা প্রায় ৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহর গোল্ড কোস্টে লয়েডস এই নিলামের আয়োজন করেছিল। নিলামে ক্যাপটি কিনেছেন পরিচয় না জানানো এক ব্যক্তি। ক্যাপটির মালিকানা এতোদিন ছিল ভারতীয় ক্রিকেটার এসডব্লিউ সোহনি বা রাঙ্গা সোহনির। ৭৫ বছর ক্যাপটি তার পরিবারের কাছে ছিল। কখনো জনসাধারণের দেখার জন্য উন্মুক্তও করেননি। এমনকি সোহনির পরিবারের সদস্যদেরও ক্যাপটি দেখার জন্য শর্ত ছিল। বয়স অন্তত ১৬ বছর না হলে এই ব্যাগি গ্রিন দেখার সৌভাগ্য হতো না সোহনির একান্ত আপনজনেরও। আর দেখার সুযোগ হলেও সেটা মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। ব্যাগি গ্রিনের নিলামেও একটি শর্ত ছিল। ক্যাপটি যেই কিনুক যেন অস্ট্রেলিয়াতে থাকে এমনটাই চেয়েছিলেন তিনি। নিলামের শুরুতে লয়েডস অকশনিয়ার্সের প্রধান নিলাম পরিচালনাকারী এটাকে ‘হলি গ্রেইল’ অ্যাখ্যা দেন। জানিয়ে দেন সোহনির শেষ ইচ্ছা, ‘ক্যাপটি আবার অস্ট্রেলিয়ায় ফিরুক’ শর্তের কথা। সোহনির চাওয়া মতো ক্যাপটি অস্ট্রেলিয়াতেই থাকবে এবং বিখ্যাত কোনো জাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হবে। এতে ডন ব্র্যাডমানের মতো নাম লেখা থাকবে এসডব্লিউ সোহনিরও। ডন ব্র্যাডম্যানের মোট ব্যাগি ক্রিনের সংখ্যা ১১টি। তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৫২ টেস্ট খেললেও সিরিজ খেলেছেন ১১টি। তখন প্রতি সিরিজে একটি করে ক্যাপ দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ব্যাগি গ্রিনের সম্মানে অনেক ক্রিকেটার ক্যারিয়ার জুড়ে এক ক্যাপে খেলতে পছন্দ করেন। ডনের প্রথম ব্যাগি গ্রিন ২০২০ সালে নিলামে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তার শেষ ব্যাগি গ্রিনটি ২০০৩ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে বিক্রি হয়। ২০০৮ সালে যা ৪ লাখ ডলারে হাতবদল হয়েছিল।

টানা জয়ে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে মেয়েদের উন্নতি

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

নেপালে আইসিসি নারী টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দাপুটে ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের নারী প্রতিনিধিরা। আইসিসির টি–২০ র‍্যাঙ্কিংয়ে যার ফল পেয়েছেন ক্রিকেটাররা। ব্যাট হাতে দারুণ খেলা ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তা ব্যাটিং র‌্যাঙ্কিংয়ে ২২ ধাপ এগিয়েছেন। তিনি ৩৫ নম্বরে উঠে এসেছেন। বাছাইপর্বের চার ইনিংসে ১৫৬ রান করে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক তিনি। বাছাইপর্বে বড় দুই পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ড ম্যাচে ফিফটি করেছেন তিনি। ব্যাটারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা মোস্তারি ১১ ধাপ এগিয়ে ৫২ নম্বরে উঠেছেন। বাছাইপর্বের চার ম্যাচে সেট হয়ে আউট হন তিনি। বড় সংগ্রহ না পেলেও নিয়মিত রান করার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। বোলিং র‍্যাঙ্কিংয়ে স্পিনার রাবেয়া খান এক ধাপ এগিয়ে ১৪ নম্বরে উঠেছেন। চার ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়েছেন এই লেগি। বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ে ফাহিমা খাতুন ছয় ধাপ এগিয়ে ত্রিশে উঠেছেন। খেলোয়াড়দের র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হলেও দল হিসেবে আগের অবস্থানেই আছে বাংলাদেশ। টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০। আয়ারল্যান্ড আছে বাংলাদেশের ঠিক ওপরে। আইরিশদের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পয়েন্টে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও রেটিংয়ের ব্যবধান মাত্র ৪।

বিশ্বে প্রথম স্বর্ণের সড়ক নির্মাণ করছে দুবাই

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বে প্রথম স্বর্ণ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। রাস্তাটির নাম হবে ‘গোল্ড স্ট্রিট’। আর এটি নির্মাণ করা হবে আমিরাতের গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে। তবে বিস্তারিত তথ্য ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দুবাই গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের উদ্বোধনের সময় এই ঘোষণা দেয় রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ইথরা দুবাই। খবর খালিজ টাইমসের ‘হোম অব গোল্ড’ নামে পরিচিত গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে স্বর্ণ ও গয়নাশিল্প-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এক ছাদের নিচে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্য, বুলিয়ন ট্রেড, বিনিয়োগ, স্বর্ণ ব্যবসা এবং সংশ্লিষ্ট লাইফস্টাইল খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বর্তমানে এই ডিস্ট্রিক্টে এক হাজারের বেশি খুচরা বিক্রেতা রয়েছে। যেখানে স্বর্ণালংকার ছাড়াও পারফিউম, কসমেটিকস ও লাইফস্টাইল পণ্য বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে জাওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান ও তানিশক জুয়েলারির মতো বড় ব্র্যান্ড এখানে তাদের ফ্ল্যাগশিপ স্টোর স্থাপন করেছে। জুয়েলারি ব্র্যান্ড জয়ালুক্কাস মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সবচেয়ে বড়- ২৪ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাগশিপ স্টোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ইথরা দুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসাম গালাদারি বলেন, গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট দুবাইয়ের ঐতিহ্য, বাণিজ্যিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে একত্রিত করবে। দুবাই ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমি অ্যান্ড ট্যুরিজমের অধীন দুবাই ফেস্টিভ্যালস অ্যান্ড রিটেইল এস্টাবলিশমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আল খাজা বলেন, ‘স্বর্ণ দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা ঐতিহ্যকে সম্মান জানাচ্ছি এবং একই সঙ্গে সৃজনশীল ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ রপ্তানি করেছে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্বর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উত্তর গাজার বসতি, কৃষিজমি মুছে ফেলছে ইসরায়েল

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ | ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ

ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরে বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা একটি জনপদ কৃষিজমিসহ মুছে ফেলছে ইসরায়েল। এই এলাকায় একটি বড় জনপদ ছিল। এখন সেগুলোর কাঠামো পাল্টে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কৃষিজমি অধ্যুষিত এলাকাও। আলজাজিরার ডিজিটাল তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্ত দল স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে এই ভয়ানক তথ্য পেয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির আড়ালে বেইত হানুন শহরকে ধ্বংস করে ভূমি নিয়ন্ত্রণের এই দখলবাজি চলছে। তদন্তে বলা হচ্ছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের সেনাবাহিনী উত্তর গাজা উপত্যকার বেইত হানুন শহরের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার কাজ চলমান রেখেছে। তদন্ত দল ‘সানাদ’ স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দখলদারির প্রমাণ পেয়েছে। সানাদ দেখেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় চার লাখ আট হাজার বর্গমিটার জমি পরিষ্কার করতে বুলডোজার ব্যবহার করেছে। এই এলাকার মধ্যে কমপক্ষে ৩২৯টি বাড়ি এবং কৃষিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, দুই বছরের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনসহ বেইত হানুনের কিছু ভবনও সংশ্লিষ্ট এলাকায় রয়েছে। এলাকাটিতে কিছু ভবন অক্ষত থাকলেও গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আগের কৃষিজমি পাল্টে নতুন ভূমি স্থাপন করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ সরাসরি বেইত হানুনের প্রান্তে শুরু হয়েছিল, যা শহরটিকে উত্তর সীমান্তে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পৃথক করে ফেলেছে। ইসরায়েলের অতিডানপন্থি নেতারা গাজায় ইতোমধ্যে বসতি স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে। তারা বেইত হানুন এবং বেইত লাহিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, আটশরও বেশি ইহুদি পরিবার ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ সেখানে চলে যেতে ইচ্ছুক। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে তিনজনের মৃতদেহ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একজনও রয়েছেন। আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৬৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ৯২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে গাজায় হামলা চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। রাফা ক্রসিং সীমিত আকারে খুলবে ইসরায়েল ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং সীমিত আকারে পুনরায় খোলার বিষয়ে ইসরায়েল সম্মত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পের দূতরা ক্রসিংটি পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ক্রসিং খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের ঘোষণায় সন্দেহ পোষণ করেছেন। সাংবাদিক ও মানবিককর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে মিডলইস্ট আই জানায়, প্রতিনিধি ও মানবিককর্মী হিসেবে গাজা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ স্থান বলে রোববার জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। তিনি বলেন, গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৩০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ৩৮২ জন মানবিককর্মী নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের উপকার করা শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য নয় অনুসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্টনি লোয়েনস্টাইন বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করার কোনো বাস্তব লক্ষ্য ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নেই। তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ইসরায়েল লাখ লাখ ফিলিস্তিনির হাড়ের ওপর পর্যটনের জন্য উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ করতে চাইছে।’ আলজাজিরার সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল আলজাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের সম্প্রচার এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে দখলদার ইসরায়েল। রোববার এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে একাধিক সম্প্রচার ও ইন্টারনেট কোম্পানি এবং ইউটিউব চ্যানেলকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে আলজাজিরার কার্যক্রম বন্ধ হয়।