প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেছেন, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান।
আজ বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।’
আইনের শাসন মেনে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়। আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতাপ্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কারণেই দেশে আবার মানুষের অধিকার, সম্মান এবং মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বার্তা দিতে চাই— মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার। প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে আমরা একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য।’
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সবরকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।’
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলেও জানান তিনি।
দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীকাল থেকেই সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। আমি দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানাই। রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি— তাহলে এই মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও আমাদের অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়।’
রমজান মাসকে ব্যাবসায়িক মুনাফার মাস হিসেবে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়- এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন। হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সবক্ষেত্রেই অনাচার অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।’
তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি কিংবা ছোট-বড়, সব ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা বিক্রেতা গ্রহীতা, এই সরকার সকলেরই সরকার।’
অপচয় রোধ ও কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘রমজানে রোজাদাররা বিশেষ করে ইফতার, তারাবি, সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অফিস ও আদালতে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি খরচ করা এ মাসে এড়ানো প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ জনগণকে কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানানোর আগে আমরা বিএনপির সংসদীয় দলকে উদাহরণ হিসেবে রেখেছি। বিএনপি সংসদীয় দলের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি বা প্লট সুবিধা নেবেন না। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবী (সা.) ্এর ‘ন্যায়পরায়ণতার’ আদর্শ অনুসরণ করবে। এই সিদ্ধান্তই সেই আদর্শের প্রতিফলন।’
তারেক রহমান স্মরণ করান, তিনি গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে দেশ ও জনগণের উদ্দেশে ঘোষণা করেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে আমার পরিকল্পনার অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি। স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণের দায়িত্ব আমাদের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি, ইনশাআল্লাহ।’
ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট কমাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সারাদেশে রেল যোগাযোগ সহজ, সুলভ ও নিরাপদ করা হবে। রেল, নৌপথ, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে।’
তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায় জ্ঞানে বিজ্ঞানে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকমের সহযোগিতা দেওয়া যায়, সবরকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পাঁচ দিন পর বুধবার তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওই নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয় লাভ করে দলটি। শপথ গ্রহণের একদিন পর গতকাল বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন।
প্লট দুর্নীতির এক মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। রাজধানীর গুলশানে একটি ফ্ল্যাট দুর্নীতির মামলায় দুদকের অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার এ আদেশ দেন।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ ছাড়াও পরোয়ানার আরেক আসামি হলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন রাখা হয়েছে।
রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট দুর্নীতির আরেক মামলায় গত ১ ডিসেম্বর টিউলিপকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ এপ্রিল দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশান ২ নম্বরে ওই প্লট হস্তান্তরে ব্রিটিশ এমপি ‘প্রভাব বিস্তার’ করেন এবং সেখানেই ‘ঘুষ’ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেন।
মাদকাসক্তি নির্ণয় পরীক্ষার (ডোপ টেস্ট) ফল পজিটিভ হলে অর্থাৎ মাদকাসক্ত নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি, আধা–সরকারি, স্থানীয় সরকার ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হবেন। আর চাকরিরত হয়ে থাকলে সরকারি কর্মচারি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী–২০১৮ অনুযায়ী তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। মাদকাসক্ত শনাক্ত হওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা না নিলে সেটিও হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
‘জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা ২০২৬’–এ এসব কথা বলা হয়েছে। গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। উপসচিব মাহবুব আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ডোপ টেস্ট টেকনিক্যাল কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সভাপতি হবেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাদক অণুবিভাগের অন্যূন উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা তাদের মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের অধ্যাপক পদমর্যাদার প্রতিনিধি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ–সিআইডির ডিআইজি (ফরেনসিক), ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল মেডিসিন সেন্টারের পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালকসহ নয়জন বিশেষজ্ঞ কমিটিতে থাকবেন। প্রয়োজনে তারা সদস্য কো–অপ্ট করতে পারবেন।
বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্থানীয় সরকার, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট প্রযোজ্য হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে কেউ মাদক গ্রহণ করেন বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ হলে ডোপ টেস্ট করা যাবে। গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন চালানোর লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রে এবং কর্মরত অবস্থায় চালক মাদক গ্রহণ করেছেন সন্দেহ হলে এ পরীক্ষা করা যাবে। স্থলযান ছাড়াও নৌযান ও আকাশযান চালানোর লাইসেন্স দেওয়া এবং নবায়নের ক্ষেত্রে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রে, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের ক্ষেত্রে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে ডোপ টেস্ট প্রয়োজ্য হবে।
পরীক্ষা নিয়ে সতর্কতা
বিধিমালা অনুযায়ী, যার ডোপ টেস্ট করা হবে, নমুনা দেওয়ার জন্য তাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত থাকতে হবে। তাঁর ছবি ও আঙ্গুলের ছাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর সময় কোনো পক্ষকে অবহিত করা বা কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। নমুনা পাঠানোর মোড়কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম–ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র–পাসপোর্ট–জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা প্রচলিত কোনো পরিচিতিমূলক তথ্য ব্যবহার করা যাবে না। নমুনা প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষ বা তাদের মনোনীত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কাউকে পরীক্ষার ফল মৌখিক বা লিখিতভাবে জানানো যাবে না।
সতর্কতার অংশ হিসেবে বলা হয়েছে, ডোপ টেস্ট ল্যাবরেটরিতে কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। ল্যাবরেটরিতে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল উভয় পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। ল্যাবরেটরির ভেতরে, প্রবেশ ফটকে ও বাইরে অন্ধকারেও ভিডিওধারণে সক্ষম সিসি ক্যামেরা বসাতে ও সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে।
ডোপ টেস্ট ডেটাবেইজের সুরক্ষা
ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত নমুনার বিশ্লেষণপূর্ব ও পরবর্তী পরীক্ষার ফল ডোপ টেস্ট ডেটাবেইজে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ডেটাবেইজ সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং তথ্য সংরক্ষণের বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাতে যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে ডেটাবেইজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিকল্প উপায়ে পুনরায় উদ্ধার করা যায়। বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ডোপ টেস্ট ল্যাবরেটরির ডেটাবেইজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া কারও প্রবেশাধিকার থাকবে না। কোনো ব্যক্তি নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ বা সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা দাযিত্বে অবহেলা বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
বিধি হওয়ায় সবার জন্য বাধ্যতামূলক
কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চিফ কনসালট্যান্ট ডা. কাজী লুৎফুল কবীর বলেন, বিধিমালা সদ্য পাস হলেও কিছু সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর ধরেই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করেছিল। যেমন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), মেট্রোরেল, বিসিএসে নিয়োগ; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসসহ অনেক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি; গাড়িচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে এটা করা হত। এখন বিধি হওয়ার ফলে এর আওতায় থাকা সবার জন্য এটি বাধ্যতামূলক হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রথম এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সচিবদের তিনি সততার সঙ্গে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সচিবদের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী আব্দুল বারী।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী সচিবদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তবে কোনো সচিব বক্তব্য দেননি। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ৭৪ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সচিবদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টোর ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে। সুতরাং যেটা জনগণের ইচ্ছা, সেটাই প্রাধান্য পাবে। সে হিসেবে সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য তারা আন্তরিক হবেন।
বৈঠক শেষে এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ইশতেহার দেখে। নিশ্চয় তারা ইশতেহারকে পছন্দ করেন। সেই ইশতেহার যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়, সে জন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা দেশের জন্য ভালো।
ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী এলাকায় বাস করেন মাইসুন আল-বারবারাউই। পবিত্র রমজান মাসকে স্বাগত জানিয়ে তিনি তার তাঁবু সাজিয়েছেন। কাপড়ের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে রঙিন আলপনা।
শিবিরের বাসিন্দারা পবিত্র মাসের আগমন উপলক্ষে কাপড়ের দেয়ালে রঙিন অঙ্কনের পাশাপাশি তার জীর্ণ ছাদে সাধারণ সাজসজ্জা ঝুলছে। মাইসুন তার ৯ বছর বয়সী ছেলে হাসানকে নিয়ে কথা বলছিলেন। সবার কাছে তিনি উম্মে মোহাম্মদ নামে পরিচিত। ৫২ বছর বয়সী এই নারী দুই সন্তানের মা। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘বাচ্চার জন্য সাজসজ্জা ও একটি ছোট লন্ঠন এনেছি। রমজানের লন্ঠন পেয়ে শিশুরা খুশি। আমার সামর্থ্য সীমিত। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুরা খুশি বোধ করুক।’
মাইসুনের বড় ছেলের বয়স ১৫ বছর ও ছোট ছেলের বয়স ৯ বছর। ওরা তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম এই সাজসজ্জা যুদ্ধের সময় গত দুই বছর ধরে আমাদের সঙ্গে থাকা শোক ও দুঃখের পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার একটি উপায় হোক। প্রতিদিনই যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।’
বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি গাজা এই রমজানকে আলাদা করে তুলেছে। আগের দুই বছরের তুলনায় এখন কিছুটা শান্তি এসেছে। দুই বছরের হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
মাইসুন বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি শান্ত নয়। সবাই জানে যুদ্ধ সত্যিই থামেনি। মাঝে মাঝে গোলাবর্ষণ এখনও ঘটে। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় পরিস্থিতি কম তীব্র। তবে যুদ্ধের শঙ্কা ও ভয় রয়েই গেছে।’
খাদ্য সংকটে মৌলিক চাহিদায় অপূর্ণতা
আল জাজিরা জানায়, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয় যুদ্ধবিরতি। কিন্তু যুদ্ধবিরতি এখনও ভঙ্গুর। তবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুদ্ধের সময়ের তুলনায় কিছু খাদ্যসামগ্রীর প্রাপ্যতার তুলনামূলক উন্নতি হয়েছে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে। মানবিক সহায়তার প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে স্থিতিশীল গতিতে। যদিও সরবরাহ এখনও বিধিনিষেধ এবং লজিস্টিক বাধার সম্মুখীন। বাজারে বিস্তৃত পণ্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও দাম বেশি। জনগণের ক্রয় ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল।
জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। গাজার অনেক ফিলিস্তিনিকে এখনও খাদ্যের জন্য সাহায্য সংস্থাগুলো দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। হানান আল-আত্তার তাদের একজন। রমজানের প্রথম দিনে তিনি একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে একটি খাবারের পার্সেল পেয়েছিলেন।
আল আকসা ঘিরে এবারও উত্তেজনা
প্রতিবছর আল আকসা মসজিদ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জেরুজালেমে। লাখ লাখ মুসল্লি সহ্য করতে পারে না ইসরায়েলি প্রশাসন। প্রতি রমজানেই মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়। এবারও সেই শঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের উঠান থেকে আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনী কোনো কারণ ছাড়াই আল-আকসা মসজিদের উঠোনের ভেতরে শেখ আল-আব্বাসিকে আটক করে।
মসজিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিবছরের মতো এবারও সহিংসতা চালাল তারা। হামাস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে আল-আব্বাসির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তাকে মসজিদে নিষিদ্ধ করে আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য।
এবারও ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদের চারপাশে বলপ্রয়োগ করবে।
রোজায় লাখ লাখ ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যগতভাবে আল-আকসায় নামাজে যোগ দেন। মসজিদটি ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল দখল করে নেয়। এর পর থেকে প্রতি রমজানে মসজিদ এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মধ্যপ্রাচ্যেই চ্যালেঞ্জের মুখে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদ
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দশটি দেশ এখন পর্যন্ত জানিয়েছে তারা শান্তি পর্ষদে থাকবে। আলোচনার টেবিলে আসন পাওয়ার পাশাপাশি স্বাক্ষরকারীরা ওয়াশিংটনের সমর্থন পাবে।
এক বিবৃতিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাকে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে। গত ২১ জানুয়ারি পর্ষদে যোগ দেয় মিশর। পরে সৌদি আরব, তুরস্ক, জর্ডান এবং কাতার কয়েক ঘন্টা পরে একটি যৌথ বিবৃতিতে পর্ষদে যোগদানের ইঙ্গিত দেয়। বোর্ডে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো ১২ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের যোগদান।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশই শান্তি পর্ষদে নেই। ইসরায়েলের চিরশত্রু ইরান এখানে অনুপস্থিত স্বাভাবিকভাবেই। লেবানন ও সিরিয়া বারবার ইসরায়েলের আক্রমণের শিকার হয়েছে। তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট। এছাড়াও আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদান নেই শান্তি পর্ষদে।
নিজেদের গুলিতেই ইসরায়েলি সেনা নিহত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, বুধবার দক্ষিণ গাজায় যুদ্ধে তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে। তবে একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নিজেদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত স্টাফ সার্জেন্ট অফ্রি ইয়াফে প্যারাট্রুপার্স রিকনাইস্যান্স ইউনিটের একজন সৈনিক। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় এ পর্যন্ত নিহত হলো ৫ নিহত ইসরায়েলি সেনা।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের হত্যার পরিকল্পনা
গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দির মৃত্যু হয়েছে। তাদের অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে নির্যাতনে এবং চিকিৎসা অবহেলায়।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার অভিযোগে আটক শত শত ফিলিস্তিনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনির পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
ইসরায়েলি চ্যানেল ১৩ গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ইসরায়েলি কারাগার পরিষেবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। অধিকার কর্মীরা বন্দিদের জীবন ও অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।
সূত্র: আলজাজিরা ও মিডলইস্ট আই
বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সব সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধ পরিকর বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে রাষ্ট্র এবং সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএনপি সরকার সব ক্ষেত্রেই অনাচার-অনিয়মের সকল সিন্ডিকেটে ভেঙে দিতে বদ্ধ পরিকর।
আজ বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তারেক রহমানের এটিই জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়।
দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায় এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে পবিত্র মাহে রামাদানের শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, রামাদান আত্মশুদ্ধির মাস। আমরা যদি আত্মশুদ্ধি শব্দটির মর্মার্থ উপলব্ধি করি তাহলে এ মাসে মানুষের ভোগান্তি বাড়ার কথা নয়। যদিও অনেকের মধ্যেই এই মাসটিকে ঘিরে ব্যবসায় অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের প্রতি আহ্বান, রামাদানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এ মাসটিকে আপনারা ব্যবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না।
তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণের ভোটে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আমরা প্রতিটি নাগরিকের জন্যই এই দেশকে একটি নিরাপদ ভূমিতে পরিণত করতে চাই। একটি স্বনির্ভর নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই বিএনপি সরকারের লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।
নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামাদান মাসে রোজাদারগণ বিশেষ করে ইফতার তারাবি সেহরি এই সময়গুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পেতে চান। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি। অপচয় রোধ করে কৃচ্ছতা সাধন প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। অফিস আদালতে বিনা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্যাস বিদ্যুৎ পানি খরচের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করাও ইবাদাতের অংশ বলেই আমি মনে করি।
এই সরকারে সবার অধিকার সমান
তারেক রহমান বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বলতে চাই, নবগঠিত সরকার গঠনের সুযোগ দিতে যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কিংবা দেননি অথবা কাউকেই ভোট দেননি, এই সরকারের প্রতি আপনাদের সবার অধিকার সমান। বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে, দলমত ধর্ম দর্শন যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে, এই রাষ্ট্রে একজন বাংলাদেশি হিসেবে, আপনার আমার আমাদের প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের অধিকার সমান।
এই দেশ আমাদের সবার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আমি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিতে চাই, মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান তথা দলমত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সবার।
কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে অঙ্গীকার
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের চারপাশে সমস্যার শেষ নেই। তবে সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে যদি আমরা দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের জনসম্পদ। আমরা নিজেদেরকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে শুধু বাংলাদেশই নয় বিশ্ব বাজারও আমাদের জন্য উন্মুক্ত। তথ্য প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মান এবং সচ্ছলতার সঙ্গে টিকে থাকতে হলে আমাদেরকে কোনো না কোনো একটি বিষয়ে বা কাজে পারদর্শী হতে হবে। দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায় জ্ঞানে বিজ্ঞানে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকমের সহযোগিতা দেয়া যায়, সবরকমের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।
প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছে। সুতরাং, জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সবরকমের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে।
মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ
দেশের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জনসাধারণের প্রতি কৃচ্ছতা সাধনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপির এমপিদেরকে দিয়েই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছি। বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না। বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করবে। বিএনপির সংসদীয় দলের এইসব সিদ্ধান্ত ন্যায়পরায়ণতার আদর্শেরই প্রতিফলন।
রাজধানীতে চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা
বিভাগীয় শহরগুলোতে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যানজট প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হাটে-মাঠে-ঘাটে, অফিস-আদালতে জনগণের ভোগান্তির শেষ নেই। জন জীবনের নানা ক্ষেত্রে জন দুর্ভোগ লাঘব করা না গেলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে না। রাজধানীতে জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। মানুষ তার নিজ জেলায় কিংবা নিজের বাসা বাড়িতে থেকেও যাতে সহজভাবে সঠিক সময়ে অফিস আদালত ব্যবসা বাণিজ্য করতে পারেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমেই রেল-নৌ-সড়ক এবং সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস ও সমন্বয় করা হচ্ছে। সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ সুলভ এবং নিরাপদ করা করা গেলে একদিকে যেমন জনগণের শহর-নগরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমবে অপরদিকে পরিবেশেরও উন্নতি হবে।
অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব সরকারের
দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশে ফিরে গত বছরে ২৫ ডিসেম্বর দেশ এবং জনগণের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেছিলেন- \'আই হ্যাভ এ প্ল্যান\'। এ প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্নস্থানে ঘুরে আমার পরিকল্পনার অনেক কিছুই আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছেন। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সকল অঙ্গীকার পূরণ করার দায়িত্ব বিএনপি সরকারের। আমরা আমাদের পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি। অঙ্গীকার পূরণের এই যাত্রাপথে আমরা ভবিষ্যতের দিনগুলোতেও আপনাদের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশা করি।
ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ ও স্পষ্ট
তারেক রহমান বলেন, ক্ষুদ্র মাঝারি কিংবা ছোট বড়, সকল ব্যবসায়ীদের প্রতি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সহজ এবং স্পষ্ট। বর্তমান সরকার ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণ উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চায়। সুতরাং, সরকারের পক্ষ থেকে কি ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিংবা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা হবে, এ ব্যাপারে আপনাদের যে কোনো ধরনের পরামর্শ কিংবা অভিযোগ শুনতে সরকার প্রস্তুত। ক্রেতা-বিক্রেতা, গ্রহীতা, এই সরকার সবারই সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী)। তিনি এত দিন বিএনপির চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখন সরকারের সচিব পদমর্যাদায় তাকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলো। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহকে অন্য যে-কোনো পেশা, ব্যাবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।
অন্যদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে আতিকুর রহমান রুমনকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে গ্রেড-২ পদের সর্বশেষ ধাপের বেতনে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ নিয়োগ পেয়েছেন মো. মেহেদুল ইসলাম। তিনি গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে পেয়েছেন। সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আব্দুর রহমান সানিকে। তিনি গ্রেড-৬ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপে বেতন পাবেন।
প্রত্যেকের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য যে কোনো পেশা, ব্যাবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তারা এই নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) তাদের এ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
দেশে আর কোনোভাবেই মবের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। মব কালচারকে আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা যাবে না।।
দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে নিজের দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, দাবি-দাওয়া থাকবে, তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপি দেওয়া যাবে। কিন্তু দাবি আদায়ের জন্য সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ করা যাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানেই বাংলাদেশের মানুষ জানে পুলিশ। আরও যে সংস্থা আছে এখানে, এটা মানুষ কম জানে। আমি বলেছি, পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। যে ভাবমূর্তি আগে বিনষ্ট হয়েছে, সেটি পুনরুদ্ধার করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সবার অ্যাকাউন্টিবিলিটি ট্রান্সপারেন্সি (স্বচ্ছ জবাবদিহি) বজায় রাখতে হবে। কোনো রকমের অবৈধ তদবির হবে না। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এর আগে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোসহ ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়।