শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন নতুন এক আইনি জটিলতার মুখোমুখি। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আইন না মানা, প্রতিহিংসামূলক বিচারিক প্রক্রিয়া, অভিযুক্তদের পছন্দের আইনজীবি নিয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং একতরফা অভিযোগ গঠনের কারণে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই ট্রাইব্যুনাল তীব্র সমালোচনার মধ্যে ছিল। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক রায় ঘোষিত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন উঠেছে — দণ্ডিত অনুপস্থিত আসামিরা ফিরে এলে বা গ্রেপ্তার হলে কী হবে তাদের বিচারিক পরিণতি?
আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন অধিকাংশ পলাতক আসামি
ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৪টি মামলার রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়া বাকি ৩ মামলার অনুপস্থিত আসামিরা ইতিমধ্যে আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা অথবা খালাস দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।
শেখ হাসিনা ও কামালের ক্ষেত্রে কী ঘটবে?
গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করে।
আপিল শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৩ জানুয়ারি।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম পরিষ্কার জানিয়েছেন, অনুপস্থিত আসামিদের জন্য এখন আর আইনি অনুকম্পার সুযোগ নেই। তার ভাষায়,
“রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সকলে বিষয়টি জানছে, এটা জানার পরও তারা যখন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে আসলেন না, আপিল ফাইল করলেন না — তাহলে পরবর্তীতে আইনের যখন আর সুযোগ নেই, তখন এসে আইনের অনুকম্পা পাওয়ারও সুযোগ নেই।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করে গ্রেফতার হলেই তাদের দণ্ড কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর।
সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিরোধ
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট আসামির আবেদনে আপিলের সুযোগ দিতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত ‘কমপ্লিট জাস্টিস’-এর অধীনে আপিল গ্রহণ করতে পারে বলে তার মত। তবে চিফ প্রসিকিউটর এই যুক্তি খারিজ করে বলেছেন, “আপিলটাই যদি সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তাহলে কীভাবে হবে?”
প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ: নতুন বিতর্ক
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সাম্প্রতিক একটি কেলেঙ্কারিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জামিনের জন্য এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ট্রাইব্যুনালের গঠন ও কার্যপ্রণালী শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেনি। সাক্ষী ব্যবস্থাপনা, তদন্ত কার্যক্রম এবং অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।
এই পরিস্থিতিতে রায় কার্যকরের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় অঙ্গনেই সমান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কার্ডিফের সেই রূপকথার পর পেরিয়ে গেছে ২১টি বছর। অবশেষে ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধরা জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টি ও বজ্রপাত বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ৮৬ রানের ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ঝড়ো ব্যাটিং এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের জোড়া অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। শান্ত ৬৭ ও তানজিদ ৫৪ রান করলেও, দলের সংগ্রহকে আড়াইশ পার করানোর মূল কারিগর ছিলেন মোসাদ্দেক। ফেরার ম্যাচে মাত্র ৬৫ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ন্যাথান এলিস নেন ৩টি উইকেট।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সফরকারীরা। গতির ঝড় তুলে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনে ধস নামান গতি তারকা নাহিদ রানা। একে একে শীর্ষ সারির ব্যাটারদের ফিরিয়ে ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ৪ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।
ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু ৫২ এবং উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারির ৪৭ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। ম্যাচের ৪২.২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান যখন ৯ উইকেটে ১৯১, তখন তীব্র বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আর খেলা সম্ভব না হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচের ইতি টানেন। ডিএলএস পদ্ধতিতে ওই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৭৮ রান। ফলে ৮৬ রানের স্মরণীয় জয় উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পক্ষে নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪টি এবং মোসাদ্দেক ও মোস্তাফিজুর রহমান ২টি করে উইকেট নেন। ব্যাট হাতে ৮৬* রান ও বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ঘটেছে এক শিউরে ওঠার মতো দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও নৃশংস পাশবিকতার ঘটনা। গভীর রাতে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের পাশাপাশি প্রবাসীর স্ত্রী এবং তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৫ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেছে একদল নরপিশাচ। এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল ৮ জুন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই নারকীয় ঘটনাটি ঘটে।
জানালার গ্রিল কেটে হানা, মা-মেয়ের ওপর পৈশাচিকতা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মধ্যরাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সুসংগঠিত ও সশস্ত্র ডাকাতদল ওই প্রবাসীর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে হানা দেয়। তারা প্রথমে অস্ত্রের মুখে বাড়ির সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে। তবে তাদের বর্বরতা এখানেই শেষ হয়নি; মালামাল লুটের পর তারা বাড়িতে অবস্থানরত প্রবাসীর অসহায় স্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে আটকে রেখে পালাক্রমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে স্কুলছাত্রী
ডাকাতদল চলে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের সহায়তায় গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “আমার বোন ও ভাগ্নির ওপর ডাকাতরা পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়েছে। ভাগ্নির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।”
প্রশাসনের তৎপরতা
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ডাকাতি ও মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অপরাধীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অধিকতর তদন্তের জন্য তিনি নিজে এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইসলামি বিধানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এই পণ্য থেকে রাজস্ব আদায়ের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘হারাম পণ্যে হালাল ট্যাক্স’ বলে কটাক্ষ করছেন। উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণার পর রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকার কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কেন এই সিদ্ধান্ত
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। অ্যালকোহলে নতুন ভ্যাট আরোপও সেই উদ্যোগেরই অংশ। নতুন প্রজ্ঞাপন কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি লিটার উৎপাদিত অ্যালকোহলের বিপরীতে ৫০০ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।
২০২১-২২ অর্থবছরে কেরু এন্ড কোং শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে উৎপাদিত মদ বিক্রি থেকে আয় হয় ৩৬৭ কোটি টাকা। এতে লাভ হয় ১০০ কোটি টাকারও বেশি। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ লাখ প্রুফ লিটার বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। এটি কেরুর ইতিহাসে তখনকার রেকর্ড। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মদ বিক্রি থেকে আয় বেড়ে হয় প্রায় ৪৩৯ কোটি টাকা (প্রায় ৫৭.৭৩ লাখ প্রুফ লিটার বিক্রি)। ডিস্টিলারি ইউনিটের লাভ হয় ১৫২ কোটি টাকা। কোম্পানির নিট মুনাফা (সব ইউনিট মিলিয়ে) প্রায় ৮০ কোটি টাকা। সাম্প্রতিকতম সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছর ডিস্টিলারি ইউনিট চালিত মুনাফার কারণে কোম্পানি রেকর্ড লাভ করেছে যার পরিমাণ প্রায় ১২৮-১৯০ কোটি টাকা।
দিনকে দিন কেরু উৎপাদিত অ্যালকোহল এর চাহিদা বাড়ছে এবং পণ্যটি ব্যাপক মুনাফা অর্জনকারী শিল্পে পরিণত হয়েছে। গ্রাহক ও বিক্রয় বৃদ্ধির কারনে সরকার এই পণ্যটিকে রাজস্ব আয়ের সূবর্ণ সুযোগ হিসাবে দেখছে।
শিল্প খাতে উদ্বেগ
সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা বলছেন, নতুন ভ্যাট আরোপে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে বাজারমূল্যে। কর বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, হঠাৎ এত বড় হারে ভ্যাট আরোপ অ্যালকোহলভিত্তিক শিল্পের উৎপাদন কাঠামোয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।
রাজস্ব ঘাটতির চাপ
চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পিছিয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে ঘোষিত বাজেটের ব্যয় মেটাতে নতুন নতুন খাত থেকে কর আদায়ের পথ খুঁজছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যালকোহলে ভ্যাট আরোপ সেই মরিয়া প্রচেষ্টারই একটি দৃষ্টান্ত।
তবে প্রশ্ন উঠেছে নৈতিক অবস্থান নিয়েও। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ একটি পণ্যকে রাজস্বের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই এটিকে ‘হারাম আয়ের হালাল বৈধতা’ বলে প্রশ্ন তুলছেন।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন ভ্যাট কাঠামো কার্যকর হলে এই খাত থেকে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে নৈতিক বিতর্ক এবং শিল্পখাতের উদ্বেগ — দুটি চাপই সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে আমরা যতটা শুনি, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা অন্ধকারেই থেকে যায়। অসংখ্য নারী আছেন যারা জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারেন না। অনেকেই থানায় যান না, মামলা করেন না, এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও সবকিছু খুলে বলেন না। আজও অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে প্রশ্ন করা হয়, “মেয়েটি কোথায় ছিল?”, “কী পোশাক পরেছিল?”, “কেন সেখানে গিয়েছিল?” অথচ প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, “অপরাধী কেন এই কাজ করল?”
যতদিন পর্যন্ত আমরা ভুক্তভোগীর পরিবর্তে অপরাধীর দিকে আঙুল তুলতে না শিখব, ততদিন এই সমস্যার পুরো সমাধান সম্ভব নয়।
অনেক নারী অভিযোগ করতেও চান না, কারণ তারা জানেন মামলা শুরু হলেও বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হতে পারে। বারবার একই ঘটনা বলতে হয়, বারবার অপমানজনক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকের কাছে এই মানসিক যন্ত্রণা অপরাধের স্মৃতিকে আরও গভীর করে তোলে। তারা জানেন, অভিযোগ করলেই ন্যায়বিচার মিলবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী হয়। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে উল্টো ভুক্তভোগীকেই নানা ধরনের চাপ, হুমকি বা হয়রানির মুখে পড়তে হয়।এর সঙ্গে আছে সামাজিক ভয়। আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করে। একজন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার চরিত্র নিয়ে কথা ওঠে, তাকে ছোট করা হয়, অপমান করা হয়। বিবাহিত নারীদের অনেকেই ভয় পান—স্বামী কী ভাববে, শ্বশুরবাড়ি কীভাবে নেবে, সংসার টিকবে তো? কেউ কেউ এই আশঙ্কাও করেন যে সত্য প্রকাশ করলে হয়তো সংসারটাই ভেঙে যাবে।
নীরবতার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ।একজন নির্যাতিত নারীর জন্য বিচার শুধু আদালতের রায় নয়, তার মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ও। কিন্তু যখন বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, তখন অনেকেই হাল ছেড়ে দেন।
এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা এমন কিছু নীতি নিয়েছিলেন যাতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার নারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয় এবং অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—যেন ভুক্তভোগী আরও অপমানিত না হন এবং অপরাধীরা সামাজিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হয়।
তবে শুধু আইন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে তাকে অর্থনৈতিকভাবেও শক্তিশালী হতে হবে। এই কারণেই মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নারীদের কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকতার পদ সংরক্ষণের পেছনেও শুধু চাকরি দেওয়ার চিন্তা ছিল না। এর মাধ্যমে অনেক মেয়ে অল্প বয়সেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর চাকরিতে যোগ দিয়ে তারা একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পেরেছে। এতে পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত হয়েছে।এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ। যখন একটি মেয়ে জানে যে পড়াশোনা করে চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে, তখন তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়। পরিবারও তাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করে।
একজন মেয়ে যখন নিজের আয় করতে পারে, তখন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে। সে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
গ্রামের অনেক পরিবারে আগে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ পরিবার মনে করত মেয়েদের ভবিষ্যৎ বলতে শুধু বিয়েই। কিন্তু যখন চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়, তখন সেই চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসে। পরিবার বুঝতে শুরু করে, মেয়েরাও পরিবারের অর্থনৈতিক শক্তি হতে পারে।
একজন শিক্ষিত নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন। তিনি জানেন কোথায় সাহায্য চাইতে হবে, কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।তাই নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে শুধু কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন নয়; এটি একটি প্রজন্মকে আরও সচেতন, আত্মনির্ভরশীল এবং শক্তিশালী করে তোলার প্রক্রিয়া।
প্রতিটি স্কুল, কলেজ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো জরুরি। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে যে সম্মতি, মর্যাদা এবং মানবিকতা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো সভ্য সমাজের ভিত্তি।
একটি মেয়ের নিরাপত্তা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব।একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন একজন নারী রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, অন্যায়ের শিকার হলে নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারেন এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সমান সুযোগ পান।
যে সমাজ তার নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে, সেই সমাজই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যায়। নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদা—এই চারটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শুধু অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করলেই হবে না, এমন একটি সমাজ গড়তে হবে যেখানে কোনো নারী অন্যায়ের শিকার হলে ভয় বা লজ্জায় চুপ করে থাকতে বাধ্য না হয়। তার পাশে পরিবার থাকবে, সমাজ থাকবে, আইন থাকবে—আর সবচেয়ে বড় কথা, তার কণ্ঠস্বর শোনা হবে।
ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়ার বাবা যখন মারা যান—তার এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক চারদিন পর—তখন তার পরিবার স্বভাবতই শোকগ্রস্ত ছিল। এরপরে যা হয়েছে তা ওয়াহিদের পরিবারকে আরও অনেক গভীর শোকে সত্যিকারার্থে দাফন করেছে। শত শোকের মাঝেও ওয়াহিদুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তার লক্ষ্য ছিল বিসিএস (প্রশাসন বা শিক্ষা ক্যাডার) জয় করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া, কারণ তাদের উপার্জনের আর কেউ ছিল না।
ওয়াহিদুরের শিক্ষাজীবন তছনছ করে দেয় একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভকারীরা যখন একটি স্লোগান দেয়, ‘তুমি কে ? আমি কে ? রাজাকার, রাজাকার’ যার মূল সূত্রই ছিল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক যারা কোটা আন্দোলনের বিরুদ্ধে তারা অনেকটা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান আর্মির বাংলাদেশী সহযোগী রাজাকারদের সমতুল্য’ তখন তার বিপরীতে তিনি “তুমি কে ? আমি কে ? বাঙালি, বাঙালি” স্লোগানটি অনলাইনে পোস্ট করেন। এই পোস্ট এবং ৩ আগস্ট একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশগ্রহণের কারণে তাকে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করা হয়, যা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার মিছিলে অংশগ্রহণের ভিডিওকে সে যে ছাত্রলীগ করে তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট বলে অভিহিত করে।
এই পরিস্থিতির চাপে তিনি দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস,পরিবারের সম্মানের কিথা ভেবে এবং কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীর উপদেশ শুনে ওয়াহিদ কোনমতে আত্মহত্যা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন বলে এ লেখককে জানান।
ওয়াহিদ বলেন আমার মায়ের পক্ষে আমাকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো সম্ভব না এবং ইউজিসি-র নিয়মের কারণে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানেও তিনি ভর্তি হতে পারছেন না। বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বার তার জন্য রুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ওয়াহিদ এর বয়স হচ্ছে মাত্র তেইশ।
এই গবেষণার অংশ হিসেবে সংগৃহীত অসংখ্য গল্পের মধ্যে ওয়াহিদের গল্পও আছে—বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষার্থী, যারা প্রত্যেকেই ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখানে প্রদত্ত সকল সাক্ষ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা স্বেচ্ছায় জমা দেওয়া হয়েছে, তাদের বক্তব্য তারা গবেষণা ও অ্যাডভোকেসির কাজে ব্যবহারের জন্য তাদের অনুমতি প্রদান করেছেন। এই পাঁচজনই একটি অভিন্ন গল্প শেয়ার করেছেন—এমন এক প্রজন্মের গল্প, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে কোন সুস্পষ্ট অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও, আইনী প্রক্রিয়া না মেনে,কোন রায়ের তোয়াক্বা না করে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা জীবন।
নয় মিনিটের ফেসবুক
১৫ জুলাই ২০২৪ এ যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অরাজকতা শুরু হয়েছে তার আগেই আশরাফ অর্ণব তার পরিবারের পরামর্শে হল ত্যাগ করে পঞ্চগড় রওনা করেন ট্রেনে করে। ট্রেনে বসেই ফেসবুকে দুপুর ১২.২১ মিনিটে ফেসবুকের একটা গ্রুপে একটি মন্তব্য করেন যেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলেন। মাত্র ৯ মিনিট পর ১২.৩০ মিনিটে তিনি মন্তব্যটি মুছে দিলেও তার এক সহপাঠী সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে নেন, বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেন, এই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ঘিরে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়, ২০২০-২১ সেশন দর্শন বিভাগের ছাত্র আশরাফ হয়ে যান মবের টার্গেট।
“I was completely boycotted from classes and exams by my various batchmates. Even though I apologized in the batch-based group, their collective decision did not change. I was forcefully told to refrain from participating in classes and exams with my 20-21 and 21-22 batches, and was strictly forbidden from informing any department teacher or the Chairman Sir about the sequence of events. I was also threatened that if I entered the campus, a mob would beat me and break my arms and legs.”
“আমি সম্পূর্ণরূপে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আমার ব্যাচমেটদের দ্বারা বয়কটের শিকার হই।আমাদের ব্যাচের গ্রুপে আমি ক্ষমা চাই।আমাকে জোরপূর্বক আমার ২০২০-২২,২০২১-২২ ব্যাচের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হই।ক্লাসের টিচার বা ডিপার্টমেন্ট হেডকে যেন না জানাই তা বলা হয়।আমাকে এও বলা হয় ক্যাম্পাসে ঢুকলে আমাকে নব করে হাত পা ভেঙ্গে দেয়া হবে”
আশরাফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোথাও কোন কেইস নেই। আশরাফ কোন দলের কোন পদেও নেই। তাকে মব করার হুমকি দিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয় এবং ক্যাম্পাসে ঢুকলে গণপিটুনির হুমকি দেওয়া হয়। তার সহপাঠীরা স্নাতক পাশ করে ফেললেও তার শিক্ষাজীবন গত দু বছর ধরে ব্যাহত।
সেই আলোকচিত্র
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক ছাত্র (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ২০২০-২১ সেশনের, ১৫ জুলাই ২০২৪-এ সংঘর্ষের সময় হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নীচের ঘটনা দেখছিলেন, তিনি এই অরাজকতাতে কোনভাবে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি চলে যান ফুলার রোডের দিকে। এবং সেখানে তিনি আহত হন। হাতে আঘত পেয়ে রাস্তায় পড়ে যান, তার রক্তপাত হচ্ছিলো সাংঘাতিক। আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি একটি ক্রিকেট স্টাম্প হাতে নিয়েছিলেন এবং সেই ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, তিনি যে আক্রমণের শিকার ও আহত তা বুঝাতে। রাতারাতি ছবিটা ভাইরাল হয়, তার বিরুদ্ধে এমনভাবে প্রোপাগান্ডা চালানো হয় যে ক্যাপশন দেখলে মনে হতে থাকে সে নিজেই আক্রমণকারীদের একজন, তিনি পিটিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাউকে রক্তাক্ত করেছেন। এই প্রোপাগান্ডার ফলে তিনি মৃত্যুঝুঁকির সম্মুখীন হন,সামাজিক বুলিংয়ের শিকার হন। তিনি নিজেকে এমন এক ঝড়ের মাঝে নিজেকে আবিষ্কার করেন যেখানে তিনি ভিক্টিম কিন্তু পোট্রে হন আক্রমণকারী হিসেবে।
“Since the evening of July 15, I was presented one-sidedly online. I became the victim of media trials and bullying in various ways. I even received death threats multiple times. Considering these threats as a real danger, I had to leave my home on August 5 and flee from city to city. I have been living in this fear for a long time. For almost two years, I have not been able to return to my own village home — a reality that is deeply painful and mentally devastating for me. When my own uncle died of a stroke, I could not even attend his funeral.”
“জুলাই ১৫ থেকে আমাকে একপেশে ভাবে উপস্থাপন করা হয়,মিডিয়া ট্রায়াকের মুখোমুখি হই।সাথে থাকে সাইবার বুলিং।এসব হুমকিকে আমলে নিয়ে আমি বাসা ছাড়ি ৫ আগস্ট,এবং এক শহর থেকে আরেক শহরে শুধু লুকাতে থাকি।দুই বছর ধরে নিজের গ্রামে ফিরতে পারছি না-এই যে বাস্তবতা এটা এতটা বেদনাদায়ক যে আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি।চাচা মারা গেলে এমন কী জানাযায়ও শরীক হতে পারিনি।”
তাকে মার্চ ১৭, ২০২৫ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় ঘটনার আট মাস পর। তার বাবার বিরুদ্ধে দেয়া হয় মিথ্যা মামলা। তাদের পারিবারিক ব্যবসা মবকারীরা দখল করে।পুরা পরিবার দেউলিয়া হওয়ার পথে। তিনি তার চাচার জানাজায় পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তিনি লিখেন, আমার বিভিন্ন সময় মনে হয়েছে নিজে আত্মহত্যা করি, তাহলে হয়তো এত অত্যাচারের অবসান ঘটবে।পরিবারের কথা ভেবে, ধর্মীয় অনুশাসনের কথা মেনে এখনো আত্মহত্যা করার মতো সাহস অর্জন করতে পারিনি।
‘আমি কোনভাবেই ঘরে ফিরতে পারছি না’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালরে ২০২০-২১ সেশনের আইন বিভাগের ছাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ জসিমউদ্দীন হলের গেইটে দাঁড়ানো ছিলেন ২০২৪ এর ১৫ জুলাই যখন আন্দোলনকারীরা দৌড়াচ্ছে হল আক্রমণ করার জন্য। ইউসুফ ঐখানে দাঁড়ানোই ছিলেন, ১৬ জুলাই দিনের প্রথম ভাগেই তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।ইউসুফকে বহিষ্কার করা হয় ঢাবি থেকে ২০২৫ এর মার্চে। তার বিরুদ্ধে দুইটা কেইস করা হয়। ৫ আগস্ট, ২০২৪ এ তার বাড়িতে আক্রমণ করে মব।
“Because the police were repeatedly sent to my house and out of fear of mob violence, I have not visited my home in two years. Since August 5, 2024, my family and I have been subjected to adverse comments by neighbours and various people in society. I have even heard myself being labelled a terrorist. Because these things went beyond the limit of tolerance, I have not been able to visit my family or my birthplace again.”
“পুলিশ এতবার আমার বাসায় আসে,এবং মব লিঞ্চিং এর ভয়ে আমি দুই বছর বাড়ী যাই না।৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে আমি ও আমার পরিবার পাড়া প্রতিবেশী ও সমাজের অন্যান্যদের বলা এত খারাপ মন্তব্যের শিকার হয়েছি যা ভাষায় বলার নয়।আমাকে এমন কি সন্ত্রাসীও আখ্যা দেয়া হয়েছে।এইসব মেনে নেয়া এত কঠিন যে আমি পরিবার এবং জন্মভিটা থেকে আজকে দুই বছর দূরে আছি।”
ইউসুফের ইচ্ছা ছিল জুডিশিয়াল পরীক্ষায় বসবেন। নিজের পড়ার খরচ চালানোর জন্য কয়েকটা টিউশনিও ইউসুফ করছিলেন। ঢাকা ছেড়ে যেতে যখন ইউসুফ বাধ্য হন তখন তার টিউশনির আয়ের উৎসও বন্ধ হয়ে যায়। ইউসুফ এখন সম্পূর্ণভাবে তার কৃষক বাবার আয়ের উপর নির্ভরশীল। ইউসুফ একবার আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে উঠেন; সৌভাগ্যক্রমে তার আইন বিভাগের কতিপয় সহানুভূতিশীল সহপাঠীর সাহায্যে তিনি আত্মহত্যা করা থেকে বিরত হন।
সৈয়দ ইশতিয়াক ফারদিন ইউসুফের মতো আইন বিভাগের ছাত্র, ২০২০-২১ সেশনের। জুলাইয়ে যে অরাজকতা বৈষম্য বিলোপের আহবান দিয়ে শুরু হয় তখন সে তার হলের রুমে ঘুমাচ্ছিলো। হৈ চৈ এর শব্দ শুনে সে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসেন এবং দেখেন আন্দোলনকারীরা অন্য ছাত্রদের লাঠি পেটা করছে এবং গেইটের দিকে ধাওয়া করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ফারদিন ইট পাথর নিক্ষেপ করা হলে আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরেরদিন সকালে ফারদিন ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। ৮ মাস পরে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ফারদিন লিখেন, দুই বছর হতে চললো নিজের গ্রামে ফিরে যেতে পারছি না, এই যে ফিরতে না পারা আমাকে এত বেদনার্ত করে রেখেছে যে আমি মানসিকভাবে একদম ভেঙ্গে পড়েছি।
“Depriving thousands of students of a fundamental right like education without proving any crime can in no way be desirable. I believe the victory of justice and truth is inevitable. And I want to get back my right to education and a normal life.”
“কোন অপরাধ ছাড়া হাজার হাজার ছাত্রকে শিক্ষার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না।আমি মনে করি ন্যায়বিচার ও সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী।আমি আমার শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনের অধিকার ফিরে পেতে চাই।”
(Anonymous (Dhaka University, Department of Disaster Management, Session 2020–21), personal testimony submitted 19 April 2026. Identity withheld at the subject’s request for reasons of personal security.)
৪০৩টি নাম, নেই কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ
২ নভেম্বর ২০২৫-এ জুলাই-আগস্ট ২০২৪ এর ঘটনার প্রায় এক বছর পরে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ৪০৩ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। প্রত্যেক নোটিশ প্রাপ্তকে লিখিত জানাতে বলা হয় কেন তাদেরকে ইউনিভার্সিটি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে না। নোটিশে নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের বা কাজের কথা উল্লেখ না করে কেবল একটি তারিখের সীমা দেওয়া হয় এভাবে “জুলাই ১৫ এবং আগস্ট ৫, ২০২৪ এর মধ্যে”।
৪০৩ জনের ভেতর একজন আনুষ্ঠানিকভাবে আইনজীবির মাধ্যমে নোটিশের উত্তর দেন। কয়েক পৃষ্ঠার এই উত্তর অত্যন্ত শান্ত ও সংযতভাবে, প্রায় বিনীত ভঙ্গিতে এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অন্যতম এক শক্তিশালী লেখনী হিসেবে রয়ে যাবে। কোনো প্রকার তিক্ততা বা দ্বেষ ছাড়াই দ্বীন ইসলাম নামক শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে এই নোটিশটি পদ্ধতিগতভাবে অবৈধ এবং স্বাভাবিক/ন্যাচারাল ন্যায়বিচারের পরিপন্থী, কারণ এখানে অপরাধ প্রমাণের আগেই শিক্ষার্থীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
“The language of the notice, demanding each of the 403 listed students to ‘show cause why they should not be permanently expelled,’ presumes guilt. This effectively shifts the onus and burden of proof onto the students, which is unconstitutional, as the presumption of innocence is a fundamental principle of justice applicable in both judicial and administrative proceedings.”
“নোটিশের ভাষা ছিল ৪০৩ জনের জন্য ‘’কেন তাদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে না’ অর্থাৎ ধরেই নেয়া হয়েছে যে সকলে অপরাধী।এই ভাষা এটাই বলে যে ছাত্ররা দোষী বা নির্দোষ তা প্রমাণের দায়িত্ব একান্ত ছাত্রদের;যা অসাংবিধানিক,কারণ একজন মানুষ অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ এটাই বিচারিক ও প্রশাসনিক কাজের বিধি।”
নোটিশের জবাবে দেখানো হয় ইউনিভার্সিটির নিজেদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি যা পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত তা প্রাথমিকভাবে করা ১২৮ জনের তালিকাকে কিভাবে কোন হিয়ারিং ছাড়াই ৪০৩ জনের তালিকায় উন্নীত করে। এটি বাংলাদেশ সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা সাংবিধানিক সুরক্ষাগুলোকে তুলে ধরেছে: আইনের দৃষ্টিতে সমতা, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং জীবন রক্ষার অধিকার। এতে ‘audi alteram partem’ নীতিটি উল্লেখ করা হয়েছে—যার অর্থ ‘শুনানি ছাড়া কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না’—এবং সতর্ক করা হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নেওয়া যেকোনো বহিষ্কার আদেশ বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (judicial review) মাধ্যমে বাতিলযোগ্য হবে।
নোটিশের বিপরীতে প্রদত্ত উত্তরের দলিলটি শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক আইনী ভাষায়, যেখানে ‘মানসিক যন্ত্রণা, সম্মানহানি এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত ও পেশাগত সম্ভাবনার ক্ষতির’ জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই আনুষ্ঠানিক ভাষার আড়ালে আসলে লুকিয়ে আছে একজন তরুণ, যে তার কাছে থাকা একমাত্র অবলম্বনটুকু দিয়ে একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানকে তার জীবনের সাথে যা করা হচ্ছে তার জন্য জবাবদিহিতা
বেআইনী অমানবিক কর্মকান্ডের পেছনের গল্প
এ ধরনের কেইস কোন বিচ্ছিন্ন একক ঘটনা নয় বরং এ এক ধারাবাহিক নিপীড়নের কাহন। অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান এবং অধ্যাপক ড. পূর্বা ইসলামের তৈরী করা ”বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘন” নামক এক প্রতিবেদনে মিথ্যা ও সাজানো মামলার শিকার হওয়া দুজন ব্যক্তি এই প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমত, একজন ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণপিটুনি বা ‘মব’-এর মাধ্যমে জনসমক্ষে ‘দালাল’ বা ‘জনশত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপরই আইনের প্রবেশ ঘটে: সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন, ১৮৮৪ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং দণ্ডবিধি (Penal Code) প্রয়োগ করা হয়।
আগস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫-এর মধ্যে বাংলাদেশে গণপিটুনিতে মৃত্যুবরণ করে ৬৩৭ জন, এ তথ্য উঠে এসেছে Global Centre for Democratic Governance এর রিপোর্টে; যা ২০২৩ এর সাথে তুলনা করলে ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে । বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে এক্সিকিউটিভ অর্ডারের মাধ্যমে অক্টোবর ২৩, ২০২৪ এ নিষিদ্ধ করা হয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আলোকে। এই আইনে একটি অবৈধ সরকার একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে তাদের যৌক্তিক বিশ্বাসের কারণে নিষিদ্ধ করে, যেখানে আইনের দৃষ্টিভঙ্গী একেবারেই অনুপস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রায় ৫ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১০,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী ও ১,০০০-এর বেশি শিক্ষক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন।
ছাত্রীদের ক্ষেত্রে, নারীদের ক্ষেত্রে অন্য মাত্রা যুক্ত হয়েছে কারণ সেখানে যেমন যৌন হয়রানি করা হয়েছে তেমনি অনলাইনে জেন্ডার বেইজড এবিউজ করা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতেভাবে মিথ্যা যৌন কেলেঙ্কারীর কথা ছড়িয়ে দিয়ে। মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ওয়াহিদুরের ভাষ্যে এও উঠে আসে কিভাবে ছাত্রলীগের ছাত্রীদের শুধু মব দিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে যখন ছাত্রীদের থামানো যাচ্ছিলো না তখন, ডিজাইন করা সাইবার এবিউজের শিকার হতে হয় ছাত্রীদের।ভুক্তভোগী ছাত্রীদের পরিবার পুলিশের নজরদারীতে পড়ে, নিজেদের এলাকায় সামাজিকভাবে একঘরে হয়,এবং তাদের নিজেদের করা কেইসে তারা নিজেরাই দেখা যায় অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে যান।
এত এত ঘটনা এর কোনোটাই আইনী শূন্যতার মধ্যে ঘটছে তেমন না কিন্তু। সাংবিধানিক বিধানগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাগুলোও প্রণিধানযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) নিজস্ব নিয়মাবলী—যা এই পরিস্থিতিতে বহিষ্কৃত কোনো শিক্ষার্থীকে দেশের অন্য কোথাও পুনরায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে—তা এখন এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যারা কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রশাসনের সাথে এই প্রক্রিয়ার কোনো মিল নেই। এটা একদম ইউনূস গং এর আবিষ্কৃত নতুন এক কালা কানুন।
“The final nail in the coffin of a student’s academic life is hammered in by temporary or lifelong expulsion or cancellation of the certificate. For that, the doors of any other educational institution in the country are also closed forever. This is a paper-and-pen murder, through which his future is buried alive.”
— Human Rights Violations against Public University Teachers and Students (August
“শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয় সাময়িক বহিষ্কা,আজীবনের জন্য বহিষ্কার বা সার্টিফিকেট বাতিল করে।এই কারিণে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বারও এসব শিক্ষার্থীর জন্য আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।এই খুন সরাসরি খুনের মতোই,যা করা হয়েছে কাগজে দেয়া কলমের খোঁচায়।”
প্রতিবেদনেও এই বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে “কাগজ-কলমে খুন” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জ্যান্ত কবর দেওয়া হয়।
একজন ছাত্র/ছাত্রীর স্বপ্নের পরিণতি
এই যে পাঁচজনের কথা কিভাবে কিভাবে যেন এক জায়গায় এসে একইভাবে শেষ হয়েছে-: “আমি মনের ভেতর সুন্দর একটা স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম”।
তারা সবাই একই গন্তব্যে এসেছিল—একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা ছিল তাদের পরিবারের জন্য উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ স্বপ্ন—এবং সবার উদ্দেশ্যও ছিল এক: পড়াশোনা করা, যোগ্যতা অর্জন করা এবং যারা তাদের ওপর নির্ভরশীল, সেই মানুষগুলোর দায়িত্ব নেওয়া। এদের অধিকাংশই ছিলেন মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান। তাদের অধিকাংশেরই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল: বিসিএস (BCS), বিজেএস (BJS), একটি সরকারি চাকরি, স্থায়ী বেতন—এমন একটি ভবিষ্যৎ যেখানে তাদের মা, বাবা এবং ভাই-বোনরা নিরাপদ থাকবে।
সেই পরিকল্পনাগুলো এখন থমকে গেছে। স্নাতক শেষ হওয়ার তারিখগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য হারিয়ে গেছে। গৃহশিক্ষকতা থেকে আসা আয়—যা কয়েকজনের জন্য ছিল আয়ের একমাত্র উৎস—তা-ও বন্ধ হয়ে গেছে,এখন তারা পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কেউ কেউ খাবারের জন্য টাকা ধার করছেন। আমরা উপরে দেখেছি একজন তার চাচার জানাজায় উপস্থিত হতে পারেননি। একজন দুই বছর ধরে তার গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। দুইজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়াকে কোনো প্রকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করেছে। তবে, তার জবানবন্দী শেষ করার সময় তিনি কোনো বিলাপ বা হাহাকার করেননি, বরং একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও বাগ্মী নীতিবাক্য দিয়ে শেষ করেছেন। কারণ এই তরুণ নিশ্চিত জানেন যে, প্রায় সবকিছু হারিয়েও তিনি সত্যের পথেই ছিলেন।
“Despite not committing any criminal offence or illegal act, I have been expelled from the university solely for believing in the spirit of the Liberation War and being affiliated with a partisan political organization. As a citizen of an independent, sovereign country, I have the right to organise.”
ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়ার ভাষায়—কোনো অপরাধ না করেও কেবল একটি আদর্শে বিশ্বাস করার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তার অধিকারের লঙ্ঘন। তিনি এখন কেবল ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।
ওয়াহিদের বাবা কবরে ঘুমিয়ে আছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার রাস্তা বন্ধ। তার দেশ তাকে একটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং একটি উগ্র জনতা বা ‘মব’-এর সমস্ত সহিংসতা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে—তার বিশ্বাস একটি অপরাধ। তিনি এতে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বিচার চাইছেন।
Sources and Documentation
Testimonies were willingly provided from April 10 to 20, 2026, with permission to be used for research, human rights documentation, and advocacy purposes. The background information is based on various sources, which include the Bangladesh Students League, State-Sponsored Repression and Institutional Violence against the Bangladesh Students League (Dhaka, 2025); Professors Dr. Md. Mashiur Rahman and Dr. Purba Islam, Human Rights Violations Against Public University Teachers and Students, August 2024 – August 2025 (Dhaka, 2025); The Anti-Terrorism Act (Bangladesh) amended October 2024; and the Constitution of the People’s Republic of Bangladesh.
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাজীপুর ইউনিয়নের কালামিয়ার পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক হোসেন (২৭) নামের ওই যুবককে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি অনুসারে, ফারুক হোসেন হাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি সম্প্রতি ৬ জুন নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের বড় মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফারুক সকালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ৩-৪ জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিতে তার তলপেট ও হাঁটু ক্ষতবিক্ষত হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হামলা
এই হামলাকে বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। গত ৬ জুন নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের ডাকা বড় মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মিছিলের পর পুলিশের ধরপাকড় এবং আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে নির্মূল করতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কর্মীরা এ ধরনের হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ এক যুবককে আটক করে, যাকে স্থানীয়রা জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত বলে দাবি করেন। এসব ঘটনাকে একসূত্রে গেঁথে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকাতে বিএনপি-জামাত শিবির সশস্ত্র হামলার পথ বেছে নিয়েছে।
বিস্তারিত সংবাদঃ
নোয়াখালীতে চেকেপোস্টে তিনটি বিদেশী পিস্তল-গুলিসহ জামায়াত কর্মী আটক
আহত ফারুকের পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে, তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মানুষের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ সমর্থন এবং ইতালির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি কেন তাদের জন্য সবচেয়ে ‘সহজ’ ছিল—তা নিয়ে ফিফার সঙ্গে পুরোনো স্মৃতি হাতড়ালেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রিভেলিনো।
ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর রবার্তো রিভেলিনো এখন স্টেডিয়ামের সেই চিৎকার-চেঁচামেচি ছেড়ে সাও পাওলোর এক শান্ত গ্রামে থাকেন। সেখানে এখন শুধুই পাখির ডাক শোনা যায়। তবে ফুটবলের বড় বড় মঞ্চের স্মৃতিগুলো ব্রাজিলের এই কিংবদন্তির মনে এখনো ভেসে ওঠে। বিশেষ করে ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের কথা তিনি ভুলতে পারেন না।
রিভেলিনো জানান, ব্রাজিলের তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার পেছনে মেক্সিকোর চমৎকার পরিবেশ বড় ভূমিকা রেখেছিল। চোখ বন্ধ করলেই তিনি এখনো ইতালির বিপক্ষের সেই ফাইনালে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ১ লক্ষ দর্শকের চিৎকার শুনতে পান। তবে মেক্সিকোর মানুষের সঙ্গে ব্রাজিল দলের এই ভালোবাসার সম্পর্ক ফাইনাল ম্যাচের অনেক আগেই তৈরি হয়েছিল।
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিভেলিনো বলেন, ‘১৯৭০ সালে মেক্সিকোতে আমাদের অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। কারণ ফাইনাল খেলার আগ পর্যন্ত আমরা গুয়াদালাহারা শহরেই ছিলাম। আমরা একের পর এক ম্যাচ জিতছিলাম, তাই পুরো টুর্নামেন্টে আমাদের একই শহরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল। এই কারণে পুরো বিষয়টা আমাদের কাছে খুব স্পেশাল ছিল। এরপর আমরা ফাইনাল খেলতে গেলাম কানায় কানায় ভরা অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে—যেটি ছিল এক বিশাল মাঠ।’
কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক মেক্সিকো বিদায় নেওয়ার পর, দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা ব্রাজিল দলকে মন-প্রাণ দিয়ে সমর্থন করতে শুরু করেন। এটি ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। ব্রাজিলও দুর্দান্ত খেলে দর্শকদের সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছিল।
পেলে, তোস্তাও, গার্সন, জাইরজিনহো এবং রিভেলিনোর মতো তারকাদের জাদুকরী খেলায় ব্রাজিল তাদের সবকটি (ছয়টি) ম্যাচেই জয় পায়।
রিভেলিনো বুঝিয়ে বলেন, ‘মেক্সিকো যখন বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে গেল, তখন মেক্সিকোর মানুষ আমাদের আপন করে নিলেন। এর কারণ ছিল আমাদের খেলার চমৎকার ধরন এবং ফুটবলের জাদু। তারা আমাদের সত্যিই মনে জায়গা দিয়েছিলেন এবং মন থেকে সমর্থন করেছিলেন। এই কারণেই ফাইনাল ম্যাচটি দেখার মতো একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।’
মেক্সিকোর মাটিতে ব্রাজিলের ফুটবল জাদু
ব্রাজিল দলের এই দাপট কিন্তু হুট করে আসেনি। এটি ছিল এমন একটি দল, যারা মাঠে নামলেই প্রতি ম্যাচে নিজেদের খেলা আরও উন্নত করে তুলছিল। দলের ভেতরের বোঝাপড়া এবং আত্মবিশ্বাস এতটাই বেশি ছিল যে, রিভেলিনোর মতে, কোনো প্রতিপক্ষের পক্ষেই তাদের থামানো সম্ভব ছিল না।
প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে ব্রাজিলের খেলার ধার বাড়ছিল। এমনকি টুর্নামেন্টে আরও দুই-তিনটি ম্যাচ হলেও আমার মনে হয় না কেউ আমাদের হারাতে পারত। আমরা দিন দিন আরও ভালো খেলছিলাম। আর তার ওপর আমাদের দলে ছিলেন ফুটবল সম্রাট পেলে। এমন খেলা কে না দেখতে চাইবে?’
দলের সবচেয়ে শক্তিশালী বাঁ-পায়ের মালিক—যাকে সবাই ‘পাতাদা অ্যাটমিকা’ (পারমাণবিক লাথি) নামে ডাকত—তিনি বেশ শান্তভাবেই ফাইনাল ম্যাচের কথা মনে করলেন। তার মতে, শক্তিশালী ইতালির বিপক্ষের সেই ফাইনাল ম্যাচটিই ছিল পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে সহজ ম্যাচ।
পেলে এবং ইতালির রবার্তো বোনিনসেগনিয়ার গোলে প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল একচেটিয়া খেলে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। গার্সন, জাইরজিনহো এবং কার্লোস আলবার্তোর গোলে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে বিশাল জয় নিয়ে ট্রফি জিতে নেয়।
রিভেলিনো বলেন, ‘বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, আমাদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির এবং “সহজ” ম্যাচ ছিল ইতালির বিপক্ষের ফাইনালটি। এটা শুনে হয়তো মনে হতে পারে, “সে কী, ফাইনাল ম্যাচ আবার সহজ হয় নাকি?” কিন্তু মাঠে আমার মনে হচ্ছিল আমরা অনায়াসে পাঁচটি গোল করতে পারতাম। এমনকি আমি যখন গোল করার জন্য একদম তৈরি, তখন এক ডিফেন্ডার আমাকে ফাউল করে ফেলে দেন। কিন্তু আমরা তখন ৪-১ গোলে এগিয়ে থাকায় রেফারি আর পেনাল্টি দেননি।’
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে আনন্দের এক তুমুল হুলস্থুল পড়ে যায়। মেক্সিকোর সমর্থকরা নিরাপত্তার দেওয়াল ভেঙে মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে উদযাপন করতে থাকেন।
হাসিমুখে সেই স্মৃতি মনে করে রিভেলিনো বলেন, ‘ফাইনাল ম্যাচের কথা মনে করলেই ভেসে ওঠে, খেলা শেষ হওয়া মাত্র মেক্সিকোর ভক্তরা মাঠে নেমে এসেছিলেন। তারা পেলের মাথায় একটি মেক্সিকান টুপি (সোমব্রেরো) পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেটি ছিল এক চরম উন্মাদনা! আজকাল এমনটা আর দেখা যায় না। কিন্তু তখনকার দিনে মানুষ মাঠে চলে আসত। তোস্তাওয়ের তো প্রায় অন্তর্বাস ছাড়া সব পোশাকই টেনে খুলে নেওয়া হয়েছিল। ভাবা যায় না!’
গৌরবের সেই মঞ্চে ফিরে যাওয়া
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর, উত্তর আমেরিকায় আরেকটি বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। আর এই বিশ্বকাপ মেক্সিকোর সঙ্গে রিভেলিনোর সেই পুরোনো স্মৃতিকে আবারও তাজা করে তুলেছে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি মাঠে উপস্থিত থাকবেন।
যদিও রিভেলিনো সম্মাননা নেওয়ার জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার মেক্সিকোতে গিয়েছেন, কিন্তু যে মাঠে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেখানে আর যাওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে, আরেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফুর সঙ্গে তাকে মেক্সিকোর ‘পাচুকা ফুটবল হল অব ফেমে’ জায়গা দেওয়া হয়।
সাবেক এই মিডফিল্ডারকে মেক্সিকো সিটির একটি প্রতীকী চাবিকাঠি দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল—যা ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপজয়ী নায়কদের দেওয়া একটি বিশেষ সম্মান। তিনি এখন দিন গুনছেন সেই চেনা মাঠে আবার পা রাখার জন্য, যা তাদের প্রজন্মকে ফুটবল ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি দারুণ মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। প্রায় ৫৬ বছর পর আমি সেখানে আবার পা রাখব। আমি সত্যিই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’