কঙ্গো থেকে উগান্ডা হয়ে নাইজেরিয়ায় ইবোলা, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

আফ্রিকার চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নাইজেরিয়ায় এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে অসুস্থ হওয়ার ১৩ দিন পর তার শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত করা হয়। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত করা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে নাইজেরিয়া থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার দূরে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রথম এই প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে উগান্ডা ও কেনিয়াতেও সংক্রমণ ছড়ায়। মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় রোগী শনাক্ত হওয়ার পর আফ্রিকায় এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তৃতি আরও বেড়েছে। আক্রান্ত নারী উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী এক সুইস কূটনীতিকের স্ত্রী। আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (আফ্রিকা সিডিসি) মহাপরিচালক জ্যঁ কাসেয়া রয়টার্সকে জানান, দুই সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে গত ৩ অক্টোবর তিনি নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় পৌঁছান। আবুজা দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও যাতায়াতকেন্দ্র। কাসেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, দেশটিতে পৌঁছানোর তিন দিন পর ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে ম্যালেরিয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। পরে তিনি কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে যান। তবে ১৯ অক্টোবর তার ইবোলা পরীক্ষা করা হয়। ‘এখন কেউই নিরাপদ নয়’ কাসেয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকা তৈরির সময় নাইজেরিয়া সেখানে ছিল না। কিন্তু এখন দেশটিকে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তার মতে, উত্তর ও দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলোরও ঝুঁকি নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখন আমাদের বিবেচনা করতে হবে, কেউই নিরাপদ নয়।” দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়ায় ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করেন কাসেয়া। ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তার শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শে এলে অন্যদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। কাসেয়া বলেন, ওই নারী প্রায় দুই সপ্তাহ পরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেছেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সংস্পর্শে এসেছেন। ফলে তাদের সবাইকে শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৪৪ জনকে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করেছে। তবে ইবোলা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও প্রজাতি। এ প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। শুধু কঙ্গোতেই এ প্রাদুর্ভাবে ৯ হাজার ৫০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ হাজার ৬০০ জনের বেশি মারা গেছেন। ‘সংক্রমণ এখনো শেষ হয়নি’ গত মে ও জুনে উগান্ডায় ২০ জনের ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তাদের বেশির ভাগই কঙ্গো থেকে সংক্রমিত হয়েছিলেন। পরে আগস্টে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে। উগান্ডার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত ওই নারী উগান্ডায় যাওয়ার আগে পূর্ব কঙ্গো সফর করেছিলেন। তবে নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই নারীর কঙ্গো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই। নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “আমাদের দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীর কঙ্গো সফরের বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তাই আমরা ধারণা করছি, তিনি সম্ভবত উগান্ডায় সংক্রমিত হয়েছেন।” কাসেয়া জানান, এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পেতে আফ্রিকা সিডিসি কঙ্গো ও উগান্ডার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ওই নারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইবোলা জরুরি কমিটির সদস্য ও ডাচ ভাইরোলজিস্ট মারিয়ন কুপম্যানস বলেন, ওই নারী কঙ্গোতে গিয়েছিলেন কি না, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, ওই নারী কঙ্গো সফর করে থাকলে সীমান্ত ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে। আর কঙ্গোতে না গিয়ে থাকলে উগান্ডায় কীভাবে তিনি সংক্রমিত হলেন, তা খতিয়ে দেখতে হবে। কুপম্যানস বলেন, “যেভাবেই হোক, এটি নিশ্চিত করছে যে সংক্রমণ এখনো শেষ হয়নি।” নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় দেশটি সফলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিল। তাই এবারও রোগ নিয়ন্ত্রণে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে নাইজেরিয়ার চিকিৎসক ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগবিষয়ক জি৭ কমিটির সহসভাপতি আয়োডে আলাকিজা এ দাবির সঙ্গে ভিন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ২০১৪-২০১৬ সালের প্রাদুর্ভাবের সময় লাইবেরিয়া থেকে নাইজেরিয়ায় আসা প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। আলাকিজা বলেন, “এবারের পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা।”

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়াতে চাইছে ইরান: ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৭ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইরান। এ জন্য দেশটি হামলার ঘটনা সাজিয়ে প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি এ অভিযোগ করেন। ট্রাম্পের দাবি, সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশি তেল পরিবহন হচ্ছে। এরপরও তেলের দাম বাড়াতে ইরান নানা চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ১০০ দিনে গড়িয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তাদের দাবি, ‘স্টিল ওয়াল’ নামের এ অবরোধের কারণে ইরান অন্তত ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে পারেনি। সেন্টকম আরও দাবি করেছে, এ অবরোধের ফলে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অর্থের জোগান সীমিত হয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী, অপরাধী চক্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতো বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় ফিরবে না এবং হরমুজ প্রণালিও খুলবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খুলে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান। এদিকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে নতুন করে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১১ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রেন্ট তেলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো এর দাম এমন পর্যায়ে উঠেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায় অতিরিক্ত কেনাকাটার ইঙ্গিত দেয়। ১৮ মে-এর পর সর্বোচ্চ দামে দিন শেষ করার দিকেও এগোচ্ছিল ব্রেন্ট তেল। সূত্র: শাফাক নিউজ

৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে মোটরসাইকেল ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের আরও এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ের ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার দিঘিরপাড় এলাকার আক্তার মিয়ার ছেলে রুদ্র মিয়া এবং বেল্লারটেক এলাকার কামালের ছেলে ইয়াছিন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাঘবের সিটি মার্কেট এলাকার জিল্লুরের ছেলে শ্রাবণ মিয়া। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন। ওসি জানান, তিন বন্ধু একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলে করে পূর্বাচল এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছিলেন। একপর্যায়ে তারা ভূঁইয়াবাড়ী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সার্ভিস লেন দিয়ে উল্টো পথে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইয়াছিন ও রুদ্র নিহত হন। এ সময় শ্রাবণ মিয়া গুরুতর আহত হন। ওসি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে হচ্ছে।

হিমছড়ি সৈকতে নিখোঁজ নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মৃত বেড়ে ৫

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন। নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। হিমছড়ি সৈকতে নিখোঁজ নর্থ সাউথ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মৃত বেড়ে ৫ ভারত যাওয়ার পথে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আটক স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। Ad ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়। কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৩ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বন ও ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ধোঁয়ার কারণে দেশটিতে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭০ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক থান সুয়ান্তি বলেন, প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। বুধবারও নতুন করে ৪ হাজার ৫২২ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্তারা। সর্বশেষ বায়ুমান সূচকে দেখা গেছে, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে বাতাসের মান বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ছয়টি প্রদেশে। এগুলো হলো রিয়াউ, জাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা, পশ্চিম কালিমান্তান, দক্ষিণ কালিমান্তান ও মধ্য কালিমান্তান। সুয়ান্তি বলেন, দাবানলের ধোঁয়ায় অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা পিএম২.৫, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থাকে। এসব উপাদানের সংস্পর্শে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ এবং চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এদিকে বন ও ভূমিতে বারবার আগুন লাগার ঘটনায় বিদেশি কোম্পানিগুলোর দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এসব ঘটনায় বিদেশি কোম্পানির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, কিছু কোম্পানি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন ও ভূমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু তাদের কয়েকটি তিন, চার, এমনকি ১২ বার পর্যন্ত নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। কোনো কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ১৯ বার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনো কোম্পানি দুবার নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের অনুমতি বাতিল করা উচিত। বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের ব্যবসার অনুমতি বাতিল করা হতে পারে। বাতিল হওয়া জমি ব্যবহারের অধিকার তরুণ ইন্দোনেশীয়দের দেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। এদিকে পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী সামারিন্দায় হাজারো শিক্ষার্থী ও অন্যান্য মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বন ও ভূমিতে আগুন লাগার ঘটনাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করার দাবিতে তারা এ বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আইনিউজ। ইন্দোনেশিয়ায় এবার অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক আবহাওয়া চলছে। এল নিনোর প্রভাবেও দাবানল ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু

হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আহ্বান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩৩ পূর্বাহ্ন

ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং ইয়েমেনে তাদের সামরিক অভিযান নিয়ে নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার এ আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে গৃহীত এক প্রস্তাবে হুতিদের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখা, নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে ইইউর সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্লামেন্টের সদস্যরা। একই সঙ্গে সংগঠনটির অর্থের জোগান বন্ধ, সম্পদ জব্দ এবং তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থনৈতিক সম্পদ আটকে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে হুতিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে ইইউর সব সদস্যদেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে বলে ২০ অক্টোবর পার্লামেন্টে এক আলোচনায় জানিয়েছেন ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বলেছে, হুতিদের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন এবং ইয়েমেনের মানবিক সংকট আরও বেড়েছে। Ad প্রস্তাবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে হুতিদের অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা। এ ছাড়া হুতিদের সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ের অভিযোগের নিন্দা জানিয়েছেন তারা। এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পাশাপাশি ইইউ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে। Ad এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের নাজরান শহরের দিকে যাওয়ার সময় আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাঁচটি, পূর্বাঞ্চলে পাঁচটি এবং দক্ষিণ সৌদি আরবে একটি ড্রোন ছিল। তবে ২১ অক্টোবর হুতিরা মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানো এবং ওই দিন সৌদি আরবে সামরিক অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এসব হামলার দাবি করেছিল। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে হুতি ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পাশাপাশি সীমান্তপারের হামলাও বেড়েছে। সূত্র: শাফাক নিউজ

ফ্রান্সে ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ নিষিদ্ধ

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর আগামী কয়েক দিনের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। বিশেষ করে আগামী শনিবার এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার নিরাপত্তাবিষয়ক এক বৈঠকের পর মাখোঁ বলেন, যেসব সংগঠনের বিক্ষোভ বা সমাবেশ আয়োজনের বৈধতা নেই, তাদের আবেদন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাতিল করবেন। তিনি জানান, ট্রেড ইউনিয়নগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের অনুমতি চাইতে পারবে। তাদের আবেদন পর্যালোচনা করবেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর আবেদনের ক্ষেত্রে তারা বিকল্প পথে বিক্ষোভ করার প্রস্তাব দেবেন। তবে ট্রেড ইউনিয়ন ছাড়া অন্য সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের আবেদন সম্ভব হলে নিষিদ্ধ করা হবে। পরিস্থিতি শান্ত রাখা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন সুরক্ষিত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাখোঁ। জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহান্তে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেন মাখোঁ। তিনি বলেন, পরিস্থিতির কিছু দিক আগে থেকে অনুমান করা যায়নি। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে সমাবেশ ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কারফিউ জারি করা হয়েছে। গত বুধবার রাতের ঘটনাগুলোও এসব পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। মাখোঁর অভিযোগ, সম্প্রতি উগ্র বামপন্থি সংগঠনগুলো সরকার উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে। তাদের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে শুক্রবার প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি বৈঠক ডাকার কথাও জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। সেখানে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। সূত্র: আনাদোলু

স্থিতিশীলতা রক্ষায় সতর্ক থাকতে হবে

প্রকাশিতঃ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ | ৫:৩২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের পর মানুষ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক সংবাদ। তবে এ অর্জন ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিপোর্ট অব আ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন বাংলাদেশ: পলিটিক্যাল সিচুয়েশন, অক্টোবর ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে। নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসরও বেড়েছে। এসব তথ্য দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরও কিছু ইতিবাচক বিষয় উঠে এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন অপেক্ষাকৃত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাজের সুযোগ বেড়েছে। সাধারণ মানুষও রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নিতে পারছে। আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা বহু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অনেক বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করতে সহায়ক হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সহিংসতা কমে যাওয়ার অর্থ সব সংকটের অবসান নয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় পর্যায়ে সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সংঘাতের পেছনে রয়েছে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পত্তি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা। এমন প্রবণতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। স্থানীয় সংঘাত অনেক সময় বড় রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে। তাই প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া চলবে না। আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। দেশি ও বিদেশি নানা স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত অগণতান্ত্রিক শক্তির সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা রাজনৈতিক বিভেদ, অপপ্রচার কিংবা সহিংসতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে উৎসাহব্যঞ্জক। তবে একটি তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ইতিবাচক মূল্যায়নই স্থায়ী স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা নয়। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হবে। বাংলাদেশ অনেক ত্যাগের বিনিময়ে নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। সেই সম্ভাবনা নষ্ট হতে দেওয়া যায় না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অর্জন সুরক্ষিত রাখতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে সচেতন থাকতে হবে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মত উপায়ে। শান্তি, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হোক নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।