ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

ভিডিওর মাধ্যমে সব বিষয়ে জানতে ইউটিউবের বিকল্প এখন নেই বললেই চলে। দিনে অন্তত একবার ইউটিউবে ঢুঁ দেওয়া হয় না– এমন দর্শক নেই। কর্তৃপক্ষ ইউটিউবকে জনপ্রিয় করতে সামান্য বিরতিতেই আনে পরিবর্তন আর দৃষ্টিনন্দন সব ফিচার। এরই ধারাবাহিকতায় ইউটিউব আবার কয়েকটি নতুন ফিচার উন্মোচনের কথা জানিয়েছে। নতুন করে এই প্ল্যাটফর্মে ভিডিও দেখার অভিজ্ঞতা সহজ ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠবে। সংস্থাটি বলছে, সারাবিশ্বে ক্রমে এসব আপডেট গ্রাহকের জন্য অবমুক্ত করা হবে। ক্লিয়ার স্ক্রিন মোড উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আপডেটের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ক্লিয়ার স্ক্রিন মোড। এই ফিচার চালু করলে ভিডিও চলার সময় স্ক্রিন থেকে আইকন, বাটন ও অন্যসব লেখা সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে থাকবে। এর ফলে কোনো বাধা ছাড়াই পুরো ভিডিও উপভোগ করা যাবে। টুএক্স প্লেব্যাক স্পিড এ ছাড়া টুএক্স প্লেব্যাক স্পিড ফিচার আনা হয়েছে। আগ্রহীরা এর মাধ্যমে সবকটি শর্টসকে আরও দ্বিগুণ গতিতে দেখতে পারবেন। ফলে কম সময়ে বেশি ভিডিও দেখার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে ইউটিউবে আরও কিছু নতুন প্লেব্যাক কন্ট্রোল ফিচার উন্নয়ন করা হয়েছে। এসব ব্যবহার করে ভিডিও পজ করার পরে সহজেই মিউট করা যাবে। ভিডিও চলাকালে কন্ট্রোল হবে আরও নিয়ন্ত্রিত। আইকনে কয়েকটি পরিবর্তন ইন্টারফেসে দৃশ্যমান হবে বড় ধরনের পরিবর্তন। এর আগে লাইক (থাম্বসআপ) আইকনের বদলে অনেকটা ইনস্টাগ্রামের মতো হার্ট আইকন ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শর্টস থেকে ডিসলাইক বাটন সরিয়ে তার বদলে নট ইন্টারেস্টেড অপশন আনা হয়েছে। এ ছাড়া ডোন্ট রিকমেন্ড দিস চ্যানেল অপশন ব্যবহার করা হয়েছে। জনপ্রিয় হচ্ছে শর্টস অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর এখন শর্টস তৈরিতে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, সারাবিশ্বে প্রতিদিন ২০ কোটির বেশি দর্শক এখন শর্টস নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। তুমুল জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মকে দৃষ্টিনন্দন করতেই নতুন সব ফিচার আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্রমে বিশ্বের সবকটি দেশের ইউটিউব দর্শকের জন্য এই পরিষেবা উন্মুক্ত করা হবে। সবার কাছে এই সুবিধা পৌঁছাতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।

মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ

আর মাত্র কিছুক্ষণ পরই শুরু হতে যাচ্ছে কেপ ভার্দে বনাম আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত শেষ বত্রিশের লড়াই। বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এই ম্যাচের জন্য নিজেদের শুরুর একাদশ ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, একাদশে আছেন দলের নেতা লিওনেল মেসি এবং তিনি শুরু থেকেই মাঠে থাকছেন। স্কালোনির ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, যথারীতি একটি শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছে আলবিসেলেস্তেরা। গোলবার সামলানোর বিশ্বস্ত দায়িত্বে থাকছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণভাগে প্রতিপক্ষের আক্রমণ রুখে দিতে তার সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়াবেন মোলিনা, রোমেরো, লিসান্দ্রো এবং মেদিনা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং খেলা তৈরির দায়িত্বে থাকবেন ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার এবং আলমাদা। আর আক্রমণভাগে দলের মূল ভরসা হয়ে শুরুর একাদশে লিওনেল মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন ফর্মে থাকা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ।

রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৪২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে মিরপুর থেকে সর্বাধিক ৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৬৮টি মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, পুলিশের রমনা বিভাগ ৪১, লালবাগ ২৬, ওয়ায়ী ৫২, মতিঝিল ৪৮, তেজগাঁও ৫৫, মিরপুর ৯৭, গুলশান ৩৯, উত্তরা ৬৩ এবং গোয়েন্দা বিভাগ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৮ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ৫ হাজার ২১৮ পিস ইয়াবা, ১৫ পুরিয়া হেরোইন, ৪ বোতল ফেনসিডিল, একটি চাপাতি, একটি চাকু, একটি রশি, দুটি প্যাথেডিন ইনজেকশন, ২৪টি মোবাইল ফোন, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বিভিন্ন প্রজাতির ১ হাজার ১০৪ টি প্রাণী, ৭৫ কেজি লেবু, একটি মেমো ও দুজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বুধবার রাজধানীতে ৪২২ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। সেদিন ৮৯টি মামলা হয়। আর মঙ্গলবার ১২৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। পুলিশ বলছে, নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার হওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৩০ জুন থেকে বাড়িয়ে এই সময়সীমা ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) থেকে এই তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় সরকারের চার প্রতিষ্ঠান- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আলাদা চারটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে ইসি। এগুলো চূড়ান্ত করে চলতি জুলাই মাসের মধ্যে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা আগে ৩০ জুন ছিল। সেটা আমরা ৩১ জুলাই পর্যন্ত করে দিয়েছি। আমরা যদি অক্টোবরে স্থানীয় সরকারের ভোট করি তাহলে পেছনে যেতে অসুবিধা নেই।’ তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তারা আমাদের একটা চার্ট (রোডম্যাপ) দিয়েছে, কোন কাজ কখন করতে হবে। ভোটার তালিকা আমরা কোন পর্যন্ত চূড়ান্ত করতে পারবো, সেটাও বলা আছে।’ আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন, তাদের আমরা ভোটার তালিকায় যোগ করতে পারবো। তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ইসিকে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।’

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায়

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতির কারণে সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদায়ী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঘাটতিতে রয়েছে। একইসঙ্গে বাজেটে নির্ধারিত বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম অর্জিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় দাঁড়িয়েছে ৪৫৮ কোটি ডলারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৫৬১ কোটি ডলার। রাজস্ব আদায় ও বিদেশি ঋণের গতি কম থাকায় বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত নিতে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৫ শতাংশের ঘরে, ফলে সরকার বাড়তি ঋণ নিলেও তার চাপ বেসরকারি খাতে পড়েনি। অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬.৮ শতাংশ, আর সরকারি খাতে ২১.৮ শতাংশ।

‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে মদ্যপানের পর চিৎকার-চেঁচামেচি ও মাতলামি করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। ঘটনাটি উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালী বহুপার্শ্বিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে। এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, ভিডিওটি নজরে এলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে শোকজ করেন। ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন তার কক্ষে বসে আবোলতাবোল বকছেন। মদ্যপানের কথা স্বীকার করতেও শোনা যায় তাকে। একপর্যায়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। খবর পেয়ে স্বজনরা এসে তাকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। নিরাপত্তা শঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর পিতা বলেন, “হেডস্যার রুহুল আমিন অনেকদিন ধরে স্কুলে বসে মদ খান।স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতের বড় নেতাদের শেল্টারে চলাফেরা করেন তিনি। প্রভাবশালী হওয়ার কারণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।” আরেক অভিভাবক জানালেন, বিদ্যালয়ের এমন ভয়াবহ পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। এ ঘটনার পর অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, মানসিক অশান্তির কারণে তিনি মদ্যপান করেছিলেন। তখন তার মাথা ঠিক ছিল না। ওই অবস্থায় কী বলেছেন বা কী করেছেন, তা তার মনে নেই। বিদ্যালয়ে ওই অবস্থায় যাওয়াটা তার ভুল হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি অকপটে নিজের দায় স্বীকার করেন জানান, সেসময় তার বিবেক কাজ করেনি। নইলে এমন ঘটনা ঘটত না। এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, প্রধান শিক্ষককে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রথম বছরেই ২৩২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি। এর মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি মালিকানাধীন পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে কারখানাটি। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে সার আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল উৎপাদন সক্ষমতার কারখানাটি নির্মাণ করে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে কারখানাটি উৎপাদনে যাওয়ার পর থেকেই দেশের শিল্পখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানা দেশের কৃষিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম। গত ২৯শে জুন প্রকাশিত কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন শুরু না হলেও ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও ঋণের সুদ পরিশোধের কারণে কোম্পানির ৩৩৭.৮২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই কারখানাটি মুনাফা করলেও বাকি চারটি কারখানার সম্মিলিত লোকসান হয়েছে ৪১৪ কোটি টাকা। মূলত পূর্ণ ক্ষমতায় কারখানা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চাপে ও পরিমাণে নিরবচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক গ্যাস না পাওয়ায় এই লোকসান হয়েছে। মুনাফার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান বলেন, “নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। আর কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় সচল থাকায় আমরা প্রথম বছরেই মুনাফা করতে পেরেছি।” দেশের কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সার কারখানাটি নির্মাণ করে। ১১০ একর জমিতে নির্মিত এই কারখানার দৈনিক সার উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন এবং বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন, যা এটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সার কারখানায় পরিণত করেছে। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩২.২৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশের বাজারে সার বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা এবং সরকারি ভর্তুকি থেকে আয় হয়েছে ৮৯৯ কোটি টাকা। কোম্পানির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯০১ কোটি টাকা। ১৭০.৯৩ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর পরিচালন মুনাফা দাঁড়ায় প্রায় ৭৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া নন-অপারেটিং উৎস থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা, মূলত ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট (এফডিআর) এবং অন্যান্য বিনিয়োগের সুদ থেকে। অর্থবছরে ব্যাংকগুলোতে কোম্পানির ২৫১ কোটি টাকার এফডিআর ছিল। তবে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পেছনে বড় অঙ্কের খরচ করতে হয়েছে। গত এক বছরে ঋণের সুদ ও আসলের কিস্তি বাবদ কোম্পানি ব্যয় করেছে প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা। আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, কারখানাটির দীর্ঘমেয়াদি দায় ১২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ ১০ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা এবং সরকারের এডিপি ঋণ ১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি)-এর ঋণের স্থিতি ছিল ৭ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ গ্যারান্টি সংস্থা (এমআইজিএ) সমর্থিত টার্ম লোনের স্থিতি ছিল ৩ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই দুই বিদেশি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে কোম্পানিটি। ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে শহীদুল্লাহ বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও কোম্পানি মুনাফা করবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে মুনাফার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম হতে পারে। তিনি বলেন, “গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাটি প্রায় ৪০ দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে আমরা আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯০ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছি। যেহেতু অর্থবছর মাত্র শেষ হয়েছে, তাই আয়-ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনো সম্পন্ন হয়নি।” তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং উৎপাদন শুরুর পর থেকে কোম্পানির নিজস্ব আয় থেকেই এই ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “১০ বছর মেয়াদি এই ঋণের এরই মধ্যে ৬টি কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে। যদি আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পাই এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে পারি, তবে আগামী বছরগুলোতে কোম্পানি ভালো অঙ্কের মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হবে।” চার সার কারখানায় ৪১৪ কোটি টাকা লোকসান শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিআইসি পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা পরিচালনা করে। সব মিলিয়ে সংস্থাটির নিজস্ব ১১টি কারখানা রয়েছে এবং যৌথ অংশীদারিত্বে আরো ১০টি কারখানা পরিচালিত হচ্ছে। পাঁচটি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে অর্থবছরে কেবল ঘোড়াশাল মুনাফা করেছে। বাকি চারটি কারখানা সম্মিলিতভাবে ৪১৪ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ২১৫.১৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড। শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের লোকসান হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের ৩৩ কোটি টাকা এবং যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ৩০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ২৮ হাজার টন ইউরিয়া, ৭২ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) এবং ৪৯ হাজার ৫৩২ টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) উৎপাদিত হয়েছে। দেশীয় উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ৪৪ হাজার টন ইউরিয়া আমদানি করেছে।

সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ

প্রকাশিতঃ জুলাই ৪, ২০২৬ | ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনও কর বাড়ানো হয়নি; বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এই কর কমানোর প্রভাব বাজারে তেমন একটা পড়েনি। যদিও ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন শুল্ক-ছাড়ে আমদানি করা পণ্য বাজারে আসার পরই এর প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজেটে আমদানি করা সব ধরনের মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে এই নীতিগত ছাড়ের সুফল এখনও রাজধানীর খুচরা বাজারে পুরোপুরি পৌঁছায়নি। বাজারে ব্যবসায়ীদের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা। কেউ বলছেন, কিছু মসলার দাম কমেছে। আবার কেউ বলছেন, দাম আগের মতোই রয়েছে, এমনকি কিছু মসলার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে খেজুরের দাম এখনও অপরিবর্তিত। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। বাজারে গেলে দেখা যায় স্বল্প আয়ের মানুষের হাহাকার। পণ্য নেড়েচেড়ে রেখে দিচ্ছেন, দামের কারণে কিনতে পারছেন না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। তাদের কণ্ঠে অসন্তোষের সুর। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজেটে অনেক পণ্যের দাম কমার কথা থাকলেও এখনও সব পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়েনি। তাদের ধারণা, ধীরে ধীরে এর প্রভাব দেখা যেতে পারে। তবে নতুন শুল্ক-ছাড়ে আমদানি করা পণ্য পাইকারি আড়ত থেকে খুচরা বাজারে পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত বাজারে উচ্চমূল্যের প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। পুরান ঢাকার আল্লাহর দান মসলা বিতানের মালিক হাজি আবু বক্কর বলেন, “বাজেটের পর বাজারে একেক পণ্যের দাম একেক রকম। এলাচ ও জিরার দাম কিছুটা কমেছে। এতে ক্রেতারা এই দুটি পণ্য কিনতে আগের চেয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। কিন্তু শুধু এই দুটির দাম কমলেই তো হবে না। দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামসহ বেশির ভাগ মসলার দাম উল্টো বেড়ে গেছে।” তিনি বলেন, “অনেক ক্রেতাই মনে করেন, এলাচ-জিরার দাম কমেছে মানেই সব মসলার দাম কমেছে। কিন্তু অন্য মসলার দাম শুনে তারা হতাশ হন। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে সার্বিকভাবে কোনও স্বস্তি নেই, বিক্রিও আগের তুলনায় কমে গেছে। পাইকারি বাজারে দাম না কমলে বাজেটের প্রভাবও বাজারে তেমন দেখা যাবে না।” বিপাশা স্টোরের স্বত্বাধিকারী ফয়জুল করিম বলেন, “মসলার কিছু পণ্যের দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। আগে যে দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, এখন তা কিছুটা কমছে। তবে বাজার এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সরবরাহও আগের তুলনায় কিছুটা কম। বাজার স্থিতিশীল হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ক্রেতাদের কেনাকাটাও বাড়বে। বাজেটের প্রভাবে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস মিললেও পুরোপুরি স্বস্তি ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।” খেজুর বিক্রেতা আমান আলী বলেন, “এখনও বাজেটের প্রভাব খেজুরের বাজারে তেমন পড়েনি। নতুন চালানের পণ্য বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমতে পারে। বর্তমানে যে দামে খেজুর বিক্রি হচ্ছে, সেটিই রাখতে হচ্ছে। নতুন মাল এলে তখন বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী দামে পরিবর্তন আসতে পারে।” বাদামতলীর খেজুর বিক্রেতা মো. ইদ্রিস বলেন, “সরকার শুল্ক-কর কমানোর ঘোষণা দিলেও এখনও এর প্রভাব খেজুরের বাজারে পড়েনি। কারণ বর্তমানে খেজুর আমদানির মৌসুম নয়। সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিক থেকে নভেম্বর মাসে নতুন চালান আসতে শুরু করে। এখন বাজারে যে খেজুর বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো আগের শুল্ক-কর পরিশোধ করেই আমদানি করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “নতুন চালান আসার পর সরকার ঘোষিত কর-ছাড়ের কিছুটা প্রভাব দামে পড়তে পারে। তবে বর্তমানে বাজারে পুরোনো মজুত পণ্য থাকায় দাম কমার সুযোগ নেই। আগেও হঠাৎ কর কমানোর কারণে ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। তাই নতুন আমদানি না হওয়া পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।” পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বিক্রেতা আবুল হাশেম বলেন, “বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন, আদা ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও মূলত বাজারে সরবরাহ ও আমদানির ওপর নির্ভর করে। বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য এলে দাম কমে, আর সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হওয়ায় দাম আগের তুলনায় অনেক কমেছে। তবে রসুন, আদা ও কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে সরবরাহ ও আমদানির পরিস্থিতি অনুযায়ী দামের ওঠানামা হচ্ছে। বাজেটের চেয়ে বাজারে পণ্যের সরবরাহই দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে।” বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত বাজেট পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, “সরকার চায়—যেসব ক্ষেত্রে কর কমানো হয়েছে, সেসব পণ্যের দামও কমুক। এই বিষয়ে সরকার আন্তরিক। ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনও কর বাড়ানো হয়নি; বরং যেখানে ৫ শতাংশ কর ছিল, সেখানে তা কমিয়ে ০.৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমা উচিত।” তিনি বলেন, “এই বাজেট মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব খাতকেই স্পর্শ করেছে। সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট একটি বাস্তব অর্থেই জীবনবান্ধব বাজেট।”