আমিরাতে হামলার পর বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০৫ অপরাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার ঘটনায় তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সোমবার (১৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। এতে জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ৪২ ডলারে। রোববার (১৭ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার ফলে জেনারেটরে আগুন লেগে যায়। আর এতেই তেলের বাজারে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তেহরান এ প্রণালির ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় এই পথ দিয়ে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। জুনের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি সংকটজনক হতে পারে। তখন ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ ডলার, এমনকি তারও বেশি হতে পারে।’ তারা আরও সতর্ক করে বলেন, যদি বছরের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত তেলের দাম ১৫০ ডলারের আশপাশে থাকে, তাহলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে সুদের হার আবারও বেড়ে যেতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বন্ড বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৮৪ শতাংশে। গত সপ্তাহে এটি ২৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। একইভাবে ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৫ দশমিক ১০৯ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, আজ সোমবার (১৮ মে) প্যারিসে জি-৭ দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা বৈঠকে বসছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালি ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জোটটির ঐক্যের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে দরপতন হয়েছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। জাপানের বাইরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এমএসসিআই সূচক কমেছে ০ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে চীনের শেয়ারবাজার চার বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। দেশটির খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদনের তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রেও শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকে দিনের শুরুতেই পতন দেখা গেছে। তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

পাসপোর্ট অফিসে ঘুসের ‘চ্যানেল মাস্টার’, মাসে কোটি টাকার ভাগবাঁটোয়ারা

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০৪ অপরাহ্ণ

পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঘুসের এক প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। ‘চ্যানেল মাস্টার’ নামে পরিচিত বিশেষ কর্মচারীর মাধ্যমে দালালচক্রের টাকা সংগ্রহ, হিসাব এবং ভাগবাঁটোয়ারার এই প্রক্রিয়ায় জড়িত রয়েছেন অফিসপ্রধান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। অভিযোগ রয়েছে, মাসে কোটি কোটি টাকার এই ঘুস বাণিজ্যের ভাগ যায় উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী মহল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জেরার মুখে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির এমন অভিনব পদ্ধতি ফাঁস করে দেন। দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পাসপোর্টের এমন ঘুস বাণিজ্য সহসা বন্ধ হওয়ার নয়। কারণ, ঘুসচক্রের সঙ্গে খোদ উচ্চপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের অসাধু সদস্য এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের পকেটেও যায় ঘুসের টাকা। ঘুসের অঙ্ক নির্ধারিত হয় পাসপোর্ট আবেদনের সংখ্যার ওপর। অর্থাৎ যেসব অফিসে আবেদন বেশি, সেখানে ঘুসের অঙ্কও তত বড়। মোট আবেদনের অন্তত ৮০ শতাংশ আসে বিশেষ চ্যানেলে, অর্থাৎ দালালের মাধ্যমে। এসব আবেদনে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে ‘চ্যানেল খরচ’ হিসাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। আবেদনপ্রতি যার অঙ্ক দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। সূত্র জানায়, দালাল-চ্যানেলে আসা বিশেষ চিহ্নযুক্ত প্রতিটি আবেদন গুনে রাখা, ঘুসের টাকা সংগ্রহ এবং ভাগবাঁটোয়ারার জন্য প্রায় সব অফিসেই একজন কর্মচারী দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। তাকে বলা হয় ‘চ্যানেল মাস্টার’। সাধারণত হিসাবরক্ষক বা ডিএডি (উপসহকারী পরিচালক) পদমর্যাদার কর্মচারীদের কেউ চ্যানেল মাস্টার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারা দেশে প্রায় ৬৯টি অফিসে পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়া হয়। দৈনিক আবেদন জমার ওপর ভিত্তি করে অফিসগুলো ‘এ, বি এবং সি’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০টি আবেদন জমা হলে সংশ্লিষ্ট অফিস ‘এ’ ক্যাটাগরি হিসাবে চিহ্নিত। এছাড়া কোথাও দুইশর নিচে আবেদন জমা হলে ‘বি’ এবং একশর নিচে হলে সেগুলোকে ‘সি’ ক্যাটাগরির অফিস বলা হয়। সূত্র জানায়, মূলত পোস্টিং বাণিজ্যের জন্য সরকারি অফিসের এমন ক্যাটাগরি করা হয়। বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে-এমন অফিসগুলোয় পোস্টিং পেতে হলে মোটা অঙ্কের ঘুস দিতে হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরে এমন ৩৩টি অফিস ‘এ’ ক্যাটাগরির বা ব্যাপক ঘুসপ্রবণ হিসাবে পরিচিত। এছাড়া ২৪টি অফিস ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং বাকি ১২টি ‘সি’ ক্যাটাগরিভুক্ত। পাসপোর্ট অফিসে ঘুসের হিসাব অনেকটা সরল অঙ্কের মতো। একেবারেই সহজ। আবেদনপ্রতি ন্যূনতম ঘুস দেড় হাজার টাকা। কোনো অফিসে দৈনিক একশ আবেদন জমা পড়লে এর ৮০ শতাংশ আসে দালাল চ্যানেলে। এতে গড়ে দৈনিক ঘুসের অঙ্ক দাঁড়ায় কমপক্ষে এক লাখ টাকা, যা সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে ৫ লাখ টাকা। মাসের হিসাবে ২০ লাখ টাকা। তবে এর বাইরে তথ্য সংশোধন এবং দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়াসহ নানা খাতে ঘুস বাণিজ্যের পথ খোলা। সূত্র জানায়, ন্যূনতম ঘুসের এ হিসাব সবচেয়ে খারাপ পোস্টিং হিসাবে পরিচিত ‘সি’ ক্যাটাগরির অফিসে। দৈনিক এক হাজার থেকে দেড় হাজার আবেদন জমা হয়-এমন অফিসে পোস্টিং পেলেই মূলত পাসপোর্ট ঘুসের প্রকৃত স্বাদ মেলে। কারণ, এসব অফিসে ঘুসের টাকা আসে অনেকটা জোয়ারের পানির মতো। কোনো কোনো অফিসে সপ্তাহে ঘুসের অঙ্ক দাঁড়ায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি। প্রতিমাসে দেড় কোটি টাকা। এসব অফিসকে বলা হয় ‘এ’ ক্যাটাগরির অফিস। প্রধান কার্যালয়ে টাকাভর্তি প্যাকেট : এমন ঘুস বাণিজ্যের কথা পাসপোর্ট অধিদপ্তরে অনেকটা ওপেন সিক্রেট। এ কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও খুশি রাখতে হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্টের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিমাসেই নির্ধারিত তারিখে পাঠানো হয় টাকাভর্তি বিশেষ প্যাকেট বা ‘ঘুসের খাম’। গোপনে এসব প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া হয় ক্ষমতাধর পরিচালক ও উপপরিচালকদের টেবিলে। সম্প্রতি এক কর্মকর্তা প্রতিবেদকের কাছে ঘুসের টাকা ঘাটে ঘাটে কীভাবে ভাগবাঁটোয়ারা হয় তার অবিশ্বাস্য বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিটিং বা অন্য কোনো অজুহাতে সশরীরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রধান কার্যালয়ে এসে টাকাভর্তি বিশেষ প্যাকেট পৌঁছে দেন। তবে অনেক সময় গোপনীতা রক্ষার জন্য কর্মকর্তাদের বাসায় গিয়ে প্যাকেট পৌঁছে দিতে হয়। এছাড়া ঘুসের টাকার ভাগ পান স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর বেশকিছু অসাধু সদস্য এবং নামসর্বস্ব পত্রিকার সাংবাদিক নামধারী একশ্রেণির দালাল। কাছে ওই কর্মকর্তার এ সংক্রান্ত বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাসপোর্ট অফিসগুলোয় অন্তত ১০টি খাতে ঘুস বাণিজ্য চলে। এর মধ্যে আবেদন জমা, তথ্য সংশোধন, পূর্বনির্ধারিত সূচি ছাড়া আবেদন জমাসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে ঘুসের রেট বাঁধা। এর মধ্যে আবেদনপত্র জমার ক্ষেত্রে সাধারণত দেড় হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা ঘুস দিতে হয়। এছাড়া তথ্য সংশোধনে সমস্যাভেদে ঘুসের অঙ্ক নির্ধারিত হয়। সমস্যা যত বড়, ঘুসের অঙ্ক তত বেশি। মুখ খুলতে রাজি নন কেউ : পাসপোর্ট সেবায় ঘুস বাণিজ্য এবং ভয়াবহ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিষয়ে বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়; কিন্তু তিনি তা ধরেননি। এমনকি বক্তব্য চেয়ে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্টের প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের ঘুস বাণিজ্য এবং দুর্নীতির রেওয়াজ কিছুটা হলেও কম। নরসিংদী, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর, টাঙ্গাইল, চাঁদপুর, যশোর, সাতক্ষীরাসহ আরও কয়েকটি অফিসে ঘুস চ্যানেল বহাল থাকলেও সেখানে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। এছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসন শক্ত ব্যবস্থা নিলেও সেবার মান সেভাবে উন্নত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরং কড়াকড়ির কারণে কিছু জায়গায় ঘুসের সুযোগ কমে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে তারা প্রতিবেদককে বলেন, ঘুস চ্যানেলে যত কড়াকড়ি করা হবে, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি তত বাড়বে। তাদের মতে, গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢেলে কোনো লাভ হবে না। ঘুস চ্যানেল বন্ধ করতে হলে সবার আগে পোস্টিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। ডিজিএফআই-এর অভিযান : পাসপোর্টের এমন বেপরোয়া ঘুস বাণিজ্যের লাগাম টানতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) ২০১৯ সালে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালায়। এ সময় অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির অডিও এবং ভিডিও রেকর্ডসহ তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে সরাসরি তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। এতে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হিসাবে ২৫ কর্মকর্তার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ধরে তদন্তের একপর্যায়ে তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবে বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সেভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তাদের কেউ কেউ প্রভাবশালীদের বিশেষ তদবিরে দুদক থেকে দায়মুক্তির সনদ পেয়ে যান। বর্তমানে তাদের অনেকেই ভোল পালটে ফের পুরোনো চেহারায় ফিরেছেন। এর জ্বলন্ত উদাহরণ দিয়ে এক পাসপোর্ট কর্মকর্তা বলেন, ডিজিএফআই-এর শীর্ষ ২৫ দুর্নীতিবাজের তালিকায় উপপরিচালক বিপুল কুমার গোস্বামীর নাম আছে চার নম্বরে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি ব্যাপক প্রভাবশালী ছিলেন। দীর্ঘ সময় প্রশাসন শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের তদবিরে দুদক থেকেও দায়মুক্তি পেতে সক্ষম হন। কিন্তু গত ১২ মে তাকে প্রাইজ পোস্টিং দিয়ে চট্টগ্রামের চাঁদগাঁওয়ে বদলি করা হয়েছে। চাঁদগাঁও অফিস পাসপোর্ট ঘুসের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত।

দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্বর্ণের বাজার

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০৩ অপরাহ্ণ

আজ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর আগে লেনদেনের শুরুর দিকে মূল্যবান এ ধাতুর দাম কমে গত দেড় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির শঙ্কা এবং উচ্চ সুদের হারের কারণে বন্ডের ফলন (ইয়াল্ড) বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দামের এ বড় উত্থান কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোমবার (১৮ মে) গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) ০৯:০৭ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ড বা প্রতি আউন্স (৩১.১০৩ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪৬.০৪ ডলারে। এর আগে আজকের সেশনেই স্বর্ণের দাম কমে গত ৩০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। অন্যদিকে, আগামী মাসে সরবরাহের চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার বাজার দর ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪৯.৭০ ডলারে। ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম \'ট্রেডু ডটকম\' এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জ্যাবৌরাস বলেন, স্বর্ণের দামের এ পতন সাময়িক ও বাজার কাঠামোগত। বাজার এখনো স্বর্ণকে মন্দাভাবের (বেয়ার মার্কেট) দিকে ঠেলে দিতে প্রস্তুত নয়, কারণ স্বর্ণের কাঠামোগত ভিত্তি এখনো শক্তিশালী। আর এটিই বাজারে দাম ধরে রাখতে সহায়তা করছে। তবে তিনি আরও যোগ করেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে বোঝা যায়, চলতি বছরে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা প্রায় বাতিল করে দিয়েছে। উল্টো সুদের হার আরও বাড়ানোর বাজি ধরছেন বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হারের এ প্রবণতা স্বর্ণের মতো অ-ফলনশীল (যেখান থেকে নিয়মিত সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না) সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। সোমবার টোকিও থেকে নিউইয়র্ক—সবখানেই বন্ডের বাজারে লোকসানের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। আর এ কারণেই বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, বিশ্বের বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। ইরান যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি মূলত বন্ধ রয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সিএমই গ্রুপের \'ফেডওয়াচ\' টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন বছরের শেষ নাগাদ মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন। আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় ৪০ শতাংশ। এদিকে, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বড় বড় ব্যাংকগুলোও অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস পুনর্নির্ধারণ করে তা কমাতে শুরু করেছে। অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী ব্যাংক জেপি মরগান তাদের ২০২৬ সালের স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫,৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে। ব্যাংকটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং সুদের হারের ওঠানামার কারণে বাজার বেশ অস্থির থাকতে পারে। তবে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের অবসানই বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং স্বর্ণের চাহিদা পুনরায় ফিরিয়ে আনার প্রধান চাবিকাঠি। স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৭৫.৯৯ ডলারে। প্লাটিনামের দাম অপরিবর্তিত থেকে ১,৯৭৩.৩২ ডলারে রয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১৬.৫৫ ডলারে। সূত্র: রয়টার্স

১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ গ্রেফতার

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০২ অপরাহ্ণ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এক-এগারোর সময়ে আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ এই আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন। দুদক প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের আবেদনে বলা হয়, আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালয়েশিয়া শ্রমিক রিক্রুটের জন্য এজেন্ট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা থাকলেও আসামিরা অতিরিক্ত টাকা নেয়। আসামিরা রিক্রুটেড শ্রমিকদের অবৈধভাবে ক্ষতি সাধন করে বিভিন্ন ধাপে বাড়তি ১১৯ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার আদায় করেন। অবৈধভাবে আদায় করা এ অর্থ অবৈধ পন্থায় ছদ্মাবৃত্ত, হস্তান্তর, স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচার করে আসামিরা দণ্ডবিধির ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এ মামলায় জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এ মামলায়ও তাকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো ও রিমান্ডে নেওয়া হয়।

হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় নতুন সংস্থার নাম ঘোষণা করল ইরান

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০১ অপরাহ্ণ

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সার্বিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা তদারকি করতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, নবগঠিত এই সংস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ বা পারস্য উপসাগরীয় প্রণালি কর্তৃপক্ষ। নতুন এই সংস্থাটি মূলত হরমুজ প্রণালির যাবতীয় অপারেশন বা বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ চলাচলের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে প্রণালির সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এর নিরাপত্তা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা আপডেট তাৎক্ষণিকভাবে (রিয়েল-টাইম) প্রকাশ করবে এই কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি সরবরাহ রুটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করতেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা।

মুমিনুলের রেকর্ড ভাঙলেন মুশফিক

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৫:০০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বিরল এক রেকর্ড গড়লেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেটের মাঠে চলমান ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন এই অভিজ্ঞ টাইগার ব্যাটার। আর এতেই দেশের হয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক সেঞ্চুরি এখন তার নামেই। বাংলাদেশের হয়ে মোট ১৪টি সেঞ্চুরি করলেন মুশফিক। এর মুমিনুল হকের (১৩টি সেঞ্চুরি) সঙ্গে যৌথভাবে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তিনি। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই রেকর্ডটি একান্তই নিজের নামে করে নিলেন মুশফিক। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ৮৬ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রান। চলমান টেস্টের এই দ্বিতীয় ইনিংসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন মুশফিক। ৭৩তম ওভারের তৃতীয় বলে দুই রান নিয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। তিন সংস্করণ মিলিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনিই। এর আগে ৬১তম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। এই মাসের ২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ২১ বছর পূর্ণ হবে। ৩৯ বছর বয়সে এসেও নিজের ফর্ম ঠিকই ধরে রেখেছেন এই অভিজ্ঞ টাইগার ব্যাটার।

আইপিএলে কোহলির নতুন রেকর্ড

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি আবারও গড়লেন নতুন ইতিহাস। চলমান ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে একক কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ওপেনার হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ রান পূর্ণ করেছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই তারকা। রোববার (১৭ মে) ধর্মশালায় পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে বিপক্ষে ম্যাচে ইনিংসের শুরুতেই বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। যদিও ওপেনার হিসেবে ৫৫০০ রানের ক্লাবে আগে পৌঁছেছিলেন শিখর ধাওয়ান ও ডেভিড ওয়ার্নার, তবে তারা একাধিক দলের হয়ে খেলেছেন। কোহলি একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সিতেই এই কীর্তি গড়েছেন। এদিন আরও একটি অনন্য রেকর্ড নিজের নামে লেখান তিনি। আইপিএলে টানা চতুর্থবার এবং সব মিলিয়ে নবম মৌসুমে ৫০০–এর বেশি রান করলেন তিনি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই তালিকায় তার পরে রয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার ও কে এল রাহুল, দুজনেরই রয়েছে সাতটি করে ৫০০+ রানের মৌসুম। সূত্র- এনডিটিভি

ওটিটিতে মুক্তি পেল বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘রঙবাজার’

প্রকাশিতঃ মে ১৮, ২০২৬ | ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

৪০০ বছরের পুরোনো যৌনপল্লী একরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে ‘রঙবাজার’ সিনেমা। তামজিদ অতুলের গল্পে এ সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। আগামী কুরবানির ঈদের পর প্রেক্ষাগৃহে বড় আয়োজনে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল নির্মাতা রাশিদ পলাশের। কিন্তু বড়পর্দায় আসার আগেই চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায় এর পুরো এইচডি প্রিন্ট। ইন্টারনেটের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ‘রঙবাজার’ সিনেমাটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে পাইরেসির কবল থেকে ‘রঙবাজার’ সিনেমাটি রক্ষা করতে প্রেক্ষাগৃহের আশা ছেড়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। এর ফলে রোববার (১৭ মে) থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘সিনেমেটিক’-এ স্ট্রিম হচ্ছে সিনেমাটি। ওটিটিতে মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে নির্মাতা রাশিদ পলাশ গণমাধ্যমকে জানান, ‘রঙবাজার’ সিনেমাটি সামাজিক মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রযোজকের সিদ্ধান্তেই হঠাৎ করে ওটিটিতে মুক্তি দিতে হয়েছে। বড়পর্দার সিনেমা এভাবে আসায় নির্মাতা হিসেবে তার মন খারাপ হলেও পাইরেসির হাত থেকে বাঁচতে প্রযোজকের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলেও জানান রাশিদ পলাশ। বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লাইভ টেকনোলজিস প্রযোজিত \'রঙবাজার\' সিনেমার বেশিরভাগ দৃশ্যধারণ করা হয়েছে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে। ‘রঙবাজার’ সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পিয়া জান্নাতুল, শম্পা রেজা, নাজনীন হাসান চুমকী, তানজিকা আমিন, মৌসুমী হামিদ, লুৎফর রহমান জর্জ ও মাহমুদুল ইসলাম মিঠুসহ আরও অনেকে।