ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৫৪টি শতকের মালিক বিরাট কোহলি টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ফরম্যাট থেকে আগেই অবসর নিয়েছিলেন। এখন তিনি কেবল ৫০ ওভারের সংস্করণেই ভারতের হয়ে মাঠ কাঁপান।
ওয়ানডে ইতিহাসে সচিন তেন্ডুলকরের (১৮,৪২৬ রান) ঠিক পেছনেই অবস্থান করছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার, যার ঝুলিতে রয়েছে ১৪,৯৪১ রান। ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেও ২০২৩ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হয় তাঁর।
২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এটি হতে চলেছে কোহলির কর্মজীবনের পঞ্চম বিশ্বকাপ।
শনিবার সম্প্রচারমাধ্যম ‘জিওস্টার’-এর সঙ্গে আড্ডায় কোহলি বলেন, ‘ভারতের হয়ে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে।’
কোহলি আরও যোগ করেন, ‘নিজের সেরাটা উজার করে দেওয়াই এখন আমার মূল প্রেরণা। আর লক্ষ্য তো একটাই— বিশ্বকাপ জেতা। সেটার জন্য যা যা করা দরকার, আমি সবকিছু করতেই প্রস্তুত।’
ঘরের মাঠের বাইরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটিকে ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন তিনি। কোহলির মতে, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের চাপ ও পরিশ্রম অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি।
তিনি বলেন, ‘একটি ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের যে তীব্রতা, তা অন্য কিছুর সঙ্গেই মেলে না। এখানে প্রতিটি ম্যাচ খেলার সময় মনে হয় যেন টি-টোয়েন্টির গতিতে খেলছি। হিসাব করলে দেখা যায়, একদিনেই আড়াইটি টি-টোয়েন্টির সমান শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম হচ্ছে! এত বড় টুর্নামেন্টে টানা ১০টি ম্যাচে সেই একই ধার বজায় রাখা সত্যিই কঠিন কাজ। তাছাড়া খেলা হবে বিদেশের মাটিতে, যা বাড়তি শক্তির পরীক্ষা নেবে।’
অন্যদিকে প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মাও এখন কেবল ওয়ানডে ফরম্যাটেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলছেন। নতুন আরেকটি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের স্পৃহা ও লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রোহিত বলেন, ‘আমার কাজ শেষ হয়ে গেছে— এই ভাবনা কখনোই মনের মধ্যে স্থান পায় না। খেলা চালিয়ে যাওয়ার অর্থই হলো নতুন কিছুর দিকে চোখ রাখা। আমিও এখন বিশ্বকাপ জয়ের দিকেই নজর রাখছি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভারত দলে জায়গা পেয়েছেন কোহলি ও রোহিত দুজনেই। রবিবার তিরুঅনন্তপুরমে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে দুই দল।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ ২৫শে সেপ্টেম্বর এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তি আসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সের্গিও গরের সাম্প্রতিক সফরের পর, যখন ওয়াশিংটন বাংলাদেশের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের প্রস্তাব দেয়।
৩রা আগস্ট পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে, তবে যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের নিরিখেই বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জোর দিয়েছিলেন।
চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রতিবেদন অনুযায়ী
দুই পক্ষ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা—জ্বালানি নিরাপত্তাসহ—এর ক্ষেত্রে এর প্রভাব স্বীকার করেছে।
এই সমঝোতা স্মারকে উভয় পক্ষের অভিন্ন অবস্থান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে যে, সব বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা সর্বোচ্চ মানের পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, নিরাপত্তা-বিধি ও অপ্রসারণ নীতি মেনে চলবে; পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়েছে যে উভয় দেশেরই আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার সুরক্ষা চুক্তি ও সম্পূরক প্রোটোকল কার্যকর আছে, এবং উভয় দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির পক্ষভুক্ত।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মে মাসে বৃহত্তর জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ে আলাদা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা।
বিএনপি মিডিয়া সেল উল্লেখ করেছে, এই চুক্তিকে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে শুরু হওয়া পারমাণবিক সহযোগিতা প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা প্রশাসনিক ভুলের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁরা পুনরায় যাচাই ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা তাঁদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আটকে থাকা নিয়োগপত্র ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের নামে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক বিবেচনা, ভুল তথ্য কিংবা প্রশাসনিক ভুলের কারণে কোনো নিরপরাধ ও যোগ্য প্রার্থী যেন চাকরি থেকে বঞ্চিত না হন।
প্রার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই করা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা করা। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভুল সংশোধন করে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হয়েছে এবং কীভাবে এতসংখ্যক চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী বাদ পড়েছেন, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা স্পষ্ট করে বলেন, অনিয়মকারী বা অযোগ্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে তাঁরা অবস্থান নিচ্ছেন না। তবে প্রশাসনিক ভুল, ভুল তথ্য কিংবা রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী যেন বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট দ্রুত শেষ হলেও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে অতিরিক্ত সময় লাগে। একাধিকবার পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।
এদিকে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের উদ্দেশে আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে কোনো উত্তীর্ণ প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে পরবর্তী সময়ে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
তবে প্রার্থীরা বলছেন, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তাঁদের দাবি, যাচাই-বাছাইয়ের নামে যেন যোগ্য প্রার্থীদের অন্যায়ভাবে বাদ না দেওয়া হয়। এ দাবিতে তাঁরা দ্রুত মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন।
ঢাকা সফর নয়, বরং আগামী নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলাই এখন ভারতের মূল লক্ষ্য—এমনটিই জানা গেছে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে।
পত্রিকাটির তথ্য মতে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারতের মূল জাতীয় দল। আর ঢাকায় সাফের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে দেখা যেতে পারে তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল কিংবা রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের।
মূলত সূচির মারপ্যাঁচেই তৈরি হয়েছে এই জটিলতা। সাফের খেলা চলবে ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত, অন্যদিকে ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু হবে ৭ নভেম্বর।
ভারতের কোচ খালিদ জামিল চান ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা নিউজিল্যান্ডের মতো শক্ত দলের মুখোমুখি হতে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামলে জাতীয় দলের আসল লাভ হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে খালিদ জামিল বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলে আসা কোনো দলের বিরুদ্ধে খেলার প্রস্তাব যখন এলো, তখন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তে আমি সায় না দিয়ে পারিনি।’
ভারতের এই মনোভাবের কারণে সাফ টুর্নামেন্টের গতিপথই বদলে যেতে পারে। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে মালদ্বীপ ও পাকিস্তানের।
আর অন্য গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সফরসঙ্গী শ্রীলঙ্কা ও ভুটান।
‘আইকনিক সোর্সিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পদ্মা নদী থেকে বালু তোলার আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের প্যাডে অফিসের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। তবে সরেজমিনে ওই ঠিকানায় খোঁজ করেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি ওই ঠিকানায় ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা স্থানীয় কেউ জানেন না। আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ। অথচ এমন একটি প্রতিষ্ঠানকেই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পদ্মা সেতুর কাছাকাছি এলাকা থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুটের বেশি বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া জোরেশোরে এগোচ্ছে।
বিষয়টি আরও বিস্ময়কর, যে এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানেই নদীভাঙন ঠেকাতে সরকার ৫২৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই এলাকা থেকে বালু তোলা হলে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। এসব তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান যে বালু তুলতে চায়, সেটি সরকারি কোনো প্রকল্পে ব্যবহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য নেই। মূলত বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যেই বালু উত্তোলন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। আর সেই সুযোগ তৈরি করতেই তড়িঘড়ি করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) অনাপত্তি দিয়েছে। এমনকি ওই অনাপত্তির নথিতে অনুমোদন দিতে রাতে সই করেছেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
শুধু বিআইডব্লিউটিএর অনাপত্তি নিয়েই প্রশ্ন নেই, এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবস্থানও বদলেছে। অনাপত্তি বাতিলের জন্য প্রথমে ভূমি মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছিল। পরে সম্প্রতি সেই মন্ত্রণালয়ই প্রতিষ্ঠানটিকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে আরেকটি চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিগুলোতে কাটার সাকশান ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলনের শর্ত দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের ড্রেজার কোম্পানি হিসেবে বিআইডব্লিউটিএতে নিবন্ধিত নয়।
এদিকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন। তবে বালু তোলার নামে অপরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে নদীভাঙন বাড়তে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। মুন্সীগঞ্জে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব আশঙ্কার কথা জানান।
কারিগরি কমিটির প্রধান এবং লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু মঙ্গলবার বলেন, কিছু বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তারা তাদের ফাইন্ডিংস দিয়েছেন। কমিটি কী ধরনের সুপারিশ করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে রাজি হননি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেন, আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বালুমহাল ঘোষণা করে টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারাদার নির্ধারণ করার বিধান রয়েছে। এ কার্যক্রম স্থানীয় জেলা প্রশাসন পরিচালনা করে। বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানকে এভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সরকারি কোনো প্রকল্পের উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কখনো কখনো বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বালু উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছে। আইনগতভাবে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু একটি কেপিআই (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা), পাশাপাশি এলাকাটি নদীভাঙনপ্রবণ—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পদ্মা সেতুর কাছাকাছি এলাকায় বালু উত্তোলন করা হলে ভয়াবহ নদীভাঙন এবং জন-অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন দুজন প্রকৌশলী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনকারী ব্যবসায়ীরা সাধারণত দেশীয় প্রযুক্তির ড্রেজার ব্যবহার করেন। একই জায়গা থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করলে নদীতে গভীর খাদ তৈরি হয়। এর ফলে আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিতে পারে।
তাদের ভাষ্য, এখানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখলাক উল জামিল গত ৯ই সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসককে দেওয়া এক চিঠিতে পদ্মা সেতুর ভাটিতে নদীভাঙন রোধে চলমান একটি প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেছেন। চিঠিতে তিনি জানান, লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় নদীভাঙন ঠেকাতে ৫২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ড্রেজিংয়ের আওতায় থাকা চরটি এরই মধ্যে মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও নদীভাঙনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। পদ্মা সেতুর ভাটিতে ১৬ কিলোমিটার নদীতীর ভাঙনপ্রবণ হলেও এর মধ্যে ৯ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাকি ৬.৯ কিলোমিটার এলাকার নদীতীর সংরক্ষণের জন্য মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ-সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (চাহিদাপত্র) দিয়েছেন।
পাওয়া যায়নি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব
গত ৪ঠা মে ‘আইকনিক সোর্সিং’-এর প্রোপ্রাইটার সৈয়দ সাদাব মাহবুব বিআইডব্লিউটিএতে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পদ্মা সেতুর মূল ঠিকাদারের ক্রেন চলাচল এবং পলি অপসারণের জন্য দেশীয় ড্রেজার দিয়ে একটি চ্যানেল তৈরির অনুমোদন দেওয়া হলে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি করবেন তিনি। পাশাপাশি ডিসি (জেলা প্রশাসক) অফিসের মাধ্যমে বালি বা মাটির নির্ধারিত ফি সরকারকে পরিশোধ করার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেন।
তবে উত্তোলন করা বালু কোথায় ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আবেদনে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
আইকনিক সোর্সিংয়ের ব্যবহৃত প্যাডে অফিসের ঠিকানা হিসেবে লেখা রয়েছে ১১৫/১ বছিলা মেইন রোড, ঢাকা। প্যাডটিতে প্রতিষ্ঠানের সিল কিংবা ওয়েবসাইটের ঠিকানা নেই। প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কাজ করে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও বর্তমানে বন্ধ।
সরেজমিনে বছিলা মেইন রোডে গিয়ে ১১৫/১ নম্বরের কোনো হোল্ডিংয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেখানে ১১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ে টিন দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছোট মুদি দোকান, লাইব্রেরি, মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও চায়ের দোকান রয়েছে।
সেখানকার হাফসা টেলিকমের মালিক মিয়া হোসেন বলেন, ১১৫/১ নামে কোনো হোল্ডিং নেই। ‘আইকনিক সোর্সিং’ নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের কথাও তিনি কখনো শোনেননি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে সরকারি দপ্তরে অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন সৈয়দ সাদাব মাহবুবের ভাই হিসেবে পরিচয় দেওয়া কাজী মো. লিয়াকত। তার সঙ্গে তিন দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাদাব মাহবুবের মোবাইল নম্বর কিংবা প্রতিষ্ঠানটির সঠিক ঠিকানা দিতে রাজি হননি।
ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মো. লিয়াকত শুধু বলেন, ‘যেই মাধ্যমে আপনি তথ্য পাচ্ছেন, তারাই ভালো বলতে পারবে।’
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অজ্ঞাত বা পরিচয়হীন মরদেহের সংখ্যা, যা প্রতিনিয়ত উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত তিন থেকে চার বছর ধরে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫৭টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি।
সম্প্রতি রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস অপরাধের মাত্রা বহুগুণ বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। গত ১২ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা ও দুই হাত। পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিনে হাইকোর্ট এলাকা থেকেও দুই ব্যক্তির পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী:
২০২৪ সাল: ৫০৪টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার।
২০২৫ সাল: ৬৪১টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার।
২০২৬ সাল (সেপ্টেম্বর পর্যন্ত): ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে বেওয়ারিশ লাশ দাফনকারী সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী, তারা ২০২৩ সালে ৪৯০টি, ২০২৪ সালে ৫৭০টি এবং ২০২৫ সালে ৬৪৪টি অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করেছে। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪০০টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মানুষই প্রকৃতপক্ষে পরিচয়হীন নয়। অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও দক্ষতার ঘাটতিকে অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন তারা।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, মরদেহ ও অপরাধীদের শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থাপনা মোটেও পর্যাপ্ত নয়। অপরাধের স্থান বা এলাকাগুলোতে প্রযুক্তির আধুনিক ব্যবহার ও জোরদার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বায়োমেট্রিক ও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে সাধারণ (ম্যানুয়াল) পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।
তদন্তের স্বার্থে ও অপরাধীরা যেন সতর্ক হতে না পারে, সে কারণে পুলিশি তদন্ত পদ্ধতির সকল কৌশল প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র এইচ এম শাহাদাত হোসাইন।
হিমাগারগুলোতে মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতা এবং শনাক্তকরণে দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক নৃশংস অপরাধের ক্লু বা প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, দ্রুত পরিচয় শনাক্তকরণ এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোর তাগিদ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি নিয়ে চরম চাপে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দরপতন-উত্থান এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে অর্থ বছরের প্রথম দুই মাসেই (জুলাই ও আগস্ট) ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রাখা বাজেটের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় করতে হয়েছে।
ফলে অর্থবছরের বাকি ১০ মাস কীভাবে পরিচালিত হবে—তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বরাদ্দ ও ব্যয়ের পরিসংখ্যান
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও এলএনজি খাতে ভর্তুকি বাবদ মোট ৪৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসেই সরকার ইতোমধ্যে ছাড় করেছে ২৬ হাজার কোটি টাকা।
খাত
বার্ষিক মোট বাজেট বরাদ্দ
২ মাসে ছাড়কৃত অর্থ
অবশিষ্ট বাজেট বরাদ্দ
বিদ্যুৎ খাত
৩৭,০০০ কোটি টাকা
১৫,০০০ কোটি টাকা
২২,০০০ কোটি টাকা
এলএনজি খাত
৬,০০০ কোটি টাকা
১১,০০০ কোটি টাকা
-৫,০০০ কোটি টাকা (ঘাটতি)
মোট
৪৮,০০০ কোটি টাকা
২৬,০০০ কোটি টাকা
২২,০০০ কোটি টাকা
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের চিত্র
উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধানের কারণে বিদ্যুৎ খাতে প্রতি বছরই বিশাল অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। গত ২১শে সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ৯৪টি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার বকেয়া মেটাতে ব্যয় হবে।
সব মিলিয়ে দুই মাসে ছাড় হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে।
এই খাতে সারা বছরের জন্য মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও প্রথম দুই মাসেই বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে গিয়ে খরচ হয়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা।
ফলে অর্থ বছরের শুরুতে এই এক খাতেই অতিরিক্ত ৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সরকারকে।
আইএমএফের চাপ ও উভয়সংকট
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি কমানোর জন্য ধারাবাহিক চাপ দিয়ে আসছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় হঠাৎ ভর্তুকি উঠিয়ে দিলে বা দাম বাড়ালে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদনে।
ভর্তুকি বরাদ্দ ও ২ মাসের খরচের তুলনা (কোটি টাকায়)
৫০,০০০ ┌────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ৪৮,০০০ (মোট বাজেট) │
৪০,০০০ ├────────────────────────────────────────────────────────┤
│ │
৩০,০০০ ├────────────────────────── ২৬,০০০ (২ মাসে ব্যয়) │
│ │
২০,০০০ ├────────────────────────────────────────────────────────┤
০ └────────────────────────────────────────────────────────┘
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সমাধান
অর্থনীতিবিদ শাহ মো. আহসান হাবিবের মতে, কেবল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়িয়ে বা ভর্তুকি শূন্য করে এ সমস্যার টেকসই সমাধান হবে না। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষ, কৃষি এবং শিল্পের নিরাপত্তার স্বার্থে ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সমস্যার আসল মূল লুকিয়ে রয়েছে পদ্ধতিগত দুর্নীতি ও সিস্টেম লসের ভেতরে। ভর্তুকি নিয়ে টানাহেঁচড়া না করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থার অপচয় ও ৫০-৬০ টাকার দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব।
একই সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বিতরণ ব্যবস্থার নিরপেক্ষ নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক খরচ নির্ধারণ এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: একাত্তর টিভি
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, যাতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডাটা সেন্টার। হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় একাধিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা সংযোগ-বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছেন।
ডাটা সেন্টারে হামলা, ইন্টারনেট বিপর্যয়
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে কার্যত বিরতিহীনভাবে ইউক্রেনীয় রাজধানীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার কিয়েভের একটি ডাটা সেন্টারে সরাসরি আঘাত হানে রুশ বাহিনী। এই কেন্দ্রে সরঞ্জাম রাখা দুটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান— ইউটেলস এবং পাভুতিনা— তাদের গ্রাহকদের সংযোগ বিঘ্নের কথা জানিয়েছে। ইউটেলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানায়, তাদের জরুরি ও মেরামত বিভাগের কর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব সরঞ্জাম ও সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে পাভুতিনা তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, গ্রাহকদের একাংশ সংযোগবিহীন অবস্থায় পড়তে পারেন।রাশিয়া বুধবার কিয়েভের একটি ডাটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুই ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের গ্রাহকদের সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কথা জানিয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানের সরঞ্জাম বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিল।
হতাহতের খবর
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, বুধবারের এই ড্রোন হামলায় রাজধানীতে দুজন নিহত এবং অন্তত ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এই বুধবারের রুশ ড্রোন হামলায় রাজধানীতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু এবং ১৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রের হিসাব বলছে, ফ্রন্টলাইনে উভয় পক্ষের অগ্রগতি সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। ইউক্রেনের ডিপস্টেট নামের একটি ওপেন-সোর্স পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর— এই চার সপ্তাহে রাশিয়া প্রায় ৩৭ বর্গমাইল ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে, যেখানে আগের চার সপ্তাহে (২৮ জুলাই–২৫ আগস্ট) রাশিয়া প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৩ বর্গমাইল ভূখণ্ড হারিয়েছিল।ইউক্রেনের ডিপস্টেট ওএসআইএনটি গোষ্ঠীর তথ্য অনুযায়ী, গত চার সপ্তাহে (২৫ আগস্ট–২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাশিয়া ৩৭ বর্গমাইল ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে নিট নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করেছে, যেখানে এর আগের চার সপ্তাহে (২৮ জুলাই–২৫ আগস্ট) রাশিয়া নিট ৩ বর্গমাইল ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫-২২ সেপ্টেম্বরের এক সপ্তাহে রুশ বাহিনী মারকোভে দখল করে এবং ফেদোরিভকা, কোতলিনে, বোচকোভে, বিলিতস্কে ও নভে শাখোভের কাছে অগ্রসর হয়, আর একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী শান্দ্রিহোলোভে পুনরুদ্ধার করে।১৫-২২ সেপ্টেম্বর সময়কালে রুশ বাহিনী মারকোভে দখল করে এবং ফেদোরিভকা, কোতলিনে, বোচকোভে, বিলিতস্কে ও নভে শাখোভের কাছাকাছি অগ্রসর হয়, একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনী শান্দ্রিহোলোভে এলাকা পুনরুদ্ধার করে।
এদিকে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ, যা “অপারেশন ভিভালদি” নামে পরিচিত, এখনো চলমান রয়েছে। দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনীকে হটানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই অভিযান পরবর্তীতে দোনেৎস্ক অঞ্চল পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।ইউক্রেন ২০২৬ সালে অপারেশন ভিভালদি নামে একটি পাল্টা আক্রমণ শুরু করে, যার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দ্নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চল থেকে রুশ বাহিনীকে হটানো; পরবর্তীতে এই অভিযান দোনেৎস্ক অঞ্চলেও সম্প্রসারিত হয়।
শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা
যুদ্ধ চার বছর পেরিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধক্ষেত্রে সিদ্ধান্তমূলক অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয় এবং ইউক্রেন দীর্ঘমেয়াদি লড়াই সামলে নেওয়ার সক্ষমতা দেখাতে পারে, তাহলে মস্কো শান্তিচুক্তিতে রাজি হতে পারে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রসর হতে না পারে এবং বুঝতে পারে যে কিয়েভ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ সহ্য করতে সক্ষম, তখন মস্কো শান্তিচুক্তিতে রাজি হতে পারে। তবে এমন কোনো সমঝোতা না হলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
সব মিলিয়ে, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর রুশ হামলার তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ নেই, আর যুদ্ধক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একে অপরকে সিদ্ধান্তমূলক সুবিধা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে— এমন এক জটিল বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে চলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ।