ব্যক্তিগত চ্যাট গোপন রাখতে হোয়াটসঅ্যাপের নতুন ফিচার

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:২৪ পূর্বাহ্ণ

ব্যক্তিগত কথোপকথনের গোপনীয়তা রক্ষায় হোয়াটসঅ্যাপে রয়েছে ‘চ্যাট লক’ নামে একটি নিরাপত্তা ফিচার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো চ্যাট সাধারণ ইনবক্স থেকে সরিয়ে আলাদা সুরক্ষিত ফোল্ডারে রাখা যায়, ফলে অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করলেও সেই কথোপকথন সহজে দেখতে পারে না। হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান হয়। তাই ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে চ্যাট লক সুবিধা চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি। লক করা চ্যাটে প্রবেশ করতে ফোনের পাসকোড, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি অথবা ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সিক্রেট কোড প্রয়োজন হয়। চ্যাট লক চালু করতে প্রথমে যে ব্যক্তির কথোপকথন সুরক্ষিত রাখতে চান, সেই চ্যাটটি খুলতে হবে। এরপর চ্যাটের সেটিংস বা অপশন মেনু থেকে ‘চ্যাট লক’ নির্বাচন করলেই কথোপকথনটি ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারে স্থানান্তরিত হবে। একবার লক করা হলে সেটি আর সাধারণ চ্যাট তালিকায় দেখা যাবে না। প্রয়োজন হলে একই পদ্ধতিতে পরে আনলকও করা যাবে। এই ফিচারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, লক করা চ্যাটে নতুন বার্তা এলে নোটিফিকেশনে সাধারণত বার্তার বিস্তারিত তথ্য প্রদর্শিত হয় না। ফলে ফোনের স্ক্রিনে অন্য কারও সামনে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ পাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘সিক্রেট কোড’ ব্যবহারের সুবিধাও রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই সুবিধা পাওয়া যায়। সিক্রেট কোড ব্যবহার করলে শুধু চ্যাট নয়, ‘লকড চ্যাটস’ ফোল্ডারটিকেও আড়ালে রাখা সম্ভব। এতে অন্য কেউ সহজে বুঝতে পারবে না যে ফোনে কোনো লুকানো চ্যাট রয়েছে। সিক্রেট কোড দিয়ে লুকানো চ্যাট দেখতে হলে হোয়াটসঅ্যাপের সার্চ বক্সে নির্ধারিত কোড লিখতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করলে লক করা চ্যাটগুলো দেখা যাবে। তবে চ্যাট লক করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল আসা বন্ধ হয় না। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই কল গ্রহণ করতে পারবেন। এই ফিচার মূলত কথোপকথনকে সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য তৈরি। এ ছাড়া নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যাকআপ পুনরুদ্ধার (রিস্টোর) করলে পূর্বে লক করা চ্যাটগুলো সাধারণত লক অবস্থাতেই থাকে। ফলে ডিভাইস পরিবর্তনের পরও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাট লকের পাশাপাশি শক্তিশালী স্ক্রিন লক, বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা এবং হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সুরক্ষা সুবিধা ব্যবহার করলে গোপনীয়তা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায়।

বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল যৌক্তিক। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এর সময়কাল এবং বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া এর ফলে দুর্নীতি হ্রাস এবং সেবার মান বাড়বে কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। সঙ্গে আলাপকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা এসব মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, বেতনের সঙ্গে সেবার মান বাড়লে তেমন সমস্যা হবে না। তবে সেবার মান বৃদ্ধি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, এ খাতে নতুন করে সরকারের এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। এর বিপরীতে কোনো প্রত্যক্ষ রিটার্ন আসবে না। সেবার মান বাড়বে না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো কর্মদক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে পারলে উচ্চতর বেতন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে না। সংস্থাটির আরেকজন সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। কিন্তু দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও বড় বাজেট ঘাটতির মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণ বা টাকা ছাপানো হলে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। ফলে এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত কীভাবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রসঙ্গত, সোমবার নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিপরিষদ। বেতন ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। শিগ্গিরই গেজেট জারি হবে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির ফলে সরকারের ওপর চাপ পড়বে। পুরোপুরি রাজস্ব থেকে এবং ধার করে সবাইকে দিতে হবে। কাজেই বাজারে এর প্রভাব পড়বে। এখন সরকার কীভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করবে, সেটাই দেখার বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ানো ঠিক আছে। কিন্তু সময়টা খুবই অপ্রত্যাশিত (আনফরচুনেট)। অর্থাৎ সময়টা বেতন বৃদ্ধির জন্য ভালো সময় নয়। তবে না করেও খুব একটা উপায় ছিল বলে মনে হয় না। কারণ, এই বেতন কাঠামো আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক বছর বেতন বৃদ্ধি হয়নি। কাজেই এর যৌক্তিক কারণ আছে। অর্থাৎ সরকারের হাত-পা অনেকটাই বাঁধা ছিল।’ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘প্রশ্ন হলো-এই সময় এতগুলো টাকা জনগণের পকেট থেকে দিতে হবে। আগে যদি ১০০ টাকা দিতে পারত, এখন ২০০ টাকা দিতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য-অর্থাৎ ১০০ শতাংশের বেশি, ১৪০ শতাংশের মতো। পেনশনও বেড়ে যাবে। তাদের সারা জীবনের আখেরাত খুব ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু জনগণ কী পাবে?’ তিনি বলেন, ‘সেবার মান তো বাড়ছে না। কিছুই বাড়বে না। তাহলে কেন এই ব্যয়টা জনগণ বহন করবে।’ তার মতে, এখানে আদান-প্রদান হওয়া উচিত ছিল। যারা বেশি বেতন পাবেন, তাদের সেবার মানও বাড়াতে হবে। না হলে তাদের একটা দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের হিসাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, এটাও তো তারা আমলে নিল না। সরকারি কর্মকর্তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তাদের বিরুদ্ধে দুদক মামলা করতে পারে না। ঘুস খেয়ে তারা লাল হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যাবে না। সরকারের অনুমোদন ছাড়া মামলা করা যাবে না। সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘বেতন বাড়বে, আপত্তি নেই। তবে প্রক্রিয়াটিকে শক্তিশালী করা উচিত ছিল। অর্থাৎ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালীভাবে, কাঠামোগতভাবে উন্নয়ন করে তারপর বেতন বাড়ানো উচিত ছিল। সেটা হয়নি। ফলে এই বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণ কিছু পাচ্ছে না।’ জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেতন বাড়ানোর এই পদক্ষেপ যৌক্তিক। কারণ, সরকারি চাকরিজীবীরা ১১ বছর ধরে একই পে-স্কেলে কাজ করছেন। এ সময়ে বেতন সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে সরকার আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি। বিশেষ করে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এই বিবেচনায় আমি বলব, সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক-উভয় দিক থেকেই একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।’ ড. মোস্তাফিজুর বলেন, ‘বেতন বেড়েছে। তাই সরকারি সংস্থাগুলোকে সেবার মান ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।’ তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলো কর্মদক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে পারলে উচ্চতর বেতন অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে না। জনসেবা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটি সম্ভব হলে বেতন বৃদ্ধির কারণে চাপ তৈরির যে বিতর্ক চলছে, তার অবসান হবে। নতুন পে-স্কেল মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে কি না-এই প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেল না পাওয়া সত্ত্বেও দেশে মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে দুই অঙ্কের মুখোমুখি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটা এই নয় যে বেতন বাড়া উচিত কি না। প্রশ্নটা হলো-সরকার বৃহত্তর অর্থনীতি কীভাবে পরিচালনা করছে। প্রশ্নটা হলো-আমরা কীভাবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে পারি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে চাঙা করতে পারি এবং এভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি।’ সিপিডির আরেকজন সম্মাননীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো সমন্বয় না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে তাদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। তাই বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। তবে বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেহেতু নেওয়া হয়েছে, এখন মূল বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত কীভাবে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করে আর্থিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। দুর্বল রাজস্ব আহরণ ও বড় বাজেট ঘাটতির মধ্যে অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণ বা টাকা ছাপানোর ওপর নির্ভরতা বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। আবার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নয়ন ব্যয় কমিয়েও অর্থের সংস্থান করা উচিত নয়। তাই করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমাতে হবে। বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে চাহিদা ও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বেতনের ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি কর্মীদের বেতন সমন্বয়ের দাবিও জোরালো হবে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা সমান নয়। তাই উৎপাদনশীলতা, প্রতিষ্ঠানের সামর্থ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি খাতে পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় প্রয়োজন।’

প্রকাশ্যে মার্কিন প্রশাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:২১ পূর্বাহ্ণ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যর্থতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চাপে রয়েছে, গণমাধ্যমে প্রায়ই এমন খবর আসছে। কিন্তু এ ব্যর্থতার দায় কে নেবেন-ট্রাম্প নাকি তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ? এ দুই নামের পাশে আরেকটি নাম অনুচ্চারিত থেকেছে; আর ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত তাকেই নিতে হলো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি বা সেনাবাহিনী বিষয়কমন্ত্রী ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল। স্থানীয় সময় সোমবার তিনি পদত্যাগ করেছেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিভিশনের উপস্থাপনা থেকে রাজনীতিতে আসা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে পদত্যাগ করেছেন ড্রিসকল। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অপসারণের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে তার বারবার মতবিরোধ হয়েছিল। ড্রিসকলের পদত্যাগ খুব বেশি অপ্রত্যাশিত ছিল না। এটি এমন এক অস্থির সময়ে ঘটল যখন ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর থেকে সেনাবাহিনীর জন্য সবচেয়ে ব্যস্ত ও সংকটপূর্ণ সময় চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ক্রমবর্ধমান অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ইউনিটের সদস্যরা প্রধান ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া ইউরোপে মোতায়েন সেনাবাহিনীর কমান্ড ইউক্রেনকে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য ও অন্য সহায়তা দিচ্ছে, যা বিশাল রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউক্রেনকে টিকে থাকতে সাহায্য করছে। এরই মধ্যে হেগসেথ একের পর এক বরখাস্তের ঘটনা ও বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে মার্কিন সেনাবাহিনী কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। অথচ এ সময়েই তাদের প্রাণঘাতী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্রমাগত আঘাত হানছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এবং সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ড্রিসকল সশরীরে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, গত এপ্রিলে কোনো কারণ ছাড়াই জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর থেকে সেনাবাহিনীতে কোনো ‘চিফ অব স্টাফ’ (সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা) নেই। এ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। হেগসেথ অন্তত তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যাদের জেনারেল জর্জের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে বিবেচনা করা হতো। এখন সেনাবাহিনী বেসামরিক নেতৃত্ব থেকেও বঞ্চিত হতে যাচ্ছে- অন্তত যতক্ষণ না ট্রাম্প নতুন কোনো সেনামন্ত্রী নিয়োগ দিচ্ছেন। ড্রিসকলের পদত্যাগের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। এমন একসময়ে এ পদত্যাগ ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ফলে নতুন কাউকে দ্রুত নিয়োগ ও তার অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ড্যান ড্রিসকল। ৪১ বছর বয়সি ড্রিসকল দেশটির ইতিহাসে এ পদে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে কম বয়সি ব্যক্তি। আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ও ড্রোন ব্যবহারে আগ্রহের কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ড্রোন গাই’ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। সিবিএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল কয়েক মাস ধরেই। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। পদমর্যাদার দিক থেকে ড্রিসকলের অবস্থান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের ঠিক পরেই। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা পদ ছাড়ার পর ড্রিসকলও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন। এর আগে গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান হঠাৎ পদত্যাগ করেন। এছাড়া সেনাপ্রধান র‌্যান্ডি জর্জ, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনও পদ ছেড়েছেন। ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার কারণে চাপে থাকা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদত্যাগের দাবিও জোরাল হচ্ছে। বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটররা তার পদত্যাগ দাবি করছেন। এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার সিনেটর জন অশঅফ।

বিমানবন্দরে ৪৭৫ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ আটক ২

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:২০ পূর্বাহ্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম (৪০ দশমিক ৭৮ ভরি) স্বর্ণালংকারসহ দুইজনকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন খায়রুল হাসান আকন (২৯) ও শেখ আরিফুল ইসলাম (৪৬)। এয়ারপোর্ট এপিবিএন জানায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুতল কার পার্কিংয়ের নিচতলার বহির্গেট এলাকায় ওই দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সুকৌশলে পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন। পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে সর্বমোট ৪৭৫ দশমিক ৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সব স্বর্ণালংকার ২১ ক্যারেটের বলে জানিয়েছে এপিবিএন। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৫ লাখ ৬২ হাজার ৪০ টাকা। এপিবিএনের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে এসব স্বর্ণালংকার বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে তারা স্বর্ণগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি পুলিশের। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিমানবন্দর থানায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে স্বর্ণ এনে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের হেফাজতে রাখার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি(১)(বি)/২৫-ডি ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান রোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বরাবরের মতোই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের অপতৎপরতা রোধে এয়ারপোর্ট এপিবিএন বদ্ধপরিকর। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো চোরাচালান রোধে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

হামে শিশু মৃত্যু: ইউনূসসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণে রুল

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ

টিকার সংকট ও সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয় বিবাদীকে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জুয়েল আজাদ। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট আবিদা আসমা প্রমি। রিটে টিকার সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে ৫ লাখ টাকা এবং চূড়ান্তভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এর আগে গত ৬ জুলাই এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়। অন্য বিবাদীরা হলেন—স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। রিটের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৬ মে রাজধানীর শ্যামলীর বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ক্লার্ক মো. শাকিলের সাত মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে তার বাবা শাকিলের পক্ষে রিটটি করেন আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ। রিটে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও মজুত-সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, যথাযথ চিকিৎসা ও সেবা নিশ্চিত করা গেলে শিশুটি হামে আক্রান্ত নাও হতে পারত বলে তার বাবা মনে করেন। টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় কোথায় অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। রিটে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এ সময়ে টিকার মজুত ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি হয়েছিল কি না, তা মূল্যায়নের দাবিও জানানো হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, ওই সময়ের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শিশুটির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ইরানে ফের মার্কিন বাহিনীর হামলা শুরু, জানালেন ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের দুই ট্যাংকার জাহাজে হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে ফের সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বিমান বাহিনী। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা থেকে শুরু হয়েছে এ হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে এ হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, আজ (মঙ্গলবার) পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ১২টা (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) থেকে মার্কিন বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানা শুরু করেছে। সম্প্রতি আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে হামলা করেছে। সেই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সৌদির দু’টি তেলবাহী সুপারট্যাংকার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ট্যাংকার দু’টিতে ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। তার আগের দিন রোববার জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের দু’টি বিমানবাহিনী লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল আইআরজিসি। তবে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় থাকার কারণে আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। তবে জর্ডানে আইআরজিসি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল শনিবার রাতে হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন বিমান বাহিনী কর্তৃক আইআরজিসির কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার স্থাপনা ধ্বংসের পর। শনিবারের সেই হামলার মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় পর ফের সামরিক সংঘাত শুরু হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। তবে সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের বলেছেন ইরানের বিরুদ্ধে এবার ‘সীমিত মাত্রার’ সামরিক পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেছেন, তারা নৌবাহিনী হারিয়েছে, বিমান বাহিনী হারিয়েছে। তাদের নজরদারি উপাদানও প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা তাদের আঘাত করব না। তবে এবার আমদের পদক্ষেপ হবে খুবই সীমিত।

চলন্ত ট্রেনে নারীকে ধর্ষণ গ্রেফতার ১

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ

ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনে চলন্ত অবস্থায় এক নারীকে (৪২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানাধীন নাটোর এলাকার এ ঘটনায় পুলিশ আবু বক্কর সিদ্দিক (২৪) নামে এক ক্যান্টিন বয়কে গ্রেফতার করেছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে। জানা যায়, সোমবার রাতে ওই নারী সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে ভুল করে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের খাবারগাড়িতে ওঠেন। এরপর খাবারগাড়ির কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন মিলে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। চিৎকার করে সাহায্য চাইলে অন্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়। পরে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলায় আবু বক্কর সিদ্দিক ও দুই পুলিশসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার আবু বক্কর সিদ্দিককে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর মামলায় পুলিশ সদস্যও জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। মামলার তদন্ত চলছে।

বিপিএলে ফিক্সিং তিনজন নিষিদ্ধ

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ | ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক বিসিবি পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমান শামীমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্য দুজন হলেন বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানি। অভিযুক্ত তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার শৃঙ্খলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে অভিযোগের জবাব দিতে নোটিশ পাওয়ার দিন থেকে ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলের গত আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইনটিগ্রিটি ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিমূলক আচরণ, দুর্নীতিমূলক আচরণ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো। বিপিএলের দ্বাদশ আসর অনুষ্ঠিত হয় গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত। মোখলেছুরের বিরুদ্ধে চার অভিযোগ : অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫-২৬ মেয়াদে বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হওয়া মোখলেছুরের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার চারটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বিসিবি অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন। বিপিএল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর গত জানুয়ারিতে প্রথমে অডিট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মোখলেছুর। পরে বিসিবি পরিচালকের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর একটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার ধারা ২.১.১। এই ধারায় কোনো ম্যাচ বা ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য কোনো দিককে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, তা করার ষড়যন্ত্র বা এ ধরনের কোনো চুক্তি কিংবা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি রয়েছে। ধারা ২.১.৪ অনুযায়ী, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা, উৎসাহ দেওয়া কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে মোখলেছুরের বিরুদ্ধে। এছাড়া ধারা ২.৪.৪ অনুযায়ী, দুর্নীতিমূলক কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার কাছে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই প্রকাশে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চতুর্থ অভিযোগটি ধারা ২.৪.৭-এর আওতায়। এই ধারায় তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে বা দুর্নীতিমূলক আচরণের প্রমাণ হতে পারে এমন তথ্য, যোগাযোগ বা আলামত গোপন, মুছে ফেলা কিংবা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। জাকিরের বিরুদ্ধে তিন অভিযোগ : বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ধারা ২.১.১ ও ২.১.৪ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা প্রথম দুই অভিযোগেরই অনুরূপ। অন্য অভিযোগটি ধারা ২.৪.৬-এর আওতায়। এ ধারায় যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি বা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ধারা ৪.৩-এর আওতায় জারি করা নোটিশের জবাব না দেওয়াও রয়েছে। সানির বিরুদ্ধে দুই অভিযোগ : বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর এবং বিসিবি অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধারা ২.৪.৪-এর অধীনে দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তা নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে যথাসময়ে জানাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ধারা ২.৪.৬ অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি বা ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। রকিবুল ইসলাম সানি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এই পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিসিবি আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।