বঙ্গবন্ধুর গোপন মিশন যেদিন শুরু


বঙ্গবন্ধুর গোপন মিশন যেদিন শুরু
স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে সহযোগিতা চেয়ে ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ শুরু করেন ১৯৬২ সালে। প্রথমে ফেব্রুয়ারিতে ত্রিপুরা মিশন এবং পরে ডিসেম্বরে ঢাকায় কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। ত্রিপুরা মিশন পুরোপুরি সফল না হওয়ায় সেই বছর ডিসেম্বরে আরেক দফা চেষ্টা চালান বঙ্গবন্ধু। এজন্য তিনি বড়দিনকে বেছে নিয়েছিলেন। এ কাজে চরম ঝুঁকি নিয়ে পাশে থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। ঢাকায় ভারতীয় উপহাইকমিশনের পলিটিক্যাল অফিসার শশাঙ্ক এস ব্যানার্জির সঙ্গে গভীর রাতে দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে তাদের কথা হয়। ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক এস ব্যানার্জি তার ‘ইন্ডিয়া, মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ লিবারেশন অ্যান্ড পাকিস্তান’ গ্রন্থে এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে-‘মুজিবুর রহমান ভারতের সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের যোগাযোগ শুরু করার জন্য বেছে নিলেন ১৯৬২ সালের বড়দিনটি। সহজভাবে বলতে গেলে এটি একজন নিবেদিত মুসলিমের ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।’ তিনি লেখেন, ‘তখন মধ্যরাত (২৪ ডিসেম্বর মাঝরাত) পার হয়েছে মাত্র। আমি এবং আমার সহধর্মিণী এক সহকর্মীর বাসায় বড়দিনের ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরেছি। বাসার দরজা বন্ধ করার পর আমি কড়া নাড়ার আওয়াজ পেলাম।’ গভীর রাতে দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শশাঙ্ক এস ব্যানার্জি লেখেন, ‘আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর এই প্রথম শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার দেখা হলো। আমাকে বলতেই হবে এতটা কাছ থেকে তাকে দেখার পর তিনি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার উপস্থিতি দিয়ে আমাকে মুগ্ধ করেছিলেন। তিনি শক্ত হাতে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে আমার সঙ্গে করমর্দন করলেন এবং সরাসরি আমার চোখের দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন ভীষণ জরুরি একটা কিছু বলতে চান। হাসিমুখে চোখ পিটপিট করে আমি তাকে (বঙ্গবন্ধুকে) বললাম যে, তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত হয়েছি! আমি তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম এটি কি একটি ঐতিহাসিক করমর্দন? তার (বঙ্গবন্ধুর) জবাব ছিল-‘কেন নয়?’ এই ঘটনা প্রসঙ্গে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘১৯৭১ ভারতের বাংলাদেশ যুদ্ধ’ গ্রন্থে বলেছেন, ‘পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা নিয়ে শেখ মুজিবের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তিনি ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালান।’ এরপর মহিউদ্দিন আহমদ ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের তৎকালীন পলিটিক্যাল অফিসার শশাঙ্ক এস ব্যানার্জির সঙ্গে বড়দিনে দৈনিক ইত্তেফাক অফিসে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ আনেন। এই গ্রন্থে ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক এস ব্যানার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গোপন ত্রিপুরা মিশনের একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ‘১৯৭১ ভারতের বাংলাদেশ যুদ্ধ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বানানোর লক্ষ্যে শেখ মুজিবের নিজস্ব উদ্যোগ ছিল। এজন্য তিনি ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের সাহায্য পাওয়ার আশায় গোপনে আগরতলায় যান। তার দুজন সঙ্গীর একজন হলেন তারেক আহমেদ চৌধুরী, ডাকনাম রাজা। তিনি শেখ মুজিবের ছাত্রজীবনে একসঙ্গে কলকাতায় ছিলেন। তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল।...তারেকের অপর সঙ্গী ছিলেন কুমিল্লা জেলার সিধলাই গ্রামের আমির হোসেন।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই গোপন আগরতলা মিশন ছিল খুবই রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে এই গ্রন্থে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ থেকে জানা যায়, ত্রিপুরার খোয়াইয়ের তৎকালীন এসডিও সমরজিৎ চক্রবর্তী তার জিপ গাড়িতে করে বঙ্গবন্ধু ও তার দুই সঙ্গীকে আগরতলায় পৌঁছে দেন। সেখানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার স্বার্থে আগরতলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর দুটি নতুন ঘরে তাদের রাখেন। জেলখানার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিব বিএন রমন। তবে ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’-এর কারণে ওই দফা বঙ্গবন্ধুর এই মিশন পুরোপুরি সফল হয়নি। এ কারণে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তারা (বঙ্গবন্ধুসহ তিনজন) কৃষি শ্রমিকের ছদ্মবেশে সীমান্ত হয়ে দীর্ঘপথ হেঁটে দেশে ফেরেন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গভীর রাতে ঢাকায় ৩২ নম্বরের বাসভবনে ফিরেই গ্রেফতার হন। তবে বঙ্গবন্ধু ত্রিপুরায় গোপন মিশনে গিয়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহর লাল নেহরুর কাছে একটি চিঠি লেখেন, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের জন্য দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হয়। আগরতলা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে বসে টাইপরাইটারে এই চিঠি লিখতে বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা করেছিলেন সেখানকার এসডিও অফিসের স্টেনোগ্রাফার হারাধন চক্রবর্তী।

সর্বশেষ :

ফেনীতে মাটিলুট ও চাঁদাবাজির জেরে যুবদল-ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১   ফেনীতে মাটিলুট ও চাঁদাবাজির জেরে যুবদল-ছাত্রদলের দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ মূল্যবান জিনিস থানায় জমা রেখে ঈদযাত্রার অভিনব পরামর্শ ডিএমপির   মূল্যবান জিনিস থানায় জমা রেখে ঈদযাত্রার অভিনব পরামর্শ ডিএমপির মিসাইল আতঙ্ক, কাছে গিয়েও হরমুজ পেরোতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজ   মিসাইল আতঙ্ক, কাছে গিয়েও হরমুজ পেরোতে পারেনি বাংলাদেশি জাহাজ একমাসের ব্যবধানে মাদকসহ আটকের পর এবার চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের আহ্বায়ক   একমাসের ব্যবধানে মাদকসহ আটকের পর এবার চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের আহ্বায়ক মডেল মেঘনার দাবি: মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার পেছনে দায়ী ‘ডার্বি নাসির’   মডেল মেঘনার দাবি: মির্জা আব্বাসের অসুস্থতার পেছনে দায়ী ‘ডার্বি নাসির’ শেখ হাসিনার খাদ্য ব্যবস্থাপনা: ইউনূসের পর বিএনপি সরকারও চাহিদা মেটাচ্ছে সেই মজুদে   শেখ হাসিনার খাদ্য ব্যবস্থাপনা: ইউনূসের পর বিএনপি সরকারও চাহিদা মেটাচ্ছে সেই মজুদে ভারতের সরবরাহকৃত তেলে মজুদ পর্যাপ্ত, জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত   ভারতের সরবরাহকৃত তেলে মজুদ পর্যাপ্ত, জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ কেনায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি   অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ কেনায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি