বিএনপি সমাবেশ করবেই, প্রতিহতের ঘোষণা আ.লীগের


যশোরে শনিবার একই দিন বিএনপির সমাবেশ ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক ফেডারেশনের শ্রমিক সমাবেশ ঘিরে রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শ্রমিক ফেডারেশন শহরের টাউন হল ময়দানে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিএনপির সমাবেশের অনুমতি মেলেনি। জেলা বিএনপি বলছে, প্রশাসনের অনুমতি না পেলেও তারা সমাবেশ করছেন। বিএনপি তাদের কর্মসূচি সফল করতে অনড়। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দুই দলের কঠোর অবস্থান সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জেলা পুলিশের দাবি, সহিংসতার আশঙ্কা নেই। সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে পুলিশের। গত কয়েক দিন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করার হুমকি ও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়া নিয়ে বিএনপির সার্বিক অবস্থান তুলে ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার, নির্যাতনসহ সরকার পদত্যাগের ১০ দফা দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৭ মে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে যশোর জেলা বিএনপি। এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সমাবেশ সফল করতে জেলা বিএনপি ইতোমধ্যে সকল উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন করেছে। তবে সমাবেশের একদিন বাকি থাকলেও জেলা প্রশাসন এখনো সমাবেশ স্থলের অনুমতি দেয়নি। বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে যখন সকল প্রস্তুতি চলছে, সেই মুহূর্তে যশোর আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করার। তিনি আরও বলেন, আগামী ২৭ মে যশোরে বিএনপির সমাবেশ করার দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে পুলিশ নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারে নেমেছে। এ গণগ্রেফতারের মধ্যেই আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় আমরা সমাবেশ স্থলের অনুমতি চাইলেও জেলা প্রশাসন এখনো অনুমতি দেয়নি। প্রথমে আমরা শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগা ও টাউন হল ময়দানে অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু ঈদগাহে ঈদের প্যান্ডেল থাকাতে অনুমতি দেয়নি। আর টাউন হল ময়দানে আমাদের সমাবেশের অনুমতি চাইলে আমাদের না দিয়ে সরকার দলীয় শ্রমিক সংগঠনটিকে অনুমতি দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ সমাবেশ প্রশাসন অনুমতি দিলেও করব, না দিলেও করব। আগামী ২৭ মে শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে সমাবেশ করা হবে। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের হামলার হুমকি উপেক্ষা করেই এ সমাবেশ সফল করা হবে। আমাদের যে দাবি সেই দাবিতে সাধারণ জনগণের দাবি। সেই দাবি আদায়ে আমরা আমাদের নৈতিক অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াব না। যশোরে সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন হুমকিমূলক বক্তব্য প্রদান করছে। তাদের সেই হুমকিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিচলিত না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ। এদিকে গত মঙ্গলবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি দলীয় কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দিয়েছেন যশোরে বিএনপির সমাবেশ প্রতিহত করা হবে। এমপি শাহীন চাকলাদার বলেছেন, যারা দেশের উন্নয়ন চায় না, সেই সব অগ্নিসন্ত্রাসীদের সমাবেশ করার অধিকার নেই। জেলা আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শহর আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দেওয়া থাকল, বিএনপি যদি সমাবেশ করতে ঘর থেকে একপাও বের হয়, তাদের যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। শুক্রবার শহরের টাউন হল ময়দানে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে জেলা আওয়ামী লীগ। একই স্থানে শনিবার শ্রমিক সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শ্রমিক ফেডারেশন। ইতোমধ্যে প্রশাসনের অনুমতি পেয়েছে সংগঠনটি। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) বেলাল হোসাইন বলেন, শনিবার একই দিনে বিএনপি ও শ্রমিক ফেডারেশনের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দুটি সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে কোনো সহিংসতার আশঙ্কা নেই। তারপরও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে।