বিজয়ের মাস – ডোনেট বাংলাদেশ

বিজয়ের মাস

মোঃ শেফাতুল ইসলাম
আপডেটঃ ১২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:২৮ 313 ভিউ
চূড়ান্ত বিজয় দ্বারপ্রান্তে বীর বাঙালী। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই কার্যত স্বাধীন। বিশ্বের মানচিত্রে ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশটি জন্মের ঠিক আগ মুহূর্তে পাক হানাদারদের পক্ষে নগ্ন হয়ে মাঠে নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। প্রভাবশালী এই দুই দেশ পাকিদের পরাজয় ঠেকাতে মরিয়া। যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে এ দুটি দেশের শেষ চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বক্তব্যের পর অধিবেশন মুলতবি হয়ে যায়। স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৭১। একাত্তরের রক্তঝরা এ দিনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল গুল হাসান টেলিফোন করে জেনারেল নিয়াজীকে আশ্বস্ত করেন, ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় দিক

থেকে বন্ধুরা এসে পড়বেন। গুল হাসানের কাছ থেকে এ আশ্বাস শুনে ঢাকায় পাকিস্তানী সামরিক কর্তৃপক্ষ নিজেদের প্রতিরক্ষার আয়োজন নিরঙ্কুশ করতে ২৪ ঘণ্টার জন্য কার্ফু জারি করে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এ দেশীয় দোসর আলবদর বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সহানুভূতিশীল পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের আটক ও হত্যা শুরু করে। চীন এ সময় পাকিস্তানী ঘাতকদের সমর্থনে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আজকের দিনে পিকিং রেডিও ঘোষণা করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতের মাধ্যমে মূলত চীনকেই দমন করতে চায়। বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকেই ভারতের মাধ্যমে ‘তথাকথিত’ বাংলাদেশ সমর্থনের অন্যতম কারণ। এছাড়াও আজকের এ দিনে চীনা প্রতিনিধি হুয়াং হুদা নিউইয়র্কে আলেকজান্ডার হেগকে জানান, চীন কেবল

আরেকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী। উপমহাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। কিন্তু চীন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতসহ মিত্র দেশগুলো। চারদিকে শুধুই মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়, আর পাক হানাদারদের পরাজয়ের খবর। একাত্তরের এদিনে গাইবান্ধা, নরসিংদী, সরিষাবাড়ী, ভেড়ামারা, শ্রীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। ঢাকাবাসী এ সময় রয়েছেন অভীষ্ট আনন্দ আর অজানা আশঙ্কার এক অদ্ভুত দোলাচলে। অতি কট্টর পাকিস্তান সমর্থকরাও এখন আর দেশটির অখ-তা সম্পর্কে বড় কথা বলার সাহস দেখাচ্ছে না। স্বাধীনতার ওই মাহেন্দ্রক্ষণটি কখন আসবে সেই মুহূর্তটি দেখতে অধীর অপেক্ষায় ঢাকাবাসী। এদিকে ঢাকা বিজয় করতে চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনী ঘেরাও করে ফেলে। ডিসেম্বরের এ দিন বিকেলেই ভারতের চার গার্ডস

ইউনিট ঢাকার ডেমরা ঘাটের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে যায়। সূর্যাস্তের আগেই জামালপুর ও ময়মনসিংহের দিক থেকে জেনারেল নাগরার বাহিনী টাঙ্গাইলে প্যারাস্যুট ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে ঢাকা অভিযানের সর্বাপেক্ষা সম্ভাবনাপূর্ণ পথের ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হয়ে ওঠে। দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলা ও যৌথবাহিনীর ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ভীতসন্ত্রস্ত পাকিস্তানী বাহিনী বিভিন্ন এলাকার ক্যাম্প ছেড়ে পালাতে থাকে। নিজ ভূমির সার্বভৌমত্ব ও পৃথক একটি পতাকার জন্য তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আপামর জনসাধারণ মরিয়া হয়ে ওঠে। কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তহীন বৈষম্য আর নিপীড়নের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হওয়ার দুর্বার আন্দোলনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছে গেছে বীর বাঙালী। এদিন বঙ্গোপসাগর থেকে ২৪ ঘণ্টার দূরত্বে মার্কিন

সপ্তম নৌবাহিনী নিশ্চল দাঁড়িয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ততদিনে পাকিস্তানী বাহিনী পালিয়েছে। অধিকাংশ অঞ্চলই তখন কার্যত স্বাধীন হয়ে পড়ে। আর ঢাকার বিজয় নিশ্চিত করা তখন শুধু সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কেন্দুয়ায় অসহায় রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকজনকে শাড়ি-লুঙ্গি উপহার দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা তাপস ব্যানার্জী কেন্দুয়া গোপালপুর উচ বিদ্যালয় এর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন আজ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দূর্গাপূজা জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা বেঁধে দিলো ইসি ‘দেশকে ভালো অবস্থানে রাখতে বর্তমান সরকারের বিকল্প নেই’ রাশিয়া-কাজাখস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয় বিদ্যুৎ বিপর্যয় নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল ভিসা জটিলতায় সাকিব কাঁটাতারের বেড়া ভালোবাসা ভাগ করতে পারেনি ‘পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে’ নিজের বাইকে আগুন দিলেন যুবক লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ভূমিকায় অ্যাম্বুলেন্স চালক রানীশংকৈলে সনাতন ধর্মালম্বীদের বিজয়া দশমির মধ‍্যে দিয়ে শারদীয় দূর্গা পূজা সম্পর্ন বাগমারায় দুর্গোৎসব উপলক্ষে গণসংবর্ধনা সিরাজগঞ্জের চৌহালীর গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো সবুজে ঘেরা আর শান্তির নীড় নিহত সেনা সদস্য শরীফুলের সিরাজগঞ্জের বাড়িত চলছ শোকের মাতম রসায়নে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী বিল গেটসের সঙ্গে বিচ্ছেদের এক বছর পর মুখ খুললেন মেলিন্ডা রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐক্যমত্যে ইইউ খুলনায় তুলাপট্টির আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ল ৭ দোকান