ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মাইক্রোসফটে বিক্ষোভ, চাকরি হারালেন ৪ কর্মী
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ইসরাইলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মাইক্রোসফট প্রধান কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় কোম্পানি চারজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
বৃহস্পতিবার মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রথমে দুইজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হলেও পরে আরও দু’জনকে কোম্পানির নীতি ও আচরণবিধি গুরুতরভাবে লঙ্ঘনের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার, যখন ‘নো আজুর ফর অ্যাপারথেইড’ নামের সংগঠনের সাতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মী ওয়াশিংটনের রেডমন্ডে মাইক্রোসফট প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্র্যাড স্মিথের অফিসে প্রবেশ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, মাইক্রোসফট সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইসরাইলকে সমর্থন দিচ্ছে এবং গাজায় যুদ্ধ চালাতে সহায়তা করছে।
বিক্ষোভকারীরা অফিসের ভেতরে স্লোগান দেন এবং ব্যানার প্রদর্শন করেন। এক ব্যানারে অফিসটির নামকরণ করা হয় ‘মাই উবাইদ বিল্ডিং’, যিনি গাজায় ২০২৩ সালে ইসরাইলি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনি সফটওয়্যার প্রকৌশলী। আরেকটি ব্যানারে মাইক্রোসফটকে ‘ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন’ করার দাবি জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, স্মিথের অফিসে ঢুকে পড়া সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই কর্মীর নাম—রিকি ফামেলি ও আন্না হ্যাটল—ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে সংগঠনটি।
মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবোধ ও নীতির পরিপন্থী।
ব্লুমবার্গের খবরে বলা হয়েছে, গত এক বছর ধরে মাইক্রোসফটের ভেতরে একটি ‘ছোট কিন্তু স্থায়ী বিদ্রোহ’ চলছে, যেখানে কর্মীদের একটি অংশ কোম্পানিকে ইসরাইলের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
এপি’র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাইক্রোসফট ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বে গোয়েন্দা তথ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে, যা লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে মাইক্রোসফট দাবি করেছে, তাদের অভ্যন্তরীণ তদন্তে গাজায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ বা হামলায় সরাসরি তাদের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রমাণ মেলেনি।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া উপত্যকাটি বর্তমানে দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে এবং অধিকাংশ এলাকা বাসযোগ্য নেই।
