এবার ইরানকে মহান করতে চান ট্রাম্প


এবার ইরানকে মহান করতে চান ট্রাম্প
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি ‘ইরানকে আবার মহান করো’ লেখা একটি স্বাক্ষরিত টুপি ধরে আছেন। এতে ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কট্টরপন্থি পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাসী গ্রাহাম গত সোমবার এক্সে ছবিটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, ট্রাম্প দেশের ভেতরে ও বাইরে আমেরিকাকে আরও শক্তিশালী করেছেন। রিপাবলিকান এই সিনেটর আরও লেখেন, ‘ঈশ্বর আমাদের প্রধান সেনাপতি এবং তাঁর অধীনে কর্মরত সব সাহসী নারী-পুরুষের মঙ্গল করুন। আমি একজন আমেরিকান হিসেবে গর্বিত। ঈশ্বর ইরানের সেই সাহসী মানুষদের সহায় হোন এবং রক্ষা করুন, যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’ ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়। সেই অস্থিরতার পারদে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা। এবার, একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইরানকে ঘিরে। ট্রাম্পের ছবিটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের বিখ্যাত স্লোগান ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (আমেরিকাকে আবার মহান করুন) স্লোগানকে পরিবর্তন করে এই টুপি বানানো হয়েছে। টুপিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগের ইরানের পতাকার ছবি রয়েছে, যা সরাসরি ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত রোববার রাতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত উড়োজাহাজ ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ ছবিটি তোলা হয়। রিপাবলিকানপন্থি হিসেবে পরিচিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই টুপি মাথায় পরে গ্রাহাম বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, ২০২৬ সাল যেন সেই বছর হয়, যখন আমরা ইরানকে আবারও মহান করতে পারব।’ গত রোববার ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা যদি আগের মতো মানুষকে হত্যা করা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা ‘খুব কঠিন আঘাত’ পাবে। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। জবাবে ইরান দোহার একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও গত সপ্তাহে ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠন করার চেষ্টা করে, তবে তিনি তাদের ‘ধুলায় মিশিয়ে দেবেন’। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিতর্কিত অভিযানের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান।