পরাজয়ের পর ফেসবুক পোস্টে যা বললেন তাসনিম জারা


পরাজয়ের পর ফেসবুক পোস্টে যা বললেন তাসনিম জারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থী ও দলকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নিজের সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন। স্ট্যাটাসে তাসনিম জারা লিখেছেন, ঢাকা-৯ এর মানুষ, আমাদের অসাধারণ স্বেচ্ছাসেবক এবং ভিন্ন ধরনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী সবাইকে বলছি— আমরা প্রথম হয়ে শেষ করতে পারিনি, কিন্তু আমরা এমন কিছু অর্জন করেছি যা অনেকেই অসম্ভব বলেছিলেন। মাত্র কয়েক সপ্তাহে ৪৪,০০০-এর বেশি মানুষ এমন একটি প্রচারণার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, যেখানে ছিল না লাউডস্পিকার, না পেশিশক্তি, না বিদ্বেষ। আপনারা সম্মান ও সততার মডেল বেছে নিয়েছেন। তিনি জাতীয়ভাবে বিজয়ী দল বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমি বিএনপিকে তাদের জাতীয় বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। ঢাকা-৯ আসনের বিজয়ী প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকেও আমার শুভেচ্ছা। গতরাতে আমি তাকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছি। ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে আমি তাদের মেয়াদকালে সাফল্য কামনা করি। জনকল্যাণে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হবে, আমরা তা গঠনমূলকভাবে সমর্থন করব এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী হলে নীতিনিষ্ঠ ও সতর্ক বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে কথা বলব। নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, এই প্রচারণায় নারীদের অংশগ্রহণ ছিল নজিরবিহীন। নীতিনির্ধারণী বহু আলোচনায় অংশ নেওয়া একজন নারী হিসেবে আমি দেখেছি, আমাদের উপস্থিতি আলোচনার ধরণ বদলে দেয়। এটি ছিল দেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসনের লড়াই। যে সব তরুণী আমাদের প্রচারণা গভীরভাবে দেখেছে, তাদের বলছি— ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতেও তোমাদের জায়গা আছে। আমরা সাহসের যে বীজ বপন করেছি, তা এক নতুন প্রজন্মের নারী নেতৃত্বকে অনুপ্রাণিত করবে। স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশে তাসনিম জারা বলেন, তোমরাই এই আন্দোলনের হৃদস্পন্দন। তোমাদের মতো নাগরিকত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ আমি খুব কম দেখেছি। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সক্রিয়তার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছ তোমরা। মন খারাপ করো না। মানুষের হৃদয় জয় করেছ— সেটাই সবচেয়ে কঠিন বিজয়। আমরা সংগঠিত থাকব, সোচ্চার থাকব, একসঙ্গে থাকব। নির্বাচন শেষে যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ায় আমি যুক্তরাজ্যে চলে যেতে পারি— এমন ধারণা রয়েছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই: আমার শেকড় এখানে, আমার কাজও এখানে। আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমরা এক রাতের নির্বাচনের জন্য এই আন্দোলন শুরু করিনি; আমরা শুরু করেছি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে। এটি আজীবনের কাজ, এবং আপনাদের সঙ্গে থেকে সেই কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি সম্মানিত। নির্বাচনি অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, আমরা প্রমাণ করেছি যে পরিচ্ছন্ন প্রচারণা দিয়েও মানুষের হৃদয় জয় করা যায়। তবে কোথায় আমাদের আরও শক্ত হতে হবে, সেটিও দেখেছি। একটি ‘পরিচ্ছন্ন’ প্রচারণা একই সঙ্গে ‘শক্তিশালী’ প্রচারণাও হতে হবে। ভোটের দিন পোলিং এজেন্টদের সাহস ও কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিতিই আপনার ভোটের একমাত্র ঢাল। শান্তিপূর্ণ মডেলকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের আরও শক্ত সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যা ভীতি প্রদর্শন মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর কথাও উল্লেখ করে লেখেন, এসব কিছুই সম্ভব হতো না জুলাই অভ্যুত্থান ছাড়া। যারা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্রের পথ তৈরি করেছেন, তাদের অকল্পনীয় ত্যাগের কাছে আমরা ঋণী। অধ্যাপক ইউনূস ও তার দল এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। এমন জটিল পরিস্থিতিতে একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ, তবে গণতান্ত্রিক জাতি হিসেবে টিকে থাকার জন্য তা ছিল অত্যাবশ্যক। শেষে তাসনিম জারা বলেন, ৪৪,০০০-এর বেশি ভোট একটি শক্ত ভিত্তি। যদি কারও মন ভেঙে থাকে, ভেঙে পড়বেন না। আমরা দেখিয়েছি সততার জন্য মানুষের আকাঙ্ক্ষা আছে। আমরা পুরোনো ছক ভেঙেছি। আমরা এমন একটি ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশ গড়ার কাজ চালিয়ে যাব, যা সবার। সেরাটা এখনও আসেনি।