বিএনপি-জামায়াতের কোটিপতি, বাসদের প্রার্থী করেন টিউশনি


বিএনপি-জামায়াতের কোটিপতি, বাসদের প্রার্থী করেন টিউশনি
গাজীপুর-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ চারজনই কোটিপতি। তিনজন পেশায় ব্যবসায়ী, একজন সাবেক সচিব। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী পেশায় শিক্ষক। বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থীর পেশা টিউশনি। এ থেকে তাঁর মাসে আয় প্রায় তিন লাখ টাকা। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া তাদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মজিবুর রহমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএসএস পাস করা এ প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী। দুই দশক কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রশাসক ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী আজমেরী রহমান দুজনই কোটিপতি। দুজনে প্রায় ৪১ কোটি টাকার মালিক। মজিবুর রহমানের হলফনামায় দেখা যায়, তিনি ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকার মালিক। তাঁর স্ত্রী আজমেরী রহমানের ১২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। তাদের রয়েছে বাড়ি, গাড়ি, একাধিক বহুতল ভবন। ব্যাংকে রয়েছে স্থায়ী আমানত। মুজিবুর রহমান তাঁর হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, কৃষি খাত থেকে বছরে আয় দুই লাখ টাকা। বছরে বাড়ি ভাড়া পান ২০ লাখ ৭২ হাজার ২৬৮ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় চার লাখ টাকা। এফডিআর থেকে সুদ রয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। চাকরি থেকে আয় ৫৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। তাঁর নির্ভরশীলদের আয়ের মধ্যে ভাড়া বাবদ আয় তিন লাখ ৬০ হাজার ৫৪৩ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং এফডিআর সুদ তিন লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থের পরিমাণ তিন কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ টাকা। স্ত্রীর রয়েছে এক কোটি ৯৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা ৫৫ লাখ টাকা। ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ৫২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। নিজের ১০ ভরি ও স্ত্রীর ১১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে মজিবুর রহমানের রয়েছে ১৩৮০ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ জমি। বিএনপি প্রার্থীর নিজের নামে রয়েছে ৮০০ বর্গফুটের চারতলা একটি ভবন, ১৭৯ দশমিক ৬৪ বর্গমিটারের একটি এবং ১৮১ দশমিক ২২ বর্গমিটারের একটিসহ দুটি ৯ তলা ভবন। তাঁর স্ত্রীর ১৫০০ বর্গফুটের পাঁচতলা একটি, ২০০০ বর্গফুটের পাঁচতলা দুটি, ৮৯ দশমিক ৭৭ বর্গমিটারের ৯ তলা একটি ভবন এবং রয়েছে ৯০১ বর্গমিটারের তিনতলা একটি বাড়ি। এ প্রার্থীর তিন কোটি ৭৯ লাখ ১২ হাজার ৩১৫ টাকার ব্যাংক ঋণ রয়েছে। স্ত্রীর নামে ব্যাংক ঋণ রয়েছে ৪২ লাখ ১২ হাজার ৩২১ টাকা ও এক কোটি ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৬৩ টাকা। বিএনপির প্রার্থী মজিবুর রহমানের আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৫১ হাজার ৭৩ টাকা। তাঁর স্ত্রীর আয় দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ১২৬ টাকা। নিজের সম্পদ দেখানো হয়েছে ২৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭২ টাকা। স্ত্রীর সম্পদ দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৫৬ লাখ ৬২ হাজার ২৬০ টাকা। প্রার্থী নিজে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ১২ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৯ টাকা। স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন দুই লাখ ২৯ হাজার ৪৫৯ টাকা। জামায়াতের প্রার্থীর চার কোটি টাকা এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ আলম বকশী নগদ এক কোটি ৩১ লাখ ৭৩ হাজার টাকার মালিক। সাবেক এ সচিবের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে চার কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার। তাঁর গৃহিণী স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা শিখার নগদ রয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে তিন লাখ ছয় হাজার ৭০৫ টাকার। হলফনামায় শাহ আলম বকশী তাঁর স্ত্রী ১৭ তোলা স্বর্ণ ও ৩৭ লাখ ৩১ হাজার ৭০৫ টাকার মালিক বলে উল্লেখ করেছেন। মাস্টার্স পাস শাহ আলম বকশীর কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকা, চাকরি থেকে আসে ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। ৩০ লাখ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের একটি গাড়ি রয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৯ টাকা। আর সম্পত্তি দেখিয়েছেন দুই কোটি ৪৬ লাখ ১৭ হাজার টাকার। ইরাদ সিদ্দিকীর আয় কফি হাউস থেকে এ আসনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি থেকে প্রার্থী হয়েছেন চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকীর ছেলে। ইরাদ সিদ্দিকী ব্যবসায়ী। বিএ ডিগ্রিধারী এ প্রার্থীর কফি হাউস থেকে বার্ষিক আয় ছয় লাখ টাকা। হলফনামায় নগদ অর্থের ঘরে কিছু লেখেননি তিনি। স্ত্রী শারমীন সিদ্দিকীর সঙ্গে যৌথভাবে সিটি ব্যাংকে তাঁর তিন কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার টাকার এফডিআর করা আছে। আয়কর রিটার্নে তিনি আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১২ লাখ ২২ হাজার ৯১২ টাকা এবং স্ত্রীর আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন তিন লাখ ৪৩ হাজার ৩৩৬ টাকা। সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন তিন কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫১০ টাকা। অন্যদিকে, স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৩ টাকার। দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন ইরাদ সিদ্দিকী। সবগুলোই বিচারাধীন। বাসদের তসলিমার পেশা টিউশনি বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী তসলিমা আক্তার। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তসলিমা পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন টিউশনি। ছাত্র পড়িয়ে তাঁর বার্ষিক আয় দুই লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৬ টাকা। নগদ রয়েছে তিন লাখ ৯০ হাজার ৯৭৮ টাকা। আয়কর রিটার্নে তাঁর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে সাত লাখ তিন হাজার ৬৯৬ টাকা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন রুহুল আমীন। মাস্টার্স পাস এই প্রার্থী হলফনামায় পেশা উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। এ খাত থেকে তাঁর আয় ১১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ টাকা। তাঁর কাছে নগদ আছে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৪৫০ টাকা। আয়কর রিটার্নে তিনি সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৫ টাকা। এ আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমারত হোসেইন খান। এমএসসি পাস এই প্রার্থীর পেশা শিক্ষকতা। তিন লাখ ৫৩ হাজার ৪২৩ টাকা নগদ রয়েছে বলে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন। আয়কর রিটার্নে আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছেন পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬৩ টাকা। আর সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৮ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার ১৪৯ টাকা।