মৌসুমি চালের বাজারে এবার মিলারের থাবা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
আউশ-আমন মৌসুমের শুরুতেই চালের বাজারে মিলার সিন্ডিকেটের থাবা পড়েছে। বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করলেও সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বাড়াচ্ছে দাম। সরু চালের মধ্যে মিনিকেট ও নাজিরশাল বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে মিল পর্যায়ে। ফলে বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর পাইকারি বাজারে। খুচরা বাজারে মূল্য বাড়ায় ক্রেতা সাধারণের প্রতি কেজি সরু চাল ৩ থেকে ৬ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। শুক্রবার মিল পর্যায় থেকে শুরু করে রাজধানীর পাইকারি আড়ত ও খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নওগাঁসহ দেশের একাধিক স্থানে মিল পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হয় ৩৮০০ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৩৬০০ টাকা ছিল। মাঝারি মানের মিনিকেটর বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ টাকা। যা ৭ দিন আগে ৩২০০ টাকা ছিল। এতে দেখা যায়, মিল পর্যায়ে ৫০ কেজির বস্তায় মিনিকেট চাল সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিল পর্যায়ে ২৫ কেজি ওজনের বস্তাপ্রতি নাজিরশাল বিক্রি হচ্ছে ২০০০ টাকা। যা ৭ দিন আগেও ১৮৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রাজধানীর কাওরান বাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির মালিক ও পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আউশ-আমনের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে। অল্প করে নতুন চাল বাজারেও আসতে শুরু করেছে। কিন্তু দেশের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে মিলাররা। তারা সুযোগ বুঝে মৌসুমের শুরুতে সরু চালের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। তারা বলছেন, মোকামে চালের সংকট আছে, যে কারণে দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়তি দাম দিলেই চাহিদামতো চাল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, মিলে মূল্য বাড়ায় বাড়তি দাম দিয়ে চাল আনতে হচ্ছে। এতে ৫০ কেজির বস্তা ভালো মানের মিনিকেট পাইকারি আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৩৯০০ টাকা। যা আগে ৩৭০০ টাকায় বিক্রি করতাম। পাশাপাশি মাঝারি মানের মিনিকেটের বস্তা ৩৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। যা আগে ৩৩০০ টাকা ছিল। আর ২৫ কেজির প্রতি বস্তা নাজিরশাল বিক্রি করতে হচ্ছে ২১০০ টাকা। যা আগে ১৯০০ টাকা ছিল।
এদিকে রাজধানীর পাইকারি আড়তে চালের দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে এসে পড়েছে। রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার প্রতি কেজি ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। রশিদ মিনিকেট প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৬ টাকা। যা আগে ৭০-৭২ টাকা ছিল। ভালো মানের নাজিরশাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকা। যা আগে ৮০-৮৫ টাকা ছিল।
মালিবাগ কাঁচাবাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দীদার হোসেন বলেন, মিলাররা সব সময় সুযোগ খোঁজে। এবার নতুন মৌসুমের শুরুতে দাম বাড়িয়ে চালের বাজার অস্থির করা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে। ৬ থেকে ৭ দিনের মধ্যে সরবরাহ আরও বাড়বে। এর মধ্যেই দাম বাড়িয়ে বাড়তি মুনাফা করার পরিকল্পনা করেছে। মিল পর্যায়ে তদারকি জোরদার করলে মূল্য কমে আসবে।
নওগাঁর মিল মালিক সালেহ উদ্দিন বলেন, এই সময় মিলে ধানের জোগান কম থাকে। তাই মৌসুমের শুরুতে মিলে চালের কিছুটা সংকট দেখা দেয়। এতে সরবরাহ চেইনে কিছুটা সমস্যা হয়। এতে বাড়ে দাম। তবে কয়েক দিনের মধ্যে ধানের সরবরাহ বাড়লে চালের দাম কমে আসবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, এখন চালের দাম বাড়ার কথা না। মিল পর্যায়ে তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মিলাররা ক্রেতার পকেট কাটতেই চালের বাজারে থাবা বসিয়েছে। তাই মিল পর্যায়ে তদারকি সংস্থাগুলোর অভিযান পরিচালনা করা দরকার।
বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চালের দাম কেন বেড়েছে তা তদারকির মাধ্যমে বের করা হবে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বসে নেই। জনবল সংকটের অভাবে একসঙ্গে সব পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। চালের মূল্যে সহনীয় করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
